বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে, কিডনি বিকল, ক্যানসার, লিভার ক্ষতিসহ অসংখ্য জটিল রোগের অন্যতম কারণ এই নকল ওষুধ।
অধ্যাপক ডা. হারুন অর রশীদ বলেন, “ভেজাল ও নকল ওষুধ সেবনে হঠাৎ বা দীর্ঘ মেয়াদে কিডনি বিকল হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি। কঠোর আইন প্রয়োগ ছাড়া মানুষের জীবন বাঁচানো সম্ভব নয়।”
সিন্ডিকেটের নেপথ্যে মিটফোর্ড মার্কেট: পুরান ঢাকার মিটফোর্ড ওষুধ মার্কেট দেশের সবচেয়ে বড় পাইকারি ওষুধের বাজার। এখান থেকেই রাজধানী ও গ্রামাঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ছে নকল ওষুধ। অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নেতৃত্বে গড়ে উঠেছে সুশৃঙ্খল এই সিন্ডিকেট। বিদেশি নামিদামি কোম্পানির ওষুধ নকল করে ইনসুলিন, এন্টিবায়োটিকসহ অত্যাবশ্যকীয় ওষুধও বাজারজাত করে থাকে।
একজন প্রাক্তন ব্যবসায়ী জানান, “সমিতির চাপে নকল ওষুধ বিক্রি না করে টিকে থাকা যায়নি। তাই ২০ বছরের ব্যবসা গুটিয়ে ধানমন্ডিতে চলে যাই।”
আইন প্রয়োগে সীমাবদ্ধতায় ওষুধ প্রশাসন দাবি করেন, তাদের অভিযান অব্যাহত আছে, তবু বাজারে দৃশ্যমান কোনো পরিবর্তন আসেনি। তবে দেশের ৯০% ওষুধের দোকানে ফার্মাসিস্ট নেই এবং মোবাইল কোর্টে অভিযান হলেও দীর্ঘমেয়াদী নজরদারি নেই।
আইন প্রয়োগে প্রমাণ, জব্দ ও তাৎক্ষণিক শাস্তির ব্যবস্থা দুর্বল জানিয়ে সাবেক ম্যাজিস্ট্রেট রোকন উদ-দৌলাহ বলেন, “নকল ওষুধ জব্দ করে উপস্থিত পরীক্ষার মাধ্যমে তাৎক্ষণিক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”
আশির দশকের ট্র্যাজেডি থেকে শিক্ষা হয়নি: ১৯৮০-এর দশকের শেষ দিকে ভেজাল প্যারাসিটামল সিরাপ খেয়ে ২,০০০ শিশু মৃত্যুবরণ করেছিল। তবুও নকল ওষুধ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
ক্যানসার বিশেষজ্ঞের ভাষায়, “প্রতিদিন কত মানুষ নকল ওষুধ খেয়ে মারা যাচ্ছে, তার সঠিক তথ্য নেই। প্রশাসনের মনিটরিং কার্যত শূন্য। সমাধানের পথ হিসেবে ওষুধ বিক্রির জন্য ফার্মাসিস্ট বাধ্যতামূলক করাসহ এন্টিবায়োটিক কিংবা প্রেসক্রিপশন ওষুধ ডাক্তারি পরামর্শ ছাড়া বিক্রি নিষিদ্ধ করা জরুরী।
নকল ওষুধ বিক্রেতার জন্য দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল কার্যকরী হতে হবে। আমদানিকৃত ওষুধ ও কসমেটিকসের শতভাগ ল্যাব টেস্ট বাধ্যতামূলক করতে হবে।
সিন্ডিকেট ধ্বংসে র্যাব ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ৫০ জনের সিন্ডিকেটে নকল ওষুধের বাজার মিটফোর্ড ওষুধ মার্কেটকে পুরোপুরি নজরদাড়িতে রাখতে হবে। কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা ছাড়া নকল ওষুধ বিক্রি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়।
পুরাতন ঢাকার মিটফোর্ডের মার্কেট থেকে রাজধানীসহ সারা দেশে বেশির ভাগ ওষুধ পাইকারি ক্রয় করে নিয়ে যান ব্যবসায়ীরা। মিটফোর্ড ওষুধ মার্কেটে অর্ধশতাধিক ব্যক্তির নেতৃত্বে একটি সিন্ডিকেট ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ওষুধ বাজারজাত নিয়ন্ত্রণ করে থাকে। ভেজাল, নকল ও নিম্নমানের ওষুধ উৎপাদন এবং বাজারজাতকারীর বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দায়িত্ব র্যাবকে দেওয়ার সুপারিশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
