তিনি বলেন, সীমান্তের বিদ্যমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) প্রস্তাব অনুযায়ী এ উদ্যোগ নেওয়া হলেও বিষয়টি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে রাজধানীর পিলখানায় বিজিবি সদর দপ্তরের আশরাফ হলে বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, মিয়ানমার সীমান্ত বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। এ কারণে সীমান্তকে আরও নিরাপদ ও কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। সীমান্ত এলাকায় স্থলমাইন বা ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবিকে ইতোমধ্যে অত্যাধুনিক মাইন শনাক্তকরণ যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।
মিয়ানমার সীমান্তে বহুমুখী নিরাপত্তা ঝুঁকি
সালাহ উদ্দিন আহমদ বলেন, মিয়ানমারে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে আরাকান আর্মিসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে আরএসও ও আরসার মতো গোষ্ঠীর তৎপরতায় সীমান্ত পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এসব সংঘাতের প্রভাব সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে পড়ছে।
তিনি বলেন, সীমান্তের ওপার থেকে গুলি এসে পড়া, মাদক চোরাচালান এবং অনুপ্রবেশ ঠেকাতে সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছে। ভারতের সঙ্গে সীমান্ত ব্যবস্থাপনার বাস্তবতা এবং মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ এক নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে মিয়ানমার সীমান্তকে আরও নিশ্ছিদ্র ও সুরক্ষিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিজিবির সক্ষমতা বাড়ানোর উদ্যোগ
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, সীমান্ত রক্ষায় বিজিবির সক্ষমতা বাড়াতে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক অস্ত্র-সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বিজিবি হাসপাতালে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বাহিনীর দীর্ঘদিনের অমীমাংসিত বিষয়গুলো দ্রুত নিষ্পত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।
সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি বাহিনীর কল্যাণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়েও সরকার সমান গুরুত্ব দিচ্ছে বলে উল্লেখ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
