এর আগে দুপুরে খাগড়াছড়ি সদর, পৌর এলাকা এবং গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়। জেলা প্রশাসনের এক পরিপত্রে বলা হয়, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ও জনসাধারণের জানমালের ক্ষতির আশঙ্কায় শনিবার দুপুর ২টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এ আদেশ বলবৎ থাকবে।
‘জুম্ম ছাত্র জনতা’ নামে একটি সংগঠনের ডাকে শনিবার সকাল থেকে খাগড়াছড়িতে সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ চলছিল। অবরোধের শুরু থেকেই বিক্ষোভকারীরা জেলা সদরের চেঙ্গী ব্রিজ, চেঙ্গী স্কয়ার ও মহাজন পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে এবং গাছের গুঁড়ি ফেলে পিকেটিং করে।
অবরোধের কারণে সাজেকে বেড়াতে গিয়ে প্রায় দুই হাজার এবং সাজেকগামী আরও প্রায় এক হাজার পর্যটক খাগড়াছড়িতে আটকা পড়েন। এছাড়া দূরপাল্লার যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন। সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সাজেকে আটকে পড়া পর্যটকদের নিরাপদে ফিরিয়ে আনার চেষ্টা চলছে বলে জানা গেছে।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার খাগড়াছড়ি সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় এক মারমা স্কুলছাত্রীকে দলবদ্ধ ধর্ষণের অভিযোগে তিনজনকে অজ্ঞাত আসামি করে মামলা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ একজনকে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাকে ছয় দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছে।
এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’ বুধবার থেকে বিক্ষোভ শুরু করে। একই দাবিতে তারা বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বর) আধাবেলা অবরোধ এবং শুক্রবার মহাসমাবেশ করে। সেই সমাবেশ থেকেই শনিবারের এ অবরোধ কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়। সংগঠনটির এ আন্দোলনে ইউপিডিএফ সমর্থিত পাহাড়ী ছাত্র পরিষদ, হিল উইমেন্স ফেডারেশন ও গণতান্ত্রিক যুব ফোরাম সংহতি জানিয়েছে।
