মূল সংবাদে যান
অপরাধ

আইনি জটিলতায় নতুন অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া

চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন বার্থ ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর নিয়োগের প্রক্রিয়া আইনি জটিলতায় স্থগিত হয়েছে। বিদ্যমান অপারেটরদের বিরোধিতা ও একটি প্রতিষ্ঠানের দায়ের করা মামলার পরিপ্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত তিন মাসের জন্য প্রক্রিয়াটি স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
আইনি জটিলতায় নতুন অপারেটর নিয়োগ প্রক্রিয়া

একই সঙ্গে আদালত রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন—চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের পরিচালক (পরিবহন) স্বাক্ষরিত ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখের নিয়োগ সংক্রান্ত নোটিশটি কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না। এ বিষয়ে চার সপ্তাহের মধ্যে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরে ৬০ জনের মতো বার্থ ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর রয়েছেন।

বিচারপতি ফাহমিদা কাদের ও মোহাম্মদ আশিফ হাসান সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ গতকাল শুনানি শেষে আদেশে এম এইচ চৌধুরী লিমিটেডের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা খোন্দকার ফজলে আকবর মুরাদ রিটটি দায়ের করেন। মামলায় বিবাদী করা হয়েছে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, উপসচিব, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান, পরিচালক (পরিবহন) এবং সচিবকে। আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট নিয়াজ মুর্শেদ, আর রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোহাম্মদ শফিকুর রহমান, সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল মহিউদ্দিন মোহাম্মদ হানিফ, একরামুল কবির ও শেখ মোহাম্মদ ফয়জুল ইসলাম।

চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ চলতি বছর ‘শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর ও বার্থ অপারেটর লাইসেন্সিং নীতিমালা-২০২৫’ প্রণয়ন করে নতুন অপারেটর নিয়োগের উদ্যোগ নেয়। ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত আবেদন গ্রহণ করা হয় এবং বন্দরের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে বেশ কিছু আবেদন জমা পড়েছে। নীতিমালায় বলা হয়েছিল, আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোকে বন্দরে পণ্য বা কন্টেনার হ্যান্ডলিংয়ে অভিজ্ঞতা, প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও প্রশিক্ষিত জনবল থাকার প্রমাণ দিতে হবে। পাশাপাশি বেতন, ক্ষতিপূরণ ও বীমাসহ শ্রমিকদের আর্থিক নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, কর-ভ্যাট সনদ, ট্রেড লাইসেন্স ও জাতীয় পরিচয়পত্র দাখিল বাধ্যতামূলক করা হয়। লাইসেন্স আবেদনের জন্য ১ লাখ টাকার অফেরতযোগ্য পে-অর্ডার দাখিল করতে হতো।

চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, আগে যখন বছরে দুই লাখ টন পণ্য হ্যান্ডলিং হতো, তখনকার স্টিভিডোররাই এখন ১৩ কোটি টন পণ্য ও ৩৩ লাখ টিইইউএস কনটেইনার হ্যান্ডলিং করছেন। প্রতিযোগিতামূলক সেবা নিশ্চিত ও কার্যকারিতা বাড়াতে বন্দর কর্তৃপক্ষ নতুন অপারেটর নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়। তবে বিদ্যমান বার্থ ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটররা এই উদ্যোগের বিরোধিতা করেন, দাবি করেন—এতে বর্তমান অপারেটরদের ব্যবসায়িক স্বার্থ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে প্রায় ৬০টি বার্থ ও শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর কার্যক্রম পরিচালনা করছে। তারা জাহাজ থেকে পণ্য ও কন্টেনার খালাস এবং বন্দরে সরবরাহ কার্যক্রম সম্পাদন করে। নতুন অপারেটর নিয়োগের বিষয়ে আদালতের আদেশে তিন মাসের স্থগিতাদেশে কার্যক্রম আপাতত বন্ধ থাকলেও বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, বিষয়টি দ্রুত নিষ্পত্তি না হলে কার্যকারিতা ও প্রতিযোগিতা উন্নয়ন প্রক্রিয়া ব্যাহত হতে পারে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • চট্টগ্রাম বন্দর
  • নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন