ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হওয়ার পরও দীর্ঘদিন তাদের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নেওয়ায় কোম্পানি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে। অবশেষে বৃহস্পতিবার পৃথক তিনটি আদেশে লেবার ইউনিয়নের এই নেতাদের বরখাস্ত করা হয়।
সাময়িকভাবে বরখাস্ত হওয়া নেতারা হলেন—সিবিএ সভাপতি মোহাম্মদ আবুল হোসেন, কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন টুটুল এবং সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুব।
জানা যায়, সংশ্লিষ্ট তিন নেতার বিরুদ্ধে শুধু ফৌজদারি মামলাই নয়, কোম্পানিতে কোটি কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে তাদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তদন্ত ও বিভাগীয় প্রক্রিয়ার অগ্রগতির ওপর পরবর্তী ব্যবস্থা নির্ভর করবে বলে জানিয়েছে কোম্পানি কর্তৃপক্ষ।
কোম্পানি সূত্রে জানা গেছে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর বরখাস্তের সিদ্ধান্ত কার্যকর করা হয়েছে। এর আগে গ্রেপ্তার ও কারাগারে থাকার পরও তারা চাকরিতে বহাল থাকায় বিভিন্ন মহলে আলোচনা–সমালোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে অতীতে গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সাময়িক বরখাস্তের নজির থাকলেও এ ক্ষেত্রে মাসের পর মাস অতিবাহিত হওয়ায় প্রশ্ন ওঠে।
গত বছরের ২০ জুলাই নগরের ইপিজেড থানার সিমেন্ট ক্রসিং এলাকা থেকে যমুনা অয়েল কোম্পানি লেবার ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ আবুল হোসেনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরবর্তীতে ২০২৪ সালের জুলাই–আগস্টে আন্দোলন চলাকালে সহিংসতার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন আদালত।
অন্যদিকে ১২ ডিসেম্বর নগরের আগ্রাবাদ এলাকা থেকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ এয়াকুবকে গ্রেপ্তার করে। তাকেও একই সময়ের সহিংসতার মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে দুজনই কারাগারে রয়েছেন।
কার্যকরী সভাপতি জয়নাল আবেদীন টুটুল গত বছরের জুলাই-পরবর্তী পরিস্থিতির পর থেকে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন বলে জানা গেছে। তার বিরুদ্ধেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি ইউনিয়নের দায়িত্ব পালন করছিলেন।
কর্তৃপক্ষ জানায়, সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮-এর দশম অধ্যায়ে উল্লেখ আছে, কোনো কর্মচারী ফৌজদারি মামলায় গ্রেপ্তার হলে বা তার বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র গৃহীত হলে নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ তাকে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারে। সংশ্লিষ্টদের ক্ষেত্রে সেই বিধান প্রয়োগ করেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
