সময়টা ছিল ৬ আগস্ট, সন্ধ্যা ছয়টা ১৯ মিনিট। সিসি ক্যামেরার ফুটেজ দেখে সেই ছিনতাইকারীদের চেহেরা চিহ্নিতও করা গেছে। কিন্তু চারদিন কেটে গেলেও তাদের এখনো ধরতে পারেনি পুলিশ।
জানা যায়, এস এম শাহরিয়ার হাসান আবুল খায়ের গ্রুপে চাকরি করেন মার্চেন্ডাইজার অফিসার হিসেবে। পাহাড়তলীর অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে যাওয়ায় বেতনের সেই ৫৮ হাজার টাকা আর ব্যাংকে জমা করতে পারেননি তিনি। পরে বেতনের টাকাটা পকেটে নিয়ে তিনি কর্ণফুলীর দৌলতপুরের বাড়িতে ফিরছিলেন। প্রতিদিনের মতো শাহ আমানত সেতু এলাকায় যেতে নিউমার্কেট মোড় থেকে টেম্পোতে ওঠতে যাচ্ছিলেন। ঠিক তখনই ছিনতাইকারীরা কৌশলে প্যান্টের বাম পকেটে থাকা টাকার খামটা নিয়ে ফেলেন।
এস এম শাহরিয়ার হাসান বলেন, ‘নিউমার্কেট মোড়ে এমনিতেই ভিড় লেগে থাকে। এর মধ্যে ওইদিন সেখানে বিএনপির সমাবেশ থাকায় ভিড় ছিল প্রকট। আমি ভিড় পেরিয়ে টেম্পোতে উঠার চেষ্টা করছিলাম। এমন সময়ে আমার পকেট থেকে টাকার খামটা নিয়ে ফেলে ছিনতাইকারীরা। পরে গাড়িতে উঠতে যাব-এমন সময়ে পকেট দেখি খালি খালি লাগে। তখন পকেটে হাত দিতেই দেখি টাকার খামটা নেই।’
দ্রুতই শাহরিয়ার হাসান ঘটনাস্থল থেকে ২-৩ মিনিট দূরত্বের কোতোয়ালী থানায় যান। সেখানে গিয়ে থানার ডিউটি অফিসারকে বিষয়টি খুলে বলেন। তিনি তাকে থানার সেকেন্ড অফিসারের সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। তবে ওই সময়ে সেই কর্মকর্তা ছিলেন না। এরপর একজনের মাধ্যমে শাহরিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবদুল করিমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। পরে পুরো বিষয়টি জেনে মোহাম্মদ শরীফ নামের একজন উপপরিদর্শককে এই বিষয়ে তদন্তের দায়িত্ব দেন ওসি।
এরইমধ্যে থানায় সংরক্ষিত ঘটনাস্থলের সিসি ক্যামেরার ফুটেজ শাহরিয়ারকে দেখায় পুলিশ। সেই ফুটেজ দেখার পর পুলিশ ও শাহরিয়ার নিশ্চিত হন ছিনতাইকারীদের বিষয়ে। তিনজন ছিনতাইকারী তাকে অনেক্ষণ ধরে টার্গেট করে পেছনে পেছনে হাঁটতে থাকে। ভিড়ের সুযোগে এক পর্যায়ে চারপাশ থেকে ধাক্কাধাক্কি করে টাকার খামটা পকেট থেকে নিয়ে নেয় তারা।
তবে সেই ভিডিও ফুটেজ পুলিশ শাহরিয়ারকে দেয়নি, শুধু ভিডিও থেকে ছবি তোলার সুযোগ দেয়। এই ঘটনায় পুলিশ কোনো সাধারণ ডায়েরিও (জিডি) নথিবদ্ধ করেনি। সেদিন রাত সাড়ে ১২টা পর্যন্ত থানায় থেকে বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার জন্য পুলিশের কাছে অনুরোধ করেন শাহরিয়ার। কারণ দীর্ঘদিন ধরে ডায়াবেটিস ও থায়রয়েডের সমস্যায় অসুস্থ মা আফরোজ বেগমের নিয়মিত চিকিৎসা-ওষুধের খরচ বহন করতে হয়।
শাহরিয়ার বলেন, ‘ভিডিও ফুটেজে ছিনতাইকারীদের চেহেরা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্লু-লেস ঘটনায়ও পুলিশ তদন্তের মাধ্যমে রহস্য উদঘাটন করে ফেলে। সেখানে আমার এই ঘটনায় তো ছিনতাইকারীদের শনাক্ত করা একেবারে সহজ। ঘটনাটি ঘটেছে, থানার একেবারে কাছেই।
কোতোয়ালী থানার ওসি মো. আবদুল করিম বলেন, ‘ওই তরুণকে আমার কাছে পাঠান। আমি বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা করছি।’
