তাঁদের মধ্যে পাঁচ নারী আইনজীবীর জামিন মঞ্জুর করেছেন আদালত। অন্য ১০ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
শনিবার রাতে নগরের ডবলমুরিং থানার মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির একটি বাসা থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয় জানিয়ে পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের কর্মী-সমর্থক এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী পালনের জন্য সেখানে জড়ো হয়েছিলেন।
গতকাল রবিবার বিকেলে গ্রেপ্তার ১৫ জনকে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আলমগীর হোসেনের আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাঁদের জামিনের আবেদন করেন। শুনানি শেষে আদালত কামেলা খানম, সুজলা অন্তরা, শারমিনা ইয়াসমিন, আয়েশা হেভেন ও আরও এক নারী আসামির জামিন মঞ্জুর করেন। অন্য ১০ জনের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয় বলে সরকারি কৌঁসুলি রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী নিশ্চিত করেছেন।
ডবলমুরিং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন আলম বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের নেত্রী উম্মে হাবিবার বাসায় ১৫ আগস্ট পালনের জন্য আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা জড়ো হয়েছেন। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে ১৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। মামলার পর তাঁদের আদালতে পাঠানো হয়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে রয়েছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ কৃষক লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির স্থানীয় সরকারবিষয়ক সম্পাদক উম্মে হাবিবা, হালিশহর থানা আওয়ামী লীগের দপ্তরবিষয়ক সম্পাদক ইস্কান্দর মির্জা, বঙ্গবন্ধু পরিষদের ধর্মবিষয়ক সম্পাদক শুভ আইচ, দক্ষিণ জেলা যুব মহিলা লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক কামেলা খানম, নগর মহিলা আওয়ামী লীগের সদস্য সুজলা অন্তরা, নগর আওয়ামী লীগের বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক মহিলাবিষয়ক সম্পাদক শারমিনা ইয়াসমিন এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদের সদস্য সঞ্জয় কান্তি নাথ।
এ ছাড়া এস এম সালাউদ্দিন, আহসান আবিদ, সুলতান মাহমুদ জিদান, পার্থপ্রতিম নন্দী, যীশু রায় চৌধুরী, মশিউর রহমান আবির ও মো. জাকির হোসেনকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, ১৫ আগস্ট পালনের উদ্দেশ্যে তাঁরা মনসুরাবাদ ওয়াপদা কলোনির ওই বাসায় সমবেত হয়েছিলেন। তবে মামলার অভিযোগ ও গ্রেপ্তারের আইনগত বিষয় এখন আদালতের বিচারাধীন।