ভুক্তভোগী সাংবাদিক দৈনিক কালবেলার সীতাকুণ্ড প্রতিনিধি এস এম ইকবাল হোসাইন জানান, তথ্য সংগ্রহ করতে গেলে তাকে ‘চাঁদাবাজ’ আখ্যা দিয়ে বহিরাগত লোকজন এনে প্রায় তিন ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। এ সময় তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়। তার অভিযোগ, হাসপাতালের মালিকপক্ষের নির্দেশেই এ ঘটনা ঘটে।
অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালটিতে অপ্রয়োজনীয়ভাবে সিজার করানো, অতিরিক্ত টেস্টের মাধ্যমে অর্থ আদায়সহ নানা অনিয়ম চলছে। ভুক্তভোগীদের দাবি, স্বাভাবিক ডেলিভারির ক্ষেত্রেও রোগীদের সিজারে বাধ্য করা হয় এবং রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হলেও অন্যত্র নিতে নিরুৎসাহিত করা হয়।
এক ভুক্তভোগী জানান, তার স্ত্রী সন্তান প্রসবের সময় নবজাতক হারান এবং জটিলতার কারণে ভবিষ্যতে সন্তান ধারণের সম্ভাবনাও ক্ষীণ হয়ে পড়ে। অন্য একজন অভিযোগ করেন, ভুল চিকিৎসার কারণে তার ভাইয়ের নবজাতক স্থায়ীভাবে প্রতিবন্ধী হয়ে গেছে।
ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় সাংবাদিকরা ঘটনাস্থলে গেলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। পরে অভিযুক্ত মালিক অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ দেখাতে না পেরে দুঃখ প্রকাশ করেন বলে জানা গেছে।
পরে সীতাকুণ্ড প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক কাইয়ুম চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আবদুল্লা আল ফারুকের নেতৃত্বে সহকর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বিকেল ৩টার দিকে ওই সাংবাদিককে উদ্ধার করেন। এ সময় সংশ্লিষ্টরা অভিযোগ করেন, ঘটনাটিকে ভিন্নখাতে নিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম স্বাস্থ্য বিভাগের বিভাগীয় পরিচালক শেখ ফজলে রাব্বি বলেন, তথ্য সংগ্রহে গিয়ে সাংবাদিককে হেনস্তা করা নিন্দনীয়। তিনি ঘটনার তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
