রবিবার (২৪ আগস্ট) সকালে ঢাকার একটি হোটেলে বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন ও সফররত পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয় বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে উভয়পক্ষ পারস্পরিক, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিষয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছে এবং বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, জ্বালানি, সংস্কৃতি, পর্যটন ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছে।
১৯৭১ সংক্রান্ত প্রশ্নের উত্তরে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এই বিষয়টি ১৯৭৪ সালেই চুক্তির মাধ্যমে নিষ্পত্তি হয়েছে এবং পরে জেনারেল পারভেজ মোশাররফও বাংলাদেশ সফরে ক্ষমা চেয়েছিলেন। তিনি বলেন, ইসলাম আমাদের শেখায়—ভাইয়ের সঙ্গে মন পরিষ্কার করতে হয়। তাই বারবার একই ইস্যু সামনে আনার পরিবর্তে সামনে এগোনো উচিত।
বৈঠকে বাংলাদেশ ভিসা প্রক্রিয়া সহজীকরণ, সমুদ্র ও বিমান যোগাযোগ পুনরায় চালু করা এবং বেসরকারি খাতের ভূমিকা জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে। পাকিস্তান ‘পাকিস্তান-বাংলাদেশ নলেজ করিডোর’ চালুর ঘোষণা দেয়, যার আওতায় আগামী পাঁচ বছরে বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য ৫০০টি বৃত্তি দেওয়া হবে। এর এক-চতুর্থাংশ চিকিৎসা শিক্ষার জন্য বরাদ্দ থাকবে।
বৈঠক শেষে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে কূটনৈতিক ও সরকারি পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা বাতিল, সাংস্কৃতিক বিনিময় কর্মসূচি এবং বাণিজ্য সহযোগিতার ছয়টি সমঝোতা স্মারক সই হয়।
উল্লেখ্য, পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার ২৩ আগস্ট দুই দিনের সফরে ঢাকায় আসেন। বৈঠক শেষে তিনি পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনকে ইসলামাবাদ সফরের আমন্ত্রণ জানান।
