মাছটি আগেই পচেগলে যাওয়ায় ময়নাতদন্ত সম্ভব হয়নি। তাই ময়না তদন্ত ছাড়াই নদীর পাড়ে মাটিচাপা দেন উদ্ধারকারী রামদাস মুন্সির হাট নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সদস্যরা। নৌ পুলিশের নির্লিপ্ততায় মা মাছ শিকার চলছে বলে জানান স্থানীয়রা। গতকাল সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে হাটহাজারীর দক্ষিণ মাদার্শা ইউনিয়নের শাহ মাদারী হ্যাচারি এলাকা থেকে মাছটি উদ্ধার করা হয়।
জানা যায়, গত ২২ জুন নদীর হাটহাজারী অংশের উত্তর মাদার্শা ইউনিয়নের রামদাস মুন্সির হাট থেকে ১২ ও ১৩ কেজি ওজনের দুটি মরা মা কাতলা উদ্ধার করে নৌ পুলিশ। গত ১৫ মে রাউজানের পশ্চিম গুজরা ইউনিয়নের আজিমের ঘাট এলাকা থেকে ১০ কেজি ওজনের মরা মা মৃগেল উদ্ধার করা হয়। সেটির পেট ডিমে ভরা ছিল বলে জানায় মৎস্য অধিদপ্তর। মাছটির শরীরে ধারালো কিছুর আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গিয়েছিল। একই স্থান থেকে গত ৪ মে ৫ কেজি ওজনের আরেকটি মরা মা কাতলা মাছ উদ্ধার করেছিলেন স্বেচ্ছাসেবকেরা।
এ ছাড়া গত বছরের জুন ও জুলাই মাসে ১২ দিনে ৬টি বড় মা মাছ ও ৩টি ডলফিন মরে ভেসে ওঠার ঘটনা ঘটেছিল। স্থানীয় লোকজনের অভিযোগ, নৌ পুলিশের নির্লিপ্ততায় হালদা নদীতে জাল পাতা, মাছ শিকারসহ নানা অবৈধ কার্যক্রম চলছে।
হালদার ডিম সংগ্রহকারী সমবায় সমিতির সাধারণ সম্পাদক রোশাঙ্গীর আলম বলেন, হালদায় গত ৩০ ও ২৭ মে দুই দফায় নদীতে ডিম ছাড়ে মা মাছ। এবার মোট ১৪ হাজার কেজি ডিম সংগ্রহ করি। হালদার একেকটা মা মাছের ডিম থেকে কয়েক কোটি টাকার মাছের উৎপাদন হয়। নদীতে মা মাছ মরে ভেসে যেতে দেখা যায় প্রায় সময়। প্রজনন মৌসুমে মা মাছের মৃত্যু তুলনামূলক বেশি দেখা যায়। তবে সব মরা মাছ উদ্ধার করা যায় না। তাঁদের চোখে যেগুলো পড়ে, সেগুলো তাঁরা উদ্ধার করে প্রশাসনকে জানান।
নৌ পুলিশ ফাঁড়ির সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মুহাম্মদ রমজান আলী বলেন, আমরা নিয়মিত টহলের সময় জোয়ারে ভেসে আসা মরা মৃগেল মাছটি নদীর মাঝখানে ভাসতে দেখি। পরে সেটি বোটে তুলে ডাঙায় নিয়ে এসে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করি। উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য অধিদপ্তর সপ্তাহে কয়েকবার অভিযান চালায়। তারা নিরাপত্তা দিয়ে সহযোগিতা করেন। সিসিটিভি ফুটেজে কোনো অবৈধ কার্যক্রম চোখে পড়লে তাঁরা নদীতে নামেন।
মৎস্য অধিদপ্তর ও হালদার স্বেচ্ছাসেবীরা জানান, বেশ কিছু দিন ধরে নদীতে একের পর এক মরা মা মাছ ভেসে যেতে দেখা যাচ্ছে। তবে ভেসে যাওয়া সব মা মাছ উদ্ধার করা সম্ভব হয় না। কারণ, সব সময় স্বেচ্ছাসেবীরা থাকেন না। প্রায় সময় মৃত মাছ জোয়ারে ভেসে চলে যায়। হালদার মা মাছ ও জীববৈচিত্র্য সুরক্ষায় ১০ কিলোমিটারজুড়ে ক্লোজ সার্কিট ক্যামেরা (সিসিটিভি) বসানো হয়েছে। এ ছাড়া নদীর হাটহাজারীর রাম দাশ মুন্সিরহাট অংশে একটি নৌ পুলিশ ফাঁড়িও রয়েছে। তবে এরপরও মা মাছের মৃত্যুর ঘটনা ঘটছে।