মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিশেষ জজ মো. মিজানুর রহমানের আদালত এ আদেশ দেন।
মো. নুর চৌধুরী চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের ভূমি অধিগ্রহণ (এলএ) শাখার সাবেক সার্ভেয়ার। বর্তমানে তিনি প্রেষণে মীরসরাই ভূমি অফিসে সার্ভেয়ার হিসেবে কর্মরত। তিনি পটিয়া উপজেলার পাইরল এলাকার মৃত আহম্মদ হোসেনের ছেলে।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলায় আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করেন নুর চৌধুরী। শুনানি শেষে আদালত তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। মামলাটি বর্তমানে অভিযোগ গঠনের পর্যায়ে রয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) পিপি রেজাউল করিম রনি বলেন, ভূমি অধিগ্রহণের ক্ষতিপূরণের অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় নুর চৌধুরী আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেছিলেন। শুনানি শেষে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
দুদকের অভিযোগ অনুযায়ী, চট্টগ্রাম ভূমি অধিগ্রহণ শাখার ০৬/২০১৩-১৪ নম্বর অধিগ্রহণ মামলার আওতাধীন নগরের উত্তর পতেঙ্গা মৌজার জমির মালিকানা সংক্রান্ত রেকর্ডপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে তৈরি ও ব্যবহার করা হয়। এসব জাল কাগজপত্রের ভিত্তিতে সরকারি কোষাগার থেকে জমির ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি ১৩ লাখ ১৪ হাজার ২৭০ টাকা ২ পয়সা উত্তোলন করে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট জমির মালিকানা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি আদালতে মামলা চলমান ছিল। এরপরও ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যথাযথভাবে যাচাই না করে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধের পক্ষে প্রতিবেদন দেন। ওই প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ২০১৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ করা হয়।
এ ঘটনায় চট্টগ্রাম দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয়-১-এর সহকারী পরিচালক জাফর আহমেদ অভিযোগটি তদন্ত করেন। পরে তার তদন্তের ভিত্তিতে মামলা দায়েরের আবেদন করা হয়।
মামলায় ভূমি অধিগ্রহণ শাখার কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ মোট ১৯ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির বিভিন্ন ধারার পাশাপাশি দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।