মূল সংবাদে যান
অপরাধ

অনলাইন জুয়া দমনে কারাদণ্ড জরিমানার প্রস্তাব, সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬’

অনলাইন জুয়া, অনলাইন বাজি, ম্যাচ ফিক্সিং, স্পট ফিক্সিং এবং ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ লেনদেনের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে জাতীয় সংসদে উত্থাপন করা হয়েছে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল, ২০২৬’।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
অনলাইন জুয়া দমনে কারাদণ্ড জরিমানার প্রস্তাব, সংসদে ‘জুয়া প্রতিরোধ বিল-২০২৬’

মঙ্গলবার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বিলটি সংসদে উপস্থাপন করেন। পরে বিলটি পরীক্ষা করে পাঁচ কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।

প্রস্তাবিত আইনে অনলাইন জুয়া পরিচালনার অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড অথবা পাঁচ কোটি টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। একই সঙ্গে অনলাইন জুয়ার সঙ্গে সম্পৃক্ততা থাকলেও সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানার প্রস্তাব করা হয়েছে। সাধারণ জুয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড অথবা দুই লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।

বিলে বিদ্যমান পাবলিক গ্যাম্বলিং অ্যাক্ট, ১৮৬৭ রহিত করে নতুন আইন প্রণয়নের প্রস্তাব করা হয়েছে।

খেলাধুলায় দুর্নীতি রোধে ম্যাচ ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড বা এক কোটি টাকা জরিমানা এবং স্পট ফিক্সিংয়ের জন্য সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা অর্থদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। আদালত চাইলে অভিযুক্ত ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময়ের জন্য বা স্থায়ীভাবে সংশ্লিষ্ট খেলাধুলা বা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণা করতে পারবে।

প্রস্তাবিত আইনে জুয়ার বিজ্ঞাপন, স্পন্সরশিপ, অ্যাফিলিয়েট মার্কেটিং, রেফারেল ক্যাম্পেইন এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণাকেও অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে। কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ইনফ্লুয়েন্সার, শিল্পী, খেলোয়াড় বা সেলিব্রিটি জুয়ার প্রচারে যুক্ত হলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার মুখোমুখি হতে পারেন।

বিলে ভিপিএন, প্রক্সি, মিরর সাইট, ক্লাউড অবকাঠামো কিংবা ডোমেইন সার্ভিস ব্যবহার করে জুয়া পরিচালনা বা নিষিদ্ধ প্ল্যাটফর্ম পুনরায় চালুর অপরাধে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড এবং পাঁচ কোটি টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। এছাড়া ব্যাংক, মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ডিজিটাল ওয়ালেট, হুন্ডি বা ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে জুয়ার অর্থ স্থানান্তরকে অর্থপাচার প্রতিরোধ আইনের আওতাভুক্ত অপরাধ হিসেবে গণ্য করার প্রস্তাব রয়েছে।

ভুয়া সিম, ভুয়া এমএফএস অ্যাকাউন্ট কিংবা বায়োমেট্রিক জালিয়াতির মাধ্যমে জুয়া পরিচালনার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সাত বছরের কারাদণ্ড অথবা ৫০ লাখ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। সংঘবদ্ধভাবে বা অর্থপাচারের উদ্দেশ্যে এ ধরনের অপরাধ সংঘটিত হলে শাস্তি বেড়ে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড ও পাঁচ কোটি টাকা জরিমানায় উন্নীত হতে পারে।

বিলে বলা হয়েছে, এ আইনের অধীন সব অপরাধ হবে আমলযোগ্য, জামিন অযোগ্য এবং আপস অযোগ্য। অনলাইন জুয়া ও সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধের বিচার হবে সাইবার ট্রাইব্যুনালে, আর অন্যান্য অপরাধের বিচার হবে সংশ্লিষ্ট আদালতে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অধিক ক্ষমতা দিয়ে বিলে বলা হয়েছে, আদালতের পরোয়ানা নিয়ে সন্দেহভাজনের কম্পিউটার, সার্ভার, অ্যাপ, ডেটাবেজ ও প্রযুক্তিগত অবকাঠামো তল্লাশি ও জব্দ করা যাবে। তথ্য নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা থাকলে তাৎক্ষণিক অভিযান ও গ্রেপ্তারের সুযোগও রাখা হয়েছে। তবে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অভিযুক্তকে আদালতে হাজির করতে হবে।

এ ছাড়া সরকার বা নির্ধারিত কর্তৃপক্ষ জুয়াসংশ্লিষ্ট ওয়েবসাইট, মোবাইল অ্যাপ, ডোমেইন, আইপি অ্যাড্রেস, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পেজ, গ্রুপ বা চ্যানেল ব্লক বা অপসারণ করতে পারবে। জুয়ার কাজে ব্যবহৃত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, এমএফএস, ডিজিটাল ওয়ালেট কিংবা ক্রিপ্টো ওয়ালেট বন্ধের নির্দেশও দিতে পারবে আদালত।

বিলের একটি উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘জাতীয় ডিজিটাল ব্ল্যাকলিস্ট’ ডেটাবেজ গঠনের প্রস্তাব। এতে জুয়া, বেটিং, অর্থপাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধে জড়িত ব্যক্তিদের জাতীয় পরিচয়পত্র, সিম, ব্যাংক হিসাব, এমএফএস অ্যাকাউন্ট, ওয়ালেট, ডিভাইস, ডোমেইন ও আইপি অ্যাড্রেসের তথ্য সংরক্ষণ করা যাবে। পাশাপাশি এনআইডি-সিম-এমএফএস লিংকিং, বায়োমেট্রিক যাচাই, ফেসিয়াল রিকগনিশন এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) নজরদারি ব্যবস্থার মাধ্যমে সন্দেহজনক লেনদেন ও অনলাইন জুয়ার কার্যক্রম শনাক্তের ক্ষমতা রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে।

সংসদে বিলটি উত্থাপনের সময় অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সংসদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জয়নুল আবেদীন। পরে বিলটি সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব কণ্ঠভোটে গৃহীত হয়।

সম্পর্কিত বিষয়

  • অনলাইন জুয়া
  • কারাদণ্ড

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন