মূল সংবাদে যান
অপরাধ

গ্যাসকূপে ৬৫ বছর আগে রহস্যাবৃত সিসা ঢালাই

চট্টগ্রামের বাঁশখালীর জলদী পাহাড়ে প্রায় ৬৫ বছরেরও বেশি সময় আগে খনন করা তিনটি তেল-গ্যাস কূপের মুখ ‘অদৃশ্য কারণে’ সিসা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হলেও আশপাশের ফাটল দিয়ে এখনও গ্যাস নির্গত হচ্ছে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
গ্যাসকূপে ৬৫ বছর আগে রহস্যাবৃত সিসা ঢালাই

এ দৃশ্য বিপুল পরিমান গ্যাস মজুদের সম্ভাবনা জাগিয়েছে জানিয়ে স্থানীয়রা পুনরায় অনুসন্ধানের দাবি করেন।

বাঁশখালী উপজেলার লবণের মাঠে নলকূপ স্থাপন করতে গিয়ে পানির বদলে পাওয়া গেছে প্রাকৃতিক গ্যাস। সেই গ্যাস থেকে জ্বলছে আগুনও । নলকূপে আগুন জ্বলার এ খবর স্থানীয়দের মধ্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। উৎসুক মানুষরা এমন দৃশ্য দেখার জন্য ভিড় জমাতে থাকেন ওই এলাকায়। চলতি বছরের ১০ জানুয়ারি দুপুরে উপজেলার চানুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামের নয়াপাড়ার পশ্চিম পাশে দুলা মিয়া নামে এক কৃষকের নলকূপে এ ঘটনা ঘটে। স্থানীয় প্রশাসন বিষয়টি বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডকে (বাপেক্স) অবহিত করার দাবি করলেও বাপেক্স কর্তৃপক্ষ তা অস্বীকার করেছে।

বাঁশখালীর ছনুয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হারুনুর রশিদ জানান, খুদুকখালী গ্রামের ১ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা দুলা মিয়া তার লবণের মাঠের জন্য পানি উত্তোলন করতে একটি নলকূপ স্থাপনের কাজ শুরু করেন। তিনি কূপের মধ্যে পাইপ ঢোকানোর প্রক্রিয়া শুরু করলে কূপের পাশের একটি গর্ত থেকে বাতাস বের হওয়ার শব্দ শুনতে পান। কৌতূহলী হয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের ঘটনাটি দেখার জন্য ডাকেন। আসলে কী ঘটছে বোঝার জন্য দুলা মিয়া নলকূপের মুখে আগুন জ্বালালে সবাইকে অবাক করে দিয়ে তা জ্বলতে শুরু করে। আমি তাৎক্ষণিক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও বাঁশখালী থানায় খবর দিয়েছি। খবর পাওয়ার পর পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে এসে প্রাথমিক পরিদর্শন করে গিয়েছেন।'

ইউএনও জেসমিন আখতার ১১ জানুয়ারি গ্যাস বের হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, চানুয়ার এ ঘটনা সম্পর্কে স্থানীয় চেয়ারম্যান তাকে অবগত করেছেন। আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শনে একজন প্রতিনিধি পাঠিয়েছি; তথ্যটি সত্য বলে মনে হয়েছে। বিষয়টি সম্পর্কে বাপেক্সকে মৌখিকভাবে জানিয়েছি। শিগগিরই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা করছি।'

১৯৬০ সালে তেল ও গ্যাস অনুসন্ধান করপোরেশন কোরিয়া ও রাশিয়ার বিশেষজ্ঞদের সহায়তায় বাঁশখালীর দো-চাইল্লা এলাকায় মোট আটটি কূপ খনন করে। এর মধ্যে তিনটিতে তেল-গ্যাসের উপস্থিতি নিশ্চিত হয়ে বিশেষজ্ঞরা প্রায় ৩০০ ব্যারেল অপরিশোধিত তেলও উত্তোলন করেন। কিন্তু রহস্যজনকভাবে হঠাৎ করেই ওই কূপগুলোর মুখ সিসা দিয়ে বন্ধ করে দেওয়া হয়।

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেডের (বাপেক্স) ভূতত্ত্ব বিভাগের ব্যবস্থাপক আলমগীর হোসেন বলেন, “১৯৬০ সালে খননের পর থেকে আর কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। কূপগুলো সিসা দিয়ে বন্ধ করার কারণও অজানা।”

স্থানীয়দের বিশ্বাস, কূপগুলোতে এখনও বিপুল গ্যাস মজুদ রয়েছে। এলাকাবাসীর ভাষ্য, মুখ বন্ধ থাকলেও কূপের চারপাশের মাটির ফাটল দিয়ে নিয়মিত বুদবুদ আকারে গ্যাস বের হতে দেখা যায়। হয়তো আন্তর্জাতিক স্বার্থের কারণে কূপগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, যাতে ভবিষ্যতে এখান থেকে উত্তোলন বৈশ্বিক বাজারে প্রভাব না ফেলে। আধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে পুনরায় জরিপ চালালে দেশের জ্বালানি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে পারে। দ্রুত তদন্ত ও অনুসন্ধানের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন।

সম্পর্কিত বিষয়

  • গ্যাসকূপ
  • সিসা ঢালাই

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন