মূল সংবাদে যান
অপরাধ

বিভাগীয় ডিএনএ ল্যাবের অভাবে ৪ বছরে আটকে আছে ২৪১ মামলার তদন্ত কার্যক্রম

নারী ও শিশু নির্যাতনের মতো স্পর্শকাতর অপরাধের সিংহভাগ মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে পৌঁছালেও কেবল ডিএনএ প্রতিবেদনের অভাবে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা দিতে পারছে না পুলিশ|

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
বিভাগীয় ডিএনএ ল্যাবের অভাবে ৪ বছরে আটকে আছে ২৪১ মামলার তদন্ত কার্যক্রম

২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ১৬টি থানার অন্তত ২৪১টি মামলার তদন্ত ফাইল বর্তমানে ডিএনএ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে|

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগে কোনো ডিএনএ পরীক্ষাগার না থাকায় নমুনা সংগ্রহের পর তা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়| দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবেদন না আসায় তদন্তে স্থবিরতা ˆতরি হচ্ছে এবং বিচারপ্রক্রিয়াও বিল¤ি^ত হচ্ছে|

তবে সম্প্রতি একটি মামলায় ব্যতিক্রমী নজির সৃষ্টি হয়েছে| বাকলিয়া থানার এক শিশু ধর্ষণ মামলায় ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র তিন কার্যদিবসে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায়| এতে পুলিশ পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করতে সক্ষম হয় এবং ঘটনার মাত্র ২৬ দিনের মাথায়, গত ১৭ জুন, আদালত অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন|

কিন্তু অধিকাংশ মামলায় এমন দ্রুততা দেখা যায় না| গত ২২ মে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো ডিএনএ রিপোর্ট না আসায় তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি|

সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, “সিএমপির ২৪১টি মামলার তদন্ত শুধু ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় আটকে আছে| রিপোর্ট পেলেই দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে| বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি|”

অপরাধবিজ্ঞানী, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো মামলায় ডিএনএ পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ˆবজ্ঞানিক প্রমাণ| প্রতিবেদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগলে ভুক্তভোগীরা সময়মতো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন এবং বিচারপ্রক্রিয়াও অকারণে দীর্ঘায়িত হয়| দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তিনটি পদক্ষেপ জরুরি—প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আধুনিক ডিএনএ ল্যাব স্থাপন, বিদ্যমান পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদন প্রদান বাধ্যতামূলক করা|

এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের জন্য পৃথক দুটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে| মে মাস পর্যন্ত জেলা ট্রাইব্যুনালে ৪১৫টি এবং মহানগর ট্রাইব্যুনালে ৬৭৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে|

সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতে, ডিএনএ রিপোর্ট দ্রুত পাওয়া গেলে এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন|

সম্পর্কিত বিষয়

  • ডিএনএ ল্যাব

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন