সিডিএর সচিব মাহবুব উল করিমের স্বাক্ষরে গত ৬ আগস্ট জারি করা অফিস আদেশে বলা হয়, ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবরের নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি এবং ২০২৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারির নিয়োগপত্রের শর্ত অনুযায়ী প্রয়োজনীয় শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় তাদের নিয়োগ বহাল রাখার সুযোগ নেই। তাদের যোগদানপত্রও চূড়ান্তভাবে গ্রহণ করা হয়নি।
নিয়োগ বাতিল হওয়া আটজন হলেন— দ্বিন ইসলাম লিমন, মো. আবদুর রহমান রিয়াদ, তাহমিদুল ইসলাম ইবনুল, মো. মাহিদুল হাসান, মো. ইকরামুল হক, অনয় সিংহ সুজাত, ইজতিহাদ ইসলাম খান ও মো. শরিফুল ইসলাম।
এ ঘটনায় প্রশ্ন উঠেছে—আবেদন যাচাইয়ের সময় শিক্ষাগত যোগ্যতা কেন দেখা হয়নি, অযোগ্য প্রার্থীদের প্রবেশপত্র কীভাবে দেওয়া হলো এবং লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর তাদের নিয়োগের জন্য সুপারিশই বা কারা করলেন।
সিডিএর নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ইমারত পরিদর্শক পদে আবেদনকারীর উচ্চমাধ্যমিক বা সমমান পরীক্ষায় উত্তীর্ণ এবং স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে সার্ভে ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার যোগ্যতা থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। অথচ অভিযোগ রয়েছে, যোগ্যতা পূরণ না করা প্রার্থীরাও আবেদন, লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষায় অংশ নিয়ে শেষ পর্যন্ত নিয়োগ পেয়েছেন।
ইমারত পরিদর্শকের ১৮টি পদের বিপরীতে ৩৬৪ জনের তালিকা করা হয়। লিখিত পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় ১৭ জানুয়ারি। ২৫ জানুয়ারি মৌখিক পরীক্ষা ও একই দিনে চূড়ান্ত ফল প্রকাশের পর ১৫ ফেব্রুয়ারি নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। ২২ ফেব্রুয়ারি তারা যোগদান করেন এবং ৯ মার্চ পদায়ন করা হয়।
সিডিএ চেয়ারম্যান প্রকৌশলী বেলায়েত হোসেন বলেন, নির্ধারিত শিক্ষাগত যোগ্যতা না থাকায় তাদের নিয়োগ বাতিল করা হয়েছে। বিষয়টি তাঁর দায়িত্ব নেওয়ার আগের ঘটনা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ভবিষ্যতের নিয়োগে যোগ্যতা যাচাই আরও কঠোরভাবে করা হবে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, শুধু আটজনের নিয়োগ বাতিল করলেই বিষয়টির পূর্ণ জবাবদিহিতা নিশ্চিত হবে না। আবেদন যাচাই থেকে শুরু করে পরীক্ষা, মৌখিক বোর্ড ও চূড়ান্ত নিয়োগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও কমিটির ভূমিকা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। ইমারত পরিদর্শক পদটি ভবন নির্মাণের নকশা ও বিধিমালা বাস্তবায়নের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হওয়ায় এ পদে নিয়োগের যোগ্যতা ও দক্ষতার বিষয়টি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ।