মূল সংবাদে যান
অপরাধ

জঙ্গল সলিমপুরে বিশাল যৌথ অভিযান: অস্ত্র কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ২২

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারীজঙ্গল সলিমপুরে বিশাল যৌথ অভিযান: অস্ত্র কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ২২ চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুরে বাহিনীর বিশাল যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ দেশি-বিদেশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
জঙ্গল সলিমপুরে বিশাল যৌথ অভিযান: অস্ত্র কারখানার সন্ধান, গ্রেপ্তার ২২

তিন হাজারের বেশি সদস্যের অংশগ্রহণে পরিচালিত এই অভিযানে ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক আইনে সীতাকুণ্ড থানায় তিনটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই অভিযানের মাধ্যমে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। ভবিষ্যতে জঙ্গল সলিমপুরে অপরাধীদের লুকিয়ে থাকার সুযোগ থাকবে না। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) দুপুরে নগরের খুলশী এলাকায় চট্টগ্রাম রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে চট্টগ্রাম রেঞ্জের ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ এসব তথ্য জানান।

ডিআইজি বলেন, সোমবার ভোর থেকে জঙ্গল সলিমপুরের দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে ব্যাপক চিরুনি অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে মোট ২২ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে তিনটি আগ্নেয়াস্ত্র—একটি বিদেশি পিস্তল, একটি দেশীয় পিস্তল ও একটি এলজি—উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি ২৭টি পাইপগান, ৩০টি পিস্তলের ম্যাগাজিন, অস্ত্র তৈরির ৫৭টি পাইপ, ৬১টি কার্তুজ এবং বিভিন্ন ধরনের এক হাজার ১১৩ রাউন্ড গুলি জব্দ করা হয়। এছাড়া ১১টি ককটেল, পাইপগান তৈরির লেদ মেশিনসহ বিপুল পরিমাণ অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিআইজি জানান, অভিযানের সময় অপরাধীদের নজরদারি কার্যক্রমে ব্যবহৃত ১৯টি সিসিটিভি ক্যামেরা, তিনটি ডিভিআর, একটি পাওয়ার বক্স এবং দুটি বাইনোকুলারও উদ্ধার করা হয়েছে। এসব সরঞ্জাম ব্যবহার করে অপরাধীরা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করত বলে ধারণা করা হচ্ছে। জঙ্গল সলিমপুরের আলীনগর এলাকার বিভিন্ন পাহাড়ে সন্ত্রাসীদের আস্তানা ও অস্ত্র তৈরির কারখানা গড়ে তোলা হয়েছিল। অভিযানে এসব আস্তানা ধ্বংস করা হয়েছে এবং পাহাড়ের চূড়ায় স্থাপিত বেশ কয়েকটি নজরদারি টাওয়ার ভেঙে দেওয়া হয়েছে।

ডিআইজি আরও জানান, এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের পুনরায় সংগঠিত হওয়ার সুযোগ বন্ধ করতে জঙ্গল সলিমপুরে দুটি অস্থায়ী পুলিশ ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। এর একটি এস এম পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায়, যেখানে জেলা পুলিশ ও আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের ১৩০ জন সদস্য মোতায়েন রয়েছে। অন্যটি আলীনগর উচ্চ বিদ্যালয় এলাকায়, যেখানে রেঞ্জ রিজার্ভ ফোর্স, এপিবিএন ও র‌্যাব-৭-এর প্রায় ২৩০ জন সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি এলাকায় চেকপোস্ট ও টহল জোরদার করা হয়েছে।

জেলা পুলিশ জানায়, প্রায় ১০০ একর এলাকাজুড়ে বিস্তৃত জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘদিন ধরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড, অবৈধ অস্ত্র মজুত, পাহাড় কেটে প্লট বিক্রি এবং অপরাধীদের আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে এলাকায় ইয়াসিন গ্রুপ, রোকন গ্রুপ ও রিদোয়ান গ্রুপসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর আধিপত্য ছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।

গত সোমবার পরিচালিত অভিযানে প্রায় ৫৫০ জন সেনাসদস্য, ১ হাজার ৮০০ পুলিশ সদস্য, ৩৩০ জন এপিবিএন, ৪০০ র‌্যাব সদস্য এবং ১২০ বিজিবি সদস্যসহ মোট তিন হাজারের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য অংশ নেন। অভিযানে ১৫টি আর্মড পার্সোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), তিনটি হেলিকপ্টার, ১২টি ড্রোন এবং তিনটি ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করা হয়। জেলা প্রশাসনের সাতজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটও অভিযানে উপস্থিত ছিলেন।

সম্পর্কিত বিষয়

  • অস্ত্র কারখানা
  • সলিমপুর

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন