এর মধ্যে বাবলা হত্যার মূল সন্দেহভাজন মো. আলাউদ্দিন, মো. হেলাল (৪০), সহ অন্য মামলায় ইশতিয়াক চৌধুরী ওরফে অভি, মো. আরমান আলী রাজ (২৭), মো. জনি (৩৮) ও মাহমুদুল হক জ্যাকি (৩৫) রয়েছে। শুক্রবার (৭ নভেম্বর) সকালে সংস্থাটি এই তথ্য নিশ্চিত করেন যে, রাতে পরিচালিত এক অভিযানে র্যাব-৭ চট্টগ্রাম নগরের বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে ওভিসহ ছয়জনকে গ্রেপ্তার করে।
র্যাব-৭ এর সিনিয়র সহকারী পরিচালক মোজাফ্ফর হোসেন জানান, ছয়জনকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সাম্প্রতিক সময়ে রাউজান উপজেলায় সন্ত্রাস সৃষ্টি এবং একাধিক গুলি চালানোর ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে। একারণে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তারা সরোয়ার হোসেন বাবলা হত্যা, এরশাদ উল্লাহর ওপর হামলা, মোহাম্মদ ইদ্রিসের গুলিবিদ্ধ হওয়া এবং রাউজানে চলমান সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত। গ্রেফতারকৃত আসামীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ নভেম্বর মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন এলাকায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ এর জনসংযোগ চলাকালীন সময় পূর্ববিরোধের জেরে একদল অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী জনসংযোগের ভিতরে প্রবেশ করে সরওয়ার হোসেন বাবলার বুকে অস্ত্র ঠেকিয়ে গুলি করে পালিয়ে যায়। এ ঘটনায় চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এরশাদ উল্লাহসহ ৩ জন গুলিবিদ্ধ।
গত ৬ নভেম্বর চট্টগ্রামের চালিতাতলী এলাকায় মাদক কারবারে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে প্রতিবন্ধী অটোচালক ইদ্রিস নামের একজন ব্যক্তিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। একই দিন মধ্য রাতে চট্টগ্রাম জেলার রাউজান থানাধীন কোয়েপাড়া এলাকায় প্রকাশ্যে গুলাগুলি ও রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় উপজেলা শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক আবদুল্লাহ সুমন, ইউনিয়ন কৃষক দলের সহসভাপতি মোঃ ইসমাইল, শ্রমিক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম চৌধুরী, যুবদলের সহসভাপতি রবিউল হোসেন রুবেল ও বিএনপি কর্মী মোহাম্মদ সোহেল গুলিবৃদ্ধ হয়।
র্যাব-৭ জানায়, সরওয়ার হোসেন বাবলা হত্যা মামলার আসামী মো. আলাউদ্দিন ও হেলাল (৪০) চান্দগাঁও থানাধীন হাজিরপুল এলাকায় অবস্থান করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে ৭ নভেম্বর সকাল ৭টায় র্যাব-৭ এর একটি আভিযানিক দল বর্নিত স্থানে অভিযান পরিচালনা করে তাদের গ্রেপ্তার করে।
এদিকে ৬ নভেম্বর মহানগরীর বায়েজিদ বোস্তামী এলাকায় রিক্সাচালক মোঃ ইদ্রিস’কে গুলি করে আহত করা সন্ত্রাসী মো. আরমান আলী রাজকে বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন রউফাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে ৭ নভেম্বর রাত ১২ টায় গ্রেপ্তার করা হয়। অপরদিকে মাহমুদুল হক জ্যাকি (৩৫), ইসতিয়াক চৌধুরী অভি (৩৮) ও মো. জনি (৩৮) চকবাজার থানাধীন সিরাজউদ্দৌলা রোডস্থ চন্দনপুরা সাকিনস্থ বাসা নং-১৫২ ইঞ্জিনিয়ার মো. শাহাজাহানের তিনতলা থেকে গ্রেপ্তার হন। তারা বাবলা হত্যার ঘটনায় অন্যতম সন্দেহজনক ব্যক্তি। তাদের কাছ থেকে ১ টি বিদেশী পিস্তল ও ম্যাগাজিসহ ৪ রাউন্ডস তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।
