মূল সংবাদে যান
অপরাধ

ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, আটক পুলিশের সোর্স, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দলের অফ-স্পিনার নাঈম হাসানকে হেনস্তা ও মারধরের অভিযোগে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) খুলশী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আরিফুর রহমানকে প্রত্যাহার করা হয়েছে|

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
ক্রিকেটার নাঈম হাসানকে হেনস্তা, ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য প্রত্যাহার, আটক পুলিশের সোর্স, তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি

আলোচিত এই ঘটনায় এর আগে অভিযুক্ত থানার উপপরিদর্শক (এসআই) শফিকুল ইসলামসহ দুই পুলিশ সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত ও পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়| একই সঙ্গে পুলিশের সোর্স পরিচয়ে অভিযুক্ত মোহাম্মদ সোহেলকে আটক করা হয়েছে|

শনিবার (১৩ জুন) রাতে সিএমপি কমিশনার হাসান মো. শওকত আলীর ¯^াক্ষরিত এক অফিস আদেশে ওসি আরিফুর রহমানকে খুলশী থানা থেকে সরিয়ে পুলিশ লাইন্সে সংযুক্ত করা হয়| তাঁর স্থলাভিষিক্ত হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে বাকলিয়া থানার ওসি মোহাম্মদ সোলায়মানকে| ঘটনার তদন্তে সিএমপির একজন উপ-পুলিশ কমিশনারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে| কমিটিকে আগামী পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে|

পুলিশ সূত্র জানায়, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে ফেরার পর বিমানবন্দর থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় বাসায় যাচ্ছিলেন জাতীয় দলের স্পিনার নাঈম হাসান| পথে নগরের লালখান বাজার ফ্লাইওভারের মুখে ডিবি পুলিশের পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি তাঁর অটোরিকশার গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন|

নাঈমের অভিযোগ, নিজের পরিচয় দেওয়ার পরও তাঁকে জোর করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয় এবং শারীরিকভাবে নির্যাতন করা হয়| তিনি অভিযোগ করেন, খুলশী থানার এসআই শফিকুল ইসলাম তাঁকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেন এবং পুলিশের সোর্স পরিচয়ধারী সোহেল পাইপ দিয়ে মারধর করেন| পরে তাঁকে খুলশী থানায় নিয়ে গিয়ে ওসির কক্ষেও হেনস্তার শিকার হতে হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি|

ঘটনার পর নাঈমের পরিবারের পক্ষ থেকে খুলশী থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে| মামলায় এসআই শফিকুল ইসলাম, কনস্টেবল রাসেল এবং সোর্স সোহেলকে আসামি করা হয়েছে| মামলায় মারধর ও অপহরণের চেষ্টার অভিযোগ আনা হয়েছে|

এ ঘটনায় ক্রিকেটারদের সংগঠন কোয়াব (ক্রিকেটার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ) তীব্র নিন্দা জানিয়ে দায়ীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছে| সংগঠনটির মতে, একজন ক্রিকেটারের সঙ্গে এমন আচরণ যেমন অগ্রহণযোগ্য, তেমনি দেশের যেকোনো নাগরিকের ক্ষেত্রেও এ ধরনের হয়রানি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়|

প্রতিক্রিয়ায় নাঈম হাসান বলেন, তিনি ক্রিকেট অঙ্গনের মানুষ ও পরিচিতজনদের সমর্থন পেয়েছেন| তবে সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে অনেক সময় এমন সহায়তা পাওয়া যায় না| তাঁর এই বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে|

চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় পুলিশের তদন্ত ও পরবর্তী প্রশাসনিক ব্যবস্থার দিকে নজর রয়েছে ক্রীড়াঙ্গনসহ সাধারণ মানুষের|

সম্পর্কিত বিষয়

  • ক্রিকেটার

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন