আজ সোমবার বিচারপতি মো. রেজাউল হাসান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সাত বছর আগে করা এক রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেন।
রিট আবেদনকারীর পক্ষের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরশেদ জানান, জীবন রক্ষাকারী সব ওষুধের দাম সরকার নির্ধারণ ও গেজেটে প্রকাশ করতে হাইকোর্ট নির্দেশ দিয়েছেন। এতে জনগণের মৌলিক অধিকার তথা বেঁচে থাকার অধিকার সুরক্ষিত হবে এবং ইচ্ছামতো ওষুধের দাম বাড়ানোর সুযোগ বন্ধ হবে।
রিট আবেদনের তথ্য অনুযায়ী, ১৯৯৩ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সরকার প্রথমবারের মতো ৭৩৯টি ওষুধের দাম গেজেটে প্রকাশ করে। পরে ১৯৯৪ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি সার্কুলার জারি করে, যাতে কেবল ১১৭টি ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা রাখা হয়। এই সার্কুলারের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮ সালে মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ (এইচআরপিবি) হাইকোর্টে রিট দায়ের করে। প্রাথমিক শুনানির পর রুল জারি হয়, আজ চূড়ান্ত শুনানি শেষে রুল নিষ্পত্তি করা হলো।
আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ ও আইনজীবী সঞ্জয় মণ্ডল। ওষুধ প্রস্তুতকারক মালিক সমিতির পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির।
রায়ের প্রতিক্রিয়ায় ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল সৈয়দ ইজাজ কবির বলেন, “অতীতেও সরকার জীবন রক্ষাকারী ওষুধের মূল্য নির্ধারণ করত। ২০২৩ সালে প্রণীত ‘ওষুধ ও কসমেটিকস আইন’-এর ৩০ ধারায়ও বলা আছে— সরকার ওষুধ ও কাঁচামালের দাম নির্ধারণ করে গেজেটে প্রকাশ করবে। এর অংশ হিসেবে একটি টাস্কফোর্সও গঠন করা হয়েছে।”