চট্টগ্রাম–৯ (কোতোয়ালি–বাকলিয়া) আসনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হকসহ তিন প্রার্থীর আবেদন নামঞ্জুর করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ফলে তারা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশ নিতে পারছেন না।
সোমবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত আপিল শুনানির তৃতীয় দিনে এসব সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়।
ইসির সিদ্ধান্তে বহাল থাকা প্রার্থীরা হলেন—চট্টগ্রাম–৯ আসনের জামায়াত প্রার্থী ডা. এ কে এম ফজলুল হক, চট্টগ্রাম–৩ সন্দ্বীপ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. মোয়াহেদুল মাওলা এবং চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনের গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মুহাম্মদ নেজাম উদ্দিন।
ডা. ফজলুল হকের মনোনয়নপত্র দ্বৈত নাগরিকত্ব সংক্রান্ত জটিলতার কারণে বাতিলই থাকছে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে দাখিল করা হলফনামায় যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব ত্যাগের কথা উল্লেখ থাকলেও এর পক্ষে প্রয়োজনীয় দালিলিক প্রমাণ জমা না দেওয়ায় তার মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়। নির্বাচন কমিশন আপিলেও সেই সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছে।
ডা. ফজলুল হকের আইনজীবী, সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের সিনিয়র অ্যাডভোকেট ব্যারিস্টার মুহাম্মদ বেলায়েত হোসেন জানান, নির্বাচন কমিশনের এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে হাইকোর্ট বিভাগে রিট পিটিশন দায়ের করা হবে।
অন্যদিকে, একই দিনে আপিলে চট্টগ্রামের তিন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন। তারা হলেন—চট্টগ্রাম–৭ রাঙ্গুনিয়া আসনে আমার বাংলাদেশ পার্টির প্রার্থী মো. আব্দুর রহমান, চট্টগ্রাম–৯ কোতোয়ালি আসনে নাগরিক ঐক্যের প্রার্থী মো. নুরুল আবছার মজুমদার এবং চট্টগ্রাম–১৬ বাঁশখালী আসনে গণঅধিকার পরিষদের প্রার্থী মো. আরিফুল হক।
এর আগে গত ১০ জানুয়ারি চট্টগ্রাম–১১ বন্দর–পতেঙ্গা আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী মো. নূর উদ্দিন আপিলে প্রার্থিতা ফিরে পান। এ নিয়ে ইসির আপিল শুনানিতে চট্টগ্রামের মোট চারজন প্রার্থী তাদের প্রার্থিতা ফিরে পেলেন।
এদিকে চট্টগ্রাম–৫ হাটহাজারী আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার শাকিলা ফারজানা মনোনয়নপত্র বাতিলের বিরুদ্ধে দায়ের করা আপিল প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ ইমাম উদ্দিন রিয়াদের আপিল আবেদন এখনও নিষ্পত্তি হয়নি; তার শুনানি আগামী ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
