অভিযোগ উঠেছে, মেয়রের নির্দেশনা উপেক্ষা করে এখনো ময়লা সংগ্রহের জন্য বাসাবাড়ি থেকে টাকা নিচ্ছে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান (ভেন্ডর) ও কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মী| কেউ টাকা দিতে অ¯^ীকৃতি জানালে বাসাবাড়িতেই পড়ে থাকছে ময়লা| চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মরত প্রায় দুই হাজার কর্মী বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করছেন না কেন জানতে চেয়ে নগরবাসী মেয়রের ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন দেখতে চান|
নগরবাসীর অভিযোগ, চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের ঘোষণার পরও মাঠপর্যায়ে এখনো ভেন্ডরদের কার্যক্রম বন্ধ হয়নি| মেয়রের নির্দেশ উপেক্ষা করে ভেন্ডরদের সাথে চসিকের কিছু পরিচ্ছন্নতাকর্মী দাপটের সাথে নিজেদের মর্জিমতো কাজ করে যাচ্ছে| আর তার জন্য ভুক্তভোগী হচ্ছে নগরীর অসহায় জনসাধারণ| তাদেরকে অনুরোধ করেও বর্জ্য সরানো সম্ভব হচ্ছেনা| মেয়রের নির্দেশ উপেক্ষা করার মতো সাহস পায় কোথা থেকে বেতনভুক পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা| তাই দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নিয়ে ঘোষণার বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তারা|
চসিকের হেলদী ওয়ার্ড খ্যাত জামালখানের অলিগলিতেও একই অবস্থা বিরাজমান| কোতোয়ালী এলাকার নগরীর ২১ ন¤^র ওয়ার্ডের শরীফ কলোনী আবাসিক এলাকার বাসিন্দা ¯^পন বাবু বলেন, পরিচ্ছন্নকর্মীদের অনেকবার বলার পরও ময়লা পড়ে থাকে কলোনীর যত্রতত্র| তারা টাকা নিতে এলে আমরা মেয়রের ঘোষণার কথা জানালে তারা মেয়রকেই ময়লা পরিস্কারের দায়িত্ব দিতে বলেন| একই অবস্থার কথা জানান চেরাগী চত্তরের ˆমত্রী ভবনের গলির বাসিন্দা মিনু দেবী| তিনি প্রধান সড়ক মোমিন রোডে হলেও একটা স্থায়ী ডাস্টবিনের ব্যবস্থা করার অনুরোধ জানান চসিক মেয়রের প্রতি|
নগরীর দক্ষিণ বাকলিয়া এলাকার ১৯ ন¤^র ওয়ার্ডের ইসহাক সওদাগর পুল সংলগ্ন সততা টাওয়ারের কেয়ারটেকার জানান, মেয়রের ঘোষণা শুনে সবাই খুশি হয়েছিলেন| কিন্তু এপ্রিলেও ময়লা নিতে আসা কর্মীরা টাকা চাইলে তারা মেয়রের ঘোষণার কথা স্মরণ করিয়ে দেন| তখন পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা জানায়, টাকা না দিলে বাসার ময়লা ডাস্টবিনে গিয়ে ফেলতে হবে| পরে বাধ্য হয়ে আগের মতোই প্রতি ফ্ল্যাট থেকে ৭০ টাকা করে দিতে হচ্ছে|
নগরীর চান্দগাঁও এলাকার ৪ ন¤^র ওয়ার্ডের বিসমিল্লাহ হাউজিং আবাসিক এলাকার বাসিন্দা আমেনা বেগম বলেন, ভেন্ডররা টাকা নিতে এলে আমরা মেয়রের ঘোষণার কথা বলি| তখন তারা বলেন, তাহলে চসিকের লোকজনকে এসে ময়লা নিয়ে যেতে বলেন| মেয়র মহোদয় নগরীর অভিভাবক| তার কথাই যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে আমরা কার কাছে যাব?
এ বিষয়ে চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, নগরবাসীর বিভিন্ন অভিযোগের কারণেই বাসাবাড়ির ময়লা অপসারণে টাকা নেওয়া বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে| তিনি জানান, চসিকের পরিচ্ছন্নতাকর্মীরাই বাসা থেকে ময়লা সংগ্রহ করবেন|
ময়লা সংগ্রহের বিনিময়ে কেউ যদি অর্থ দাবি করেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সুপারভাইজারকে জানাতে হবে| অভিযোগ পেলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে| ভেন্ডরদের বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ কার্যক্রম ইতোমধ্যে বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে| নগরবাসীকে ময়লা অপসারণের জন্য কাউকে কোনো টাকা না দেওয়ারও অনুরোধ জানান তিনি|
উল্লেখ্য, গত ২৩ ফেব্রুয়ারি নগরীর টাইগার পাসে চসিক কার্যালয়ে ডোর-টু-ডোর বর্জ্য সংগ্রহ কার্যক্রম নিয়ে ভেন্ডরদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এপ্রিল থেকে ভেন্ডরদের টাকা দিতে হবে না বলে ঘোষণা দেন মেয়র| ওই সভায় তিনি বলেন, ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ভেন্ডররা বাসাবাড়ি থেকে ময়লা সংগ্রহ করবেন এবং ফেব্রুয়ারির বকেয়া মার্চে সংগ্রহ করবেন| মার্চ থেকে চসিকের পরিচ্ছন্ন বিভাগে কর্মরত প্রায় দুই হাজার কর্মী বাসা থেকে বর্জ্য সংগ্রহ করবেন|
