মূল সংবাদে যান
শিক্ষা ও চিকিৎসা

বহিরাগতদের কবলে চবির শাটল ট্রেন

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) শিক্ষার্থীদের প্রধান যাতায়াত মাধ্যম হচ্ছে শাটল ট্রেন, যা কেবল শিক্ষার্থীদের চলাচলের জন্যই নির্ধারিত।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
বহিরাগতদের কবলে চবির শাটল ট্রেন

প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক শিক্ষার্থী ক্যাম্পাস থেকে শহরে যাতায়াত করেন এই ট্রেন ব্যবহার করে। তবে এখন ট্রেনটি বহিরাগতদের দখলে চলে যাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। প্রতিদিন সকাল ৭টা ১৫ মিনিটে শহর থেকে ক্যাম্পাসের উদ্দেশ্যে শাটল ট্রেন ছাড়ে এবং পৌনে ১০ টায় ক্যাম্পাস থেকে শহরে ফিরে যায়। দিনের বাকি সময়জুড়ে শিক্ষার্থীদের যাতায়াতের জন্য একাধিকবার চলাচল করে ট্রেনটি। তবে বগির তুলনায় যাত্রীসংখ্যা বেশি হওয়ায় অনেক শিক্ষার্থীকে দাঁড়িয়ে অথবা ঝুলে যেতে হয়। এমন অবস্থার মধ্যেও ফতেয়াবাদ ও চৌধুরীহাট এলাকার বহিরাগতরা শাটলে উঠে সিট দখল করে বসে থাকেন। এতে শিক্ষার্থীরা সিট তো পায়ই না, অনেক সময় দাঁড়ানোর জায়গাও মেলে না। এ বিষয়ে যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সোহাগ রানা বলেন, 'প্রতিদিন ক্লাস শেষে টিউশনের জন্য শহরে যেতে শাটল ট্রেনে উঠাটা যেন যুদ্ধের মতো। আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হয়েও সিটে বসার সুযোগ পাই না। কারণ, ট্রেন ছাড়ার আগেই বহিরাগতরা উঠে গিয়ে সিট দখল করে নেয়। অনেক সময় দাঁড়িয়েও যাওয়া যায় না ভিড়ের চাপে। ফলে ক্লান্ত হয়ে টিউশনে যেতে হয়, আবার রাত করে ক্লান্ত শরীরে ক্যাম্পাসে ফিরতে হয়। ট্রেনটি মূলত আমাদের জন্য হলেও বহিরাগতদের দৌরাত্ম্যে আমরা আমাদের ন্যায্য সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি।' শুধু সিট দখলই নয়, বহিরাগতদের কারণে ট্রেনে প্রায়ই চুরি, ছিনতাই ও ইভটিজিংয়ের মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাও ঘটে। এ প্রসঙ্গে একই বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মেহজাবিন বিনতে ইদ্রিস বলেন, 'সকালে ভালোভাবে ক্লাস ধরতে চাইলে শাটল ট্রেনে উঠতেই ঝুঁকিতে পড়তে হয়। বহিরাগতদের ভিড়ে আমরাই যেন চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরের কেউ। প্রতিদিন এমন ভোগান্তির মধ্য দিয়ে যাতায়াত করতে হয় যে ক্লাসে পৌঁছানোর আগেই ক্লান্ত হয়ে যাই। প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে, অনেকেই ইভটিজিংয়ের শিকার হন। কেউ কিছু বলেও না।' ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শাহ আলম বলেন,' বিশ্ববিদ্যালয় থেকে টিউশনের জন্য শহরে যাতায়াত করতে গিয়ে প্রতিদিনই চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। শাটল ট্রেন মূলত শিক্ষার্থীদের সুবিধার্থে চালু করা হয়েছিল, কিন্তু বর্তমানে সেটিতে বহিরাগতদের চলাচলই বেড়েই চলেছে। ট্রেন প্ল্যাটফর্মে আসতেই তারা দলে দলে উঠে পড়ে, ফলে আমরা অনেক সময় দাঁড়ানোরও জায়গা পাই না, সিট তো দূরের কথা। ' বহিরাগতদের বিষয়ে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তানভীর মোহাম্মদ হায়দার আরিফ বলেন, ' আমরা বহিরাগতদের শাটল থেকে দূর করতে মাইকিং করেছি। আমাদের পক্ষ থেকে যথাযথ চেষ্টা চলছে। তবে শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই একটি পক্ষ আছে, যারা মনে করে বিশ্ববিদ্যালয়ের আশপাশের এলাকার মানুষের শাটলে চলার অধিকার আছে। সেই শিক্ষার্থীরাই বহিরাগতদের সঙ্গে আড্ডা দেয়, চলাফেরা করে। এজন্য আগে শিক্ষার্থীদেরই সচেতন হতে হবে। '

সম্পর্কিত বিষয়

  • চবি
  • শাটল ট্রেন
  • বহিরাগত

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন