মূল সংবাদে যান
অপরাধ

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শতশিক্ষার্থীর ক্লাস, প্রধানশিক্ষকবিহীন ১০ বছর

চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির ডলু রাবারবাগান সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রায় একশ শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। দেয়াল-ছাদ থেকে খসে পড়ছে পলেস্তারা, বেরিয়ে এসেছে মরিচাধরা রড, সামান্য বৃষ্টিতেই চুঁইয়ে পড়ছে পানি।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে শতশিক্ষার্থীর ক্লাস, প্রধানশিক্ষকবিহীন ১০ বছর

অথচ ২০২৩ সালেই ভবনটি ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ ঘোষণা করে পরিত্যক্ত ঘোষণা করা হয়েছিল। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এখনও সেই ভবনের দুটি কক্ষেই চলছে পাঠদান। ফলে ভর্তির হারও ক্রমশ কমছে।

১৯৯৪ সালে নির্মিত ভবনটি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগে দ্রুত জরাজীর্ণ হয়ে পড়ে। ২০১৩ সালে জাতীয়করণ হওয়া বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত উন্নীত করা হয়। এখন প্রায় ১০০ শিক্ষার্থীর জন্য কর্মরত আছেন মাত্র ৪ শিক্ষক। তারমধ্যে প্রধান শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে টানা ১০ বছর।

শিক্ষার্থীরা জানায়, বৃষ্টির সময় ছাদ দিয়ে পানি পড়ায় বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। প্রায়ই মাথার ওপর ছাদ থেকে পলেস্তারা খসে পড়ায় আতঙ্কে ক্লাস করতে হয়।

ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, “আমরা বিষয়টি জানি, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে জানানো হবে।”

অভিভাবকরা বলেন, “সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে সারাক্ষণ ভয়ে থাকতে হয়। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ না হলে অন্য স্কুলে ভর্তি করতে বাধ্য হবো। বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে সীমানা প্রাচীর না থাকায় মহাসড়ক লাগোয়া মাঠে শিক্ষার্থীরা খেলতে পারে না। অস্বাস্থ্যকর শৌচাগার ও আসবাবপত্র সংকটও শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য ও পাঠদানে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক জুবেদা খানম বলেন, “ স্কুল ভবনের এমন নাজুক পরিস্থিতির কারণে আমরা নিজেরাই ভয়ে থাকি। আর প্রতিদিন ভয় নিয়ে ক্লাস চালাতে হচ্ছে। নতুন ভবনের জন্য বহুবার আবেদন করলেও কোনো ব্যবস্থা নেয়া হয়নি।”

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা হাসান মুরাদ চৌধুরী জানান, “বিদ্যালয়টি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। দ্রুত নতুন ভবনের প্রস্তাব পাঠানো হবে।”

জানা যায়, ১৯৮৯ সালে চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে ৩৩ শতক জমির ওপর বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। ২০১৩ সালে এটি জাতীয়করণ হয়। কিন্তু ৩০ বছরের মাথায় এসে ভবনটি ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করায় ভবনটি দ্রুত জরাজীর্ণ হয়ে যায়।

মূল ভবন পরিত্যক্ত ঘোষণার পর একটি আধা-পাকা টিনশেড ঘর নির্মাণ করা হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকট কাটেনি। বর্তমানে প্রাক-প্রাথমিক থেকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত প্রায় ১০০ জন শিক্ষার্থীর জন্য ৬ জন শিক্ষকের মধ্যে কর্মরত আছেন মাত্র ৪ জন। ১০ বছর ধরে শূন্য রয়েছে প্রধান শিক্ষকের পদ।

সম্পর্কিত বিষয়

  • প্রধানশিক্ষক
  • ঝুঁকিপূর্ণ ভবন
  • শিক্ষার্থী

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন