আলোচিত এই ঘটনায় এর আগে অভিযুক্ত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়| একই সঙ্গে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করা হয়েছে|
শনিবার (১৩ জুন) রাতে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর ¯^াক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওসি আরিফুর রহমানকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়| তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলায়মানকে| ঘটনার তদন্তে সিএমপির একজন উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে| কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে|
পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় যাচ্ছিলেন জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসান| পথে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর অটোরিকশার গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন|
নাঈমের অভিযোগ, নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়| তিনি অভিযোগ করেন, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাঁকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী সোহেল পাইপ দিয়ে মারধর করেন| পরে তাঁকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়ে ওসির কক্ষেও হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি|
ঘটনার পর নাঈমের পরিবারের পক্ষ থেকে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে| মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে| মামলায় মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে|
এ ঘটনায় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে| সংগঠনটির মতে, একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণ যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনি দেশের যেকোনো নাগরিকের ক্ষেত্রেও এ ধরনের হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়|
প্রতিক্রিয়ায় নাঈম হাসান বলেন, তিনি ক্রিকেট অঙ্গনের মানুষ ও পরিচিতজনদের সমর্থন পেয়েছেন| তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় এমন সহায়তা পাওয়া যায় না| তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে|
চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিকে নজর রয়েছে ক্রীড়াঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের|
