বুধবার (১৩ মে) সকালে ফ্লাইওভারের বিপরীতমুখী লেইনের মাঝামাঝি অংশ থেকে রশিতে ঝুলন্ত অবস্থায় কাউসারের মরদেহ উদ্ধার করে পাহাড়তলী থানা পুলিশ| পরে মরদেহ চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়| ময়নাতদন্ত শেষে তা পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে| এ ঘটনায় থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা দায়ের হয়েছে|
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত আবু কাউসার আকবর শাহ থানা ছাত্রলীগের মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক সম্পাদক হিসেবে পরিচিত ছিলেন| তাঁর মৃত্যু ঘিরে এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে| সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়|
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণে কাউসারকে পরিকল্পিতভাবে টার্গেট করা হয়েছিল| তাঁকে অপহরণের পর হত্যা করে ঘটনাটি আত্মহত্যা হিসেবে দেখাতে ফ্লাইওভারে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বলে দাবি তাদের|
ছাত্রলীগ নেতা তালুকদার পারভেজ আনসারী বলেন, “ছাত্রলীগ করার কারণে কাউসারকে টার্গেট করা হয়েছিল| অপহরণের পর তাকে হত্যা করে লাশ ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে|”
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের পশ্চিম বিভাগের উপকমিশনার মো. আলমগীর হোসেন জানান, সিসিটিভি ফুটেজে রাত দেড়টার দিকে কাউসারকে একাই ফ্লাইওভারে উঠতে দেখা যায়| পরে মাঝামাঝি একটি পিলারের কাছে তিনি গলায় ফাঁস দেন বলে ফুটেজে দেখা গেছে| অথাৎ ঘটনাস্থল, সিসিটিভি ফুটেজ এবং ময়নাতদন্তের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে আত্মহত্যার ইঙ্গিত মিলেছে| তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে|
পুলিশের তথ্যমতে, নিহত কাউসারের বিরুদ্ধে দস্যুতা ও চাঁদাবাজিসহ ছয়টি মামলা রয়েছে| এর মধ্যে দুটি মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও ছিল| জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করা হয়েছে|
ডিসি আলমগীর হোসেন আরও জানান, পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে পুলিশ জেনেছে, কাউসার দীর্ঘদিন ধরে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন| পাশাপাশি তাঁর মাদকাসক্তির তথ্যও পাওয়া গেছে| প্রথমদিকে পরিবার ময়নাতদন্ত না করার অনুরোধ জানালেও আইনগত বাধ্যবাধকতার কারণে তা সম্পন্ন করা হয়|
পাহাড়তলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মুহাম্মদ নুরুল আবছার বলেন, “ঘটনাস্থলের প্রতিটি আলামত আমরা যাচাই করেছি| গলার দাগ, দেহের অবস্থান, রেলিংয়ের উচ্চতা ও আশপাশের পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে অন্য কোনো আলামত পাওয়া যায়নি| সংঘর্ষ বা হত্যার ইঙ্গিত দেয় এমন কোনো চিহ্নও নেই|”
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দিবাগত রাত দেড়টার দিকে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় পুলিশ| পরে স্থানীয়দের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়| নিহতের মা পারভিন আক্তার থানায় এসে মরদেহ শনাক্ত করেন| নিহত আবু কাউসার চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার উরকিরচর এলাকার মৃত আবুল কাশেমের ছেলে| তিনি নগরের আকবর শাহ থানার পশ্চিম ফিরোজশাহ পোস্ট অফিস এলাকায় বসবাস করতেন| তিন ভাইয়ের মধ্যে তিনি দ্বিতীয় ছিলেন|
পরিবার ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, তিনি সাগরিকা এলাকার একটি ডিপোতে খণ্ডকালীন পাহারাদার হিসেবে কাজ করতেন| এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিহতকে ছাত্রলীগ নেতা দাবি করে হত্যার অভিযোগ তোলা হলেও পুলিশ বলছে, পরিবারের কাছ থেকে তাঁর রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি| এছাড়া সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত নাম, বয়স ও পরিচয়ের সঙ্গে বাস্তব তথ্যেরও অমিল রয়েছে বলে জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী|
