২০২২ সাল থেকে ২০২৬ সালের মে মাস পর্যন্ত চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) ১৬টি থানার অন্তত ২৪১টি মামলার তদন্ত ফাইল বর্তমানে ডিএনএ প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আটকে রয়েছে|
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগে কোনো ডিএনএ পরীক্ষাগার না থাকায় নমুনা সংগ্রহের পর তা চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতাল থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠাতে হয়| দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিবেদন না আসায় তদন্তে স্থবিরতা ˆতরি হচ্ছে এবং বিচারপ্রক্রিয়াও বিল¤ি^ত হচ্ছে|
তবে সম্প্রতি একটি মামলায় ব্যতিক্রমী নজির সৃষ্টি হয়েছে| বাকলিয়া থানার এক শিশু ধর্ষণ মামলায় ¯^রাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ নির্দেশনায় মাত্র তিন কার্যদিবসে ডিএনএ রিপোর্ট পাওয়া যায়| এতে পুলিশ পাঁচ দিনের মধ্যে অভিযোগপত্র দাখিল করতে সক্ষম হয় এবং ঘটনার মাত্র ২৬ দিনের মাথায়, গত ১৭ জুন, আদালত অভিযুক্তকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন|
কিন্তু অধিকাংশ মামলায় এমন দ্রুততা দেখা যায় না| গত ২২ মে বায়েজিদ বোস্তামী থানা এলাকায় পাঁচ বছরের এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার ঘটনায় মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হলেও এখনো ডিএনএ রিপোর্ট না আসায় তদন্ত শেষ করা সম্ভব হয়নি|
সিএমপির উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. রইছ উদ্দিন বলেন, “সিএমপির ২৪১টি মামলার তদন্ত শুধু ডিএনএ রিপোর্টের অপেক্ষায় আটকে আছে| রিপোর্ট পেলেই দ্রুত আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেওয়া হবে| বিষয়টি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি|”
অপরাধবিজ্ঞানী, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীরা বলছেন, ধর্ষণ ও হত্যার মতো মামলায় ডিএনএ পরীক্ষা সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য ˆবজ্ঞানিক প্রমাণ| প্রতিবেদন পেতে দীর্ঘ সময় লাগলে ভুক্তভোগীরা সময়মতো ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হন এবং বিচারপ্রক্রিয়াও অকারণে দীর্ঘায়িত হয়| দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে তিনটি পদক্ষেপ জরুরি—প্রতিটি বিভাগীয় শহরে আধুনিক ডিএনএ ল্যাব স্থাপন, বিদ্যমান পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি ও প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ডিএনএ প্রতিবেদন প্রদান বাধ্যতামূলক করা|
এদিকে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে চট্টগ্রাম জেলা ও মহানগরের জন্য পৃথক দুটি শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনাল পূর্ণাঙ্গভাবে কার্যক্রম শুরু করেছে| মে মাস পর্যন্ত জেলা ট্রাইব্যুনালে ৪১৫টি এবং মহানগর ট্রাইব্যুনালে ৬৭৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে|
সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরদের মতে, ডিএনএ রিপোর্ট দ্রুত পাওয়া গেলে এসব মামলার বিচারপ্রক্রিয়া আরও গতিশীল হবে এবং ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন|
