ইয়ং ওয়ান গ্রুপের চেয়ারম্যান কিহাক স্যাংয়ের পরিকল্পনায় এবং কেইপিজেড কর্তৃপক্ষের নিজস্ব অর্থায়নে বাস্তবায়িত হচ্ছে এ বিশ্ববিদ্যালয়। ২৫ একর জায়গার উপর গড়ে ওঠা আন্তর্জাতিক মানের সুযোগ-সুবিধা সম্বলিত এই বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০ শিক্ষার্থী একসঙ্গে পড়ালেখা করতে পারবে। সেইসাথে এখান থেকে কারিগরি প্রশিক্ষণ নিতে পারবে কেইপিজেড ও ইয়ং ওয়ান গ্রুপের প্রায় ৮০ হাজার শ্রমিক-কর্মচারী।
জানা যায়, ২০২৬ সালের শুরুতে চালু করার পরিকল্পনায় চট্টগ্রামের আনোয়ারায় টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের নির্মাণ কাজ এখন শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ে রয়েছে ৭টি ক্যাম্পাস, সুইমিং পুল ও গ্যালারিযুক্ত খেলার মাঠসহ আবাসিক সুবিধা। বিশ্ববিদ্যালয়ে পোশাক শিল্প বিষয়ক চার বছর মেয়াদি স্নাতক (ডিপ্লোমা এমএসসি) কোর্সের পাশাপাশি দেওয়া হবে পোশাক ডিজাইন, প্যাটার্ন তৈরি, টেক্সটাইল প্রযুক্তি, সেলাই, মেশিন মেইনটেন্যান্স, ইলেকট্রিক্যাল মেরামত, অটোক্যাড, ওয়েল্ডিং, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিংসহ বাস্তবভিত্তিক নানা প্রশিক্ষণ। তারই ধারাবাহিকতায় পোশাক শিল্পে শ্রমিকদের দক্ষতা অর্জনের জন্য এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিকল্পনা নেওয়া হয়।
দেশের ক্রমবর্ধমান বেকার সমস্যা লাঘবে সর্বসাধারণ এ বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষণ নিতে পারবে। প্রশিক্ষণার্থী ও শিক্ষার্থীরা পোশাক ডিজাইন ও প্যাটার্ন তৈরি, পোশাক ডিজাইন করা, বিভিন্ন মাপের পোশাকের জন্য প্যাটার্ন তৈরি করা এবং তা কাপড়ে স্থানান্তর করার প্রশিক্ষণ, কাপড়ের গঠন, প্রকারভেদ এবং সেগুলোর যত্ন নেওয়ার পদ্ধতি সম্পর্কে বাস্তব জ্ঞান, বিভিন্ন ধরনের সেলাই মেশিন পরিচালনা করা, পোশাকের বিভিন্ন অংশ জোড়া দেওয়া এবং ফিনিশিংয়ের কাজ ভালোভাবে জানা, পোশাক তৈরির জন্য ব্যবহৃত মেশিনের ত্রুটি নির্ণয় এবং মেরামত করার প্রশিক্ষণ, ইলেকট্রিক্যাল মেইনটেন্যান্স, অটোক্যাড, কম্পিউটার এইডেড ডিজাইন সফটওয়্যার ব্যবহার করে নকশা তৈরি করার প্রশিক্ষণ, ওয়েল্ডিং (আর্ক ও গ্যাস), বিভিন্ন ধাতু জোড়া লাগানোর জন্য ওয়েল্ডিং করার প্রশিক্ষণ, রেফ্রিজারেশন ও এয়ার কন্ডিশনিং, রেফ্রিজারেশন এবং এয়ার কন্ডিশনিং সিস্টেম ইনস্টল ও মেরামত করার প্রশিক্ষণসহ প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের অনুমোদন সাপেক্ষে ২০২৬ সালের শুরুতেই শিক্ষা কার্যক্রম চালুর পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে কেইপিজেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক মুশফিকুর রহমান বলেন, এ প্রকল্প বাস্তবায়নে বাংলাদেশ শুধু দেশীয় শিল্প খাতে দক্ষ জনশক্তি গড়ে তোলার সুযোগ পাবে না, বরং বৈদেশিক বাজারে শ্রমশক্তি রপ্তানিতেও নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। পোশাক শিল্পে দক্ষ জনশক্তি ও শ্রমিকদের প্রফেশনাল স্কিল, পোশাক তৈরির পেশাগত দক্ষতা অর্জনের লক্ষ্যে এ বিশ্ববিদ্যালয় অনন্য ভূমিকা রাখবে। সেই সঙ্গে দেশের বেকার জনগোষ্ঠীর জন্য তৈরি হবে নতুন কর্মসংস্থানের পথ।
কেইপিজেড কর্তৃপক্ষ জানায়, কেইপিজেড টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণ কাজ শেষ পর্যায়ে রয়েছে। বাংলাদেশের পোশাকশিল্পে কারিগরি দক্ষতা অর্জনে এই বিশ্ববিদ্যালয় অবদান রাখবে। এ বিশ্ববিদ্যালয় চালু হলে দক্ষ জনশক্তি বাংলাদেশকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে যাবে। সেই সাথে দক্ষ জনশক্তি রপ্তানিতে এই বিশ্ববিদ্যালয় বিরাট ভূমিকা রাখবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীরা চার বছর মেয়াদী টেক্সটাইল বিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণার সুবিধা ভোগ করবেন।
