জব্দ করা স্বর্ণের আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। আটক যাত্রীর নাম মোহাম্মদ তুসার (৩৩)। সোমবার দুবাই থেকে বাংলাদেশ বিমানের বিজি-১৪৮ ফ্লাইটে চট্টগ্রামে পৌঁছান।
কাস্টমস গোয়েন্দা সূত্র জানায়, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তুসারকে আগেই নজরদারিতে রাখা হয়েছিল। ফ্লাইটটি অবতরণের পর কাস্টমস গোয়েন্দা, প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তর (ডিজিএফআই), জাতীয় নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থা (এনএসআই) এবং কাস্টমস হাউসের কর্মকর্তারা সমন্বিতভাবে তাঁর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করেন।
পরে কাস্টমস হলে দেহ তল্লাশির সময় তাঁর অন্তর্বাসের ভেতরে বিশেষভাবে লুকানো অবস্থায় স্বর্ণের পেস্ট উদ্ধার করা হয়। জব্দ করা স্বর্ণের পেস্টের ওজন প্রায় ১ হাজার ৪০০ গ্রাম। এছাড়া তাঁর কাছ থেকে প্রায় ১০০ গ্রাম ওজনের পাঁচটি স্বর্ণের চুড়ি এবং প্যাকিং উপকরণও উদ্ধার করা হয়। সব মিলিয়ে প্রায় ১ হাজার ৫০০ গ্রাম (দেড় কেজি) স্বর্ণ জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর।
প্রাথমিক পরীক্ষায় উদ্ধার হওয়া স্বর্ণের পেস্ট ২৪ ক্যারেট মানের বলে শনাক্ত হয়েছে। অভিযানে তুসারের পাসপোর্ট, একটি রেডমি মোবাইল ফোন এবং বোর্ডিং পাসও জব্দ করা হয়েছে।
কাস্টমস গোয়েন্দা কর্মকর্তারা জানান, বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও প্রচলিত তল্লাশি ব্যবস্থা ফাঁকি দিতে স্বর্ণকে পেস্টে রূপান্তর করে শরীরের সঙ্গে বিশেষ কৌশলে লুকিয়ে দেশে আনার চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আগে থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি থাকায় সেই চেষ্টা ব্যর্থ হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর জানিয়েছে, এ ঘটনায় কাস্টমস আইন, ২০২৩ এবং অন্যান্য প্রযোজ্য আইনে মামলা ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ব্যবহার করে স্বর্ণ ও অন্যান্য উচ্চমূল্যের পণ্যের চোরাচালান রোধে গোয়েন্দা নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। সন্দেহভাজন যাত্রীদের ওপর নিবিড় নজরদারির পাশাপাশি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও তারা জানান।
