গত রবিবার (১ মার্চ) দিবাগত মধ্যরাতে নগরের ১৬টি থানা এলাকায় একযোগে চালানো এ অভিযানে মোট ৬৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এসময় একটি দেশীয় এলজি, তিনটি ছোরা, শর্টগানের ১২টি কার্তুজ, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ছুরি, তিনটি দা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।
সিএমপি সূত্র জানায়, গ্রেপ্তারদের মধ্যে কোতোয়ালী থানা এলাকায় ১৩ জন, সদরঘাটে ৩ জন, চকবাজারে ৪ জন, বাকলিয়ায় ৩ জন, খুলশীতে ২ জন, বায়েজিদে ৮ জন, পাঁচলাইশে ৩ জন, চান্দগাঁওয়ে ৬ জন, পাহাড়তলীতে ১ জন, আকবরশাহে ২ জন, ডবলমুরিংয়ে ৫ জন, বন্দরে ১ জন, ইপিজেডে ৪ জন, পতেঙ্গায় ৮ জন এবং কর্ণফুলীতে ২ জন রয়েছেন। গ্রেপ্তারদের মধ্যে মাদক সংক্রান্ত মামলার আসামি ৫ জন, ছিনতাইকারী ৪১ জন, চাঁদাবাজ ৫ জন, জুয়াড়ি ২ জন এবং কিশোর গ্যাংয়ের ১২ সদস্য রয়েছে। অভিযানে একটি দেশীয় এলজি, তিনটি ছোরা, শর্টগানের ১২টি কার্তুজ, পিস্তলের ১০ রাউন্ড গুলি, দুটি ছুরি, তিনটি দা ও একটি চাপাতি উদ্ধার করা হয়।

এছাড়া সর্বমোট ৪৬৯ পিস ইয়াবা জব্দ করা হয়েছে। এর মধ্যে বাকলিয়া থানা এলাকা থেকে ১০০ পিস, বায়েজিদ থেকে ১৪ পিস, বন্দর থানা এলাকা থেকে ৪৭ পিস পরিত্যক্ত অবস্থায়, ইপিজেড থেকে ২০০ পিস এবং পতেঙ্গা থেকে ১০৮ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের পাহারায় থাকা অবস্থায়ও ব্যবসায়ীর বাড়িতে গুলির ঘটনার পর রবিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে জরুরি সংবাদ সম্মেলনে ‘সিমালটেনিয়াসলি ড্রাইভ’ সংক্ষেপে ‘এস ড্রাইভ’ ঘোষণার মাধ্যমে অভিযানের সূচনা করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে সিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ওয়াহিদুল হক চৌধুরী জানান, মেট্রোপলিটন এলাকার সব পর্যায়ের কর্মকর্তা ও সদস্যদের নিয়ে একযোগে এ অভিযান পরিচালিত হচ্ছে। কোনো একটি আস্তানায় হানা দিলে যাতে অন্য স্থানে থাকা অপরাধীরা পালিয়ে যেতে না পারে, সে জন্য একই সময়ে বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। ওসি থেকে অতিরিক্ত কমিশনার পর্যন্ত সব কর্মকর্তা এতে অংশ নিয়েছেন।”
তবে অভিযান শুরুর আগেই সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আগাম ঘোষণা দেওয়াকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনায় অনেকেই প্রশ্ন তুলেছেন, আগাম ঘোষণা মূল অপরাধীদের পালানোর সুযোগ তৈরি করতে পারে কি না।
ওয়াহিদুল হক চৌধুরী বলেন, একটি ঘটনায় নগরবাসীর মনে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। সেই আশঙ্কা দূর করতেই এ অভিযান। অস্ত্রের উৎস সম্পর্কে নিশ্চিত না হলেও ধারণা করা হচ্ছে, সেগুলো পাহাড়ি সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে সংগ্রহ করা হতে পারে। তদন্তের স্বার্থে আসামিদের নাম-পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। ১০টি দলে ভাগ হয়ে নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চলছে। অপরাধীদের গ্রেপ্তার ও অস্ত্র উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত ‘এস ড্রাইভ’ অব্যাহত থাকবে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) সকালে স্মার্ট গ্রুপের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমানের বাসায় আধুনিক ও স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র দিয়ে গুলিবর্ষণের ঘটনার পর থেকেই গোয়েন্দা নজরদারি বাড়ানো হয়। পুলিশ জানায়, অভিযুক্তদের ইতোমধ্যে শনাক্ত করা হয়েছে এবং তাদের সম্ভাব্য আস্তানায় অভিযান চলছে। নগরের প্রবেশমুখে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
