শুক্রবার (১৯ ডিসেম্বর) লক্ষ্মীপুর জেলা সদরের সুমনের বাড়ির মাটির নিচ থেকে অস্ত্রটি উদ্ধার করে বলে নিশ্চিত করেছেন চট্টগ্রাম নগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) সহকারী কমিশনার গণমাধ্যম আমিনুর রশিদ।
আমিনুর রশিদ বলেন, ঢাকার শেরেবাংলা এলাকা থেকে সুমন হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তার কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তার ঘরের মাটির নিচ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সুমন স্বীকার করেন, গত বছরের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম নগরের হালিশহর থানা থেকে অস্ত্রটি লুট করেছিল। এ ঘটনায় আসামির বিরুদ্ধে থানায় মামলা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, গত বৃহস্পতিবার (১৮ ডিসেম্বর) মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (পশ্চিম) বিভাগের কাছে গোপন সংবাদ আসে যে, চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন থানা থেকে লুণ্ঠিত অস্ত্রের মধ্যে একটি অস্ত্র বর্তমানে একজনের হেফাজতে রয়েছে। পুলিশ পরিদর্শক (নিঃ) মোহাম্মদ মজিবুর রহমানের নেতৃত্বে একটি চৌকস আভিযানিক দল লুণ্ঠিত সরকারি অস্ত্র উদ্ধার ও আসামি গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান পরিচালনা করে।
অভিযানের এক পর্যায়ে ঢাকা মহানগরীর শেরেবাংলা নগর থানাধীন এলাকা থেকে সুমন হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার কাছে একটি লুণ্ঠিত সরকারি পিস্তল ও ম্যাগাজিন রয়েছে বলে স্বীকার করেন।
পরবর্তীতে শুক্রবার আভিযানিক দল আসামিকে সঙ্গে নিয়ে তার স্থায়ী ঠিকানা লক্ষ্মীপুর জেলায় অভিযান পরিচালনা করে। আসামির দেখানো মতে তার বাড়ির মাটির নিচ থেকে সাদা পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় একটি সচল প্লাস্টিকের বাটযুক্ত ৯ এমএম তরাশ বিদেশি পিস্তল এবং একটি ৯ এমএম তরাশ পিস্তলের খালি ম্যাগাজিন উদ্ধার করা হয়।
উদ্ধারকৃত অস্ত্র ও ম্যাগাজিন উপস্থিত সাক্ষীদের সম্মুখে জব্দ করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামি জব্দকৃত বিদেশি পিস্তলের বিষয়ে কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি। এ ঘটনায় লক্ষ্মীপুর সদর থানায় মামলা রুজু করা হয়েছে।
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, উদ্ধারকৃত পিস্তল ও ম্যাগাজিন ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট চট্টগ্রাম মহানগরীর হালিশহর থানা থেকে লুট করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম শহরের আটটি থানা ও আটটি ফাঁড়ি থেকে ৯৪৫টি অস্ত্র লুট হয়েছিল। এর মধ্যে গত সেপ্টেম্বর পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৭৮০টি অস্ত্র। যেসব অস্ত্র উদ্ধার হয়নি, সেসব অস্ত্র বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যবহৃত হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
