বুধবার (১৩ মে) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর সিদ্দিকের আদালত এ আদেশ দেন| নিহত আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফের ভাই মামলাটির বাদী| এর আগে মামলার তদন্তভার ছিল চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিবি উত্তর বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. মোস্তফা কামালের ওপর| আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত বছরের ২৬ নভে¤^র চট্টগ্রাম আদালত প্রাঙ্গণে সংঘটিত সহিংসতা, ভাঙচুর ও আলিফ হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলাটি দীর্ঘদিন ধরে তদন্ত করছিল ডিবি পুলিশ| তবে দীর্ঘ সময়েও তদন্তে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় এবং তদন্ত কার্যক্রম নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে তদন্ত কর্মকর্তা পরিবর্তনের আবেদন করেন মামলার বাদী|
মামলার আইনজীবী ও চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন আদালতের সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটর মো. রায়হানুল ওয়াজেদ চৌধুরী জানান, বাদীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার শুনানির দিন ধার্য ছিল| শুনানি শেষে অধিকতর সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের ¯^ার্থে আদালত পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোকে তদন্তের দায়িত্ব দেন|
শুনানিকালে বিদায়ী তদন্ত কর্মকর্তা মো. মোস্তফা কামাল আদালতে উপস্থিত ছিলেন| মামলার অগ্রগতি সম্পর্কে আদালতের প্রশ্নের জবাবে তিনি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা দিতে পারেননি বলে আদালতসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে|
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, মামলার এজাহারভুক্ত শতাধিক আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৪০০ থেকে ৫০০ জনের কাউকেই এখন পর্যন্ত গ্রেপ্তার করা সম্ভব হয়নি| দৃশ্যমান অগ্রগতি না থাকায় তদন্ত সংস্থা পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়|
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ২৬ নভে¤^র রাষ্ট্রদ্রোহ মামলায় গ্রেপ্তার চন্দন কুমার ধর ওরফে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হলে তাঁর জামিন আবেদন নামঞ্জুর হয়| এ আদেশকে কেন্দ্র করে আদালত এলাকায় উত্তেজনা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে|
অভিযোগ রয়েছে, ওই সময় চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের অনুসারী ও ইসকনপন্থী শত শত ব্যক্তি আদালত এলাকায় দাঙ্গা, ককটেল বিস্ফোরণ, সরকারি স্থাপনা ও যানবাহনে হামলা চালায়| সংঘর্ষের একপর্যায়ে বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট ও চট্টগ্রাম জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট সাইফুল ইসলাম আলিফকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়| ঘটনাকে কেন্দ্র করে হত্যা, ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনে মোট পাঁচটি মামলা দায়ের করা হয়েছে|
