ঢাকার সিএমএম আদালতের প্রাঙ্গণে গত রোববার (২৭ জুলাই) বিকেল গ্রেপ্তারের ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
চাঁদাবাজি ও চেক উদ্ধার: ঘটনার সূত্রপাত এমন যেখানে শাম্মী আহমেদের বাসায় গিয়ে চাঁদা দাবির ব্যাপারে গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া শুরু হয়। একই সাথে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) নাখালপাড়ার ভাড়া বাড়ি থেকে প্রাপ্তবয়স্করা ২ কোটি ২৫ লাখ টাকার ৪টি চেক উদ্ধার করা হয়।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, এসব চেক সাবেক এমপি আবুল কালাম আজাদের ‘ট্রেড জোন’-এর কাছ থেকে, যার সঙ্গে আব্দুর রাজ্জাকসহ ছয়জন যুক্ত রয়েছে।
চেকের প্রক্রিয়া ও দাবি: ট্রেড জোনের ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলামের মতে, রাজ্জাকসহ ছয়জন ব্যক্তি সম্মিলিতভাবে মোট ৫ কোটি টাকার ১১টি চেক সংগ্রহ করার চেষ্টা করে। তবে এক বা একাধিক চেকের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক একাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকার কারণে অর্থ উত্তোলনের ব্যাপারে ব্যর্থতা ঘটে। এমন পরিস্থিতিতে রাজ্জাকসহ অভিযুক্তরা ট্রেড জোনের মালিককে হুমকি প্রদান করছিলেন বলে জানা যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, শাম্মী আহমেদের বাসায় প্রথমবার ১০ লাখ টাকার চেক গ্রহণের পরে, দ্বিতীয়বার চাঁদা নেওয়ার প্রচেষ্টায় ১৭ জুলাই ঘটনায় হাতেনাতে ধরা পড়েন রাজ্জাকসহ মোট পাঁচ জন, যার মধ্যে একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক। বাকি চারজন এখন রিমান্ডে রয়েছে। সেই সঙ্গে, রাজ্জাক ও অন্যান্য অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আরও চারজনকে গ্রেপ্তার করে অন্যান্য শাখা থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় কমিটিতেও বহিস্কারের চাপ তৈরি হয়েছে।
ঘটনাকালে অভিযুক্তরা ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে ভয় দেখিয়ে চাঁদাবাজি করত, যার মধ্যে এরা শেখ মুজিবুর রহমান ও শেখ হাসিনার ছবি নিয়ে বেড়ে ওঠেন এবং শাম্মী আহমেদের ছবি তুলে হুমকি প্রদান করে নগদ টাকা দাবী করত। পুলিশ সূত্র জানায়, উদ্ধারকৃত চেকে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সীল ও সই পাওয়া গেছে, তবে গ্রহীতা ও তারিখের ঘরের তথ্য ফাঁকা রয়েছে।
রাজনীতিক সম্পর্ক ও প্রভাব: সাবেক সংসদ সদস্য আবুল কালাম আজাদ, যিনি ২০০৯ ও ২০০৮ সালের নির্বাচনে জয়ী ছিলেন, রাজনীতি থেকে সরে গিয়েছিলেন বলে জানা গেছে। তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ‘ট্রেড জোন’ রংপুর-৬ আসনের অন্তর্গত অর্থনৈতিক কার্যক্রমের সঙ্গে এই মামলার সংযোগ তুলে ধরে, কিভাবে প্রাক্তন রাজনৈতিক চেনা থাকা কিছু ব্যক্তির ওপর আইন প্রয়োগে চাপ ও হুমকির মশাল জ্বলছে।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক নেতা আব্দুর রাজ্জাক বিন সোলাইমান (রিয়াদ) ও তার সমবেত অভিযুক্তরা শাম্মী আহমেদের বাসায় চাঁদা নেওয়ার অভিযোগে গ্রেপ্তারের মুখে পড়েন। ঘটনাস্থলে ২.২৫ কোটি টাকার চারটি চেক উদ্ধার হওয়া, ও পরিচালনায় হুমকি ও দুর্নীতির প্রতিফলন ঘটায়।
আর্থিক ব্যবসায়িক চুক্তির আঁধারে প্রাক্তন এমপি আবুল কালাম আজাদের ‘ট্রেড জোন’-এর সাথে জড়িত থাকার পাশাপাশি, রাজনৈতিক প্রভাব ও প্রত্যাশা মেলাও ঘটনার জটিলতা বাড়িয়েছে।