নগরবাসীর অভিযোগ দ্রুত গ্রহণ, যাচাই ও নিষ্পত্তির মাধ্যমে অ্যাপটির কার্যকারিতা ইতোমধ্যেই দৃশ্যমান হওয়ায় সচেতন নাগরিকদের মধ্যেও ইতিবাচক সাড়া সৃষ্টি হয়েছে|
মঙ্গলবার রাত ৮টা পর্যন্ত অ্যাপটির ড্যাশবোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, এ পর্যন্ত মোট ৫৫২টি অভিযোগ ও আবেদন জমা পড়েছে| এর মধ্যে ১০৮টি অভিযোগের সমাধান করা হয়েছে| বাকি অভিযোগগুলো সংশ্লিষ্ট বিভাগ পর্যায়ক্রমে নিষ্পত্তির কাজ করছে|
গত ১৮ জুলাই চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন আনুষ্ঠানিকভাবে ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ ওয়ান স্টপ সিটিজেন সার্ভিস মোবাইল ও ওয়েব অ্যাপের উদ্বোধন করেন|
অ্যাপটির মাধ্যমে নগরবাসী ঘরে বসেই রাস্তা, জলাবদ্ধতা, ড্রেনেজ, বর্জ্য অপসারণ, মশার প্রজননস্থল, সড়কবাতি, পরিচ্ছন্নতাসহ বিভিন্ন নাগরিক সমস্যার ছবি ও জিপিএস লোকেশন সংযুক্ত করে সরাসরি চসিককে জানাতে পারছেন| একই সঙ্গে লাইভ ট্র্যাকিং ও পারফরম্যান্স ম্যাপ সুবিধার মাধ্যমে অভিযোগের বর্তমান অবস্থা এবং সমাধানের অগ্রগতিও তাৎক্ষণিকভাবে দেখা যাচ্ছে, যা সেবায় ¯^চ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করছে|
মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, অ্যাপটি চালুর পর অল্প সময়ের মধ্যেই যেভাবে নাগরিকরা সাড়া দিয়েছেন এবং মাত্র তিন দিনের মধ্যে ১০৮টি সমস্যার সমাধান করা সম্ভব হয়েছে, তা প্রমাণ করে প্রযুক্তিনির্ভর নাগরিক সেবাই ভবিষ্যতের পথ| তিনি বলেন, প্রতিটি যৌক্তিক অভিযোগ দ্রুততম সময়ে সমাধান করে নাগরিকদের ঘরে বসেই সেবার অগ্রগতি দেখার সুযোগ নিশ্চিত করতে চায় চসিক|
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ শুধু একটি অ্যাপ নয়, এটি নাগরিক ও সিটি করপোরেশনের মধ্যে একটি ডিজিটাল সেতুবন্ধন| স্মার্ট, পরিচ্ছন্ন, ¯^চ্ছ ও জবাবদিহিমূলক চট্টগ্রাম গড়ে তুলতে নাগরিকদের সক্রিয় অংশগ্রহণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ| এজন্য তিনি নগরবাসীকে অ্যাপটি ব্যবহার করে নিজ নিজ এলাকার সমস্যা জানিয়ে একটি বাসযোগ্য নগর গড়ে তোলার অংশীদার হওয়ার আহ্বান জানান|
মেয়র জানান, ভবিষ্যতে এই প্ল্যাটফর্মে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধ, ট্রেড লাইসেন্স, বিভিন্ন সনদের জন্য অনলাইন আবেদন, জরুরি সেবা এবং মেয়রের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগের সুবিধাসহ আরও বিভিন্ন নাগরিক সেবা যুক্ত করা হবে| পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) প্রযুক্তি ব্যবহার করে নগরের বিভিন্ন সমস্যা ¯^য়ংক্রিয়ভাবে শনাক্ত ও সমাধান ব্যবস্থাও চালুর পরিকল্পনা রয়েছে|
চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন বলেন, অ্যাপটির মাধ্যমে শুধু অভিযোগ নিষ্পত্তিই নয়, উন্নয়নসংক্রান্ত পরামর্শ গ্রহণ, জনমত সংগ্রহ, ওয়ার্ডভিত্তিক সমস্যা বিশ্লেষণ এবং তথ্যভিত্তিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগও ˆতরি হয়েছে| তাঁর মতে, চট্টগ্রামকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও স্মার্ট নগরীতে রূপান্তরের ক্ষেত্রে এই প্ল্যাটফর্ম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে|
