গ্রেপ্তার ব্যক্তি আরিফ মাঈনুদ্দিন (৫০)। শনিবার (২১ মার্চ) রাতে কক্সবাজারের চকরিয়া এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (২২ মার্চ) দুপুরে রাজধানীর ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তার প্রতারণার বিস্তারিত তুলে ধরে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
ডিবির অতিরিক্ত কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম জানান, আরিফ মাঈনুদ্দিন ভুয়া প্রজ্ঞাপন তৈরি করে দাবি করেন যে, গত ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি প্রতিমন্ত্রীর পদমর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। ওই ভুয়া প্রজ্ঞাপন তিনি সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানে পাঠান।
পুলিশ জানায়, তিনি ভুয়া ভিজিটিং কার্ড তৈরি করে বিভিন্ন দপ্তরে ব্যবহার করেন এবং পুলিশের বিভিন্ন ইউনিটের কাছে আর্থিক সুবিধা দাবি করেন। এমনকি তাকে অফিস বরাদ্দ দেওয়ার জন্যও অনুরোধ করেন। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছেও চিঠি দিয়ে তিনি সুবিধা চান। বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে এক হাজার কোটি টাকা ঋণের আবেদনও করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, “আরিফ মাঈনুদ্দিন বিভিন্ন ধরনের প্রতারণায় লিপ্ত। তার মোবাইল ফোন যাচাই করে অসংখ্য প্রতারণার তথ্য পাওয়া গেছে। ফরেনসিক পরীক্ষা শেষে আরও ভুক্তভোগীর তথ্য পাওয়া যাবে।”
তিনি আরও জানান, আরিফ মাঈনুদ্দিনের বিরুদ্ধে আগেও একটি সাইবার অপরাধের মামলায় চার বছরের সাজা হয়েছিল। সেই মামলার বিষয়েও খোঁজ নেওয়া হচ্ছে।
পুলিশের দাবি, ‘গুম কল্যাণ ট্রাস্টের’ সদস্য সচিব পরিচয় দিয়ে তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে নগদ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা পরিচয়ের ভুয়া গেজেট, প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ছবি সংবলিত ভিজিটিং কার্ড এবং দুটি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন ঈদ উপলক্ষে নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডিবির এই কর্মকর্তা বলেন, “পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। কিছু সদস্য ছুটিতে থাকলেও প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি রয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের কোনো ঘটনা ঘটেনি।”
