মূল সংবাদে যান
অপরাধ

চট্টগ্রাম কাঁপছে এখন টেম্পু বাহিনীর ত্রাসে

চট্টগ্রাম শহরের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ থানা বায়েজিদ, চান্দগাঁও ও পাঁচলাইশ এলাকা গত এক দশক ধরে রয়েছে এক কুখ্যাত সন্ত্রাসী চক্রের নিয়ন্ত্রণে।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চট্টগ্রাম কাঁপছে এখন টেম্পু বাহিনীর ত্রাসে

স্থানীয়রা একে বলেন “টেম্পু বাহিনী।” কিন্তু এই নামটি কোনো হালকা-পাতলা কিশোর গ্যাং নয়, বরং এটি এখন একটি পুরোপুরি সংঘবদ্ধ, অস্ত্রধারী ও রাজনৈতিক প্রভাবসম্পন্ন অপরাধ নেটওয়ার্ক—যাদের বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস পাচ্ছেন না এলাকাবাসী। এখন সময়—নিয়মিত ও দৃষ্টান্তমূলক অভিযানের। না হলে, এদের রক্তচক্ষু সমাজকে পুরোপুরি পঙ্গু করে দেবে।

টেম্পু’ একজন সহকারী থেকে ভয়ংকর এক গ্যাং লিডার। তার নাম ইসমাইল হোসেন, একসময় নিজেই ছিলেন একটি টেম্পু গাড়ির সহকারী। বাবার সঙ্গে রুটে চলাচলের সময় থেকেই তার সংস্পর্শ ঘটে স্থানীয় প্রভাবশালী ও অপরাধী মহলের। সেখান থেকেই শুরু অপরাধ জগতে পা রাখা। টেম্পু একা নন, তার পরিবারও জড়িত অপরাধের জালে। দুই ভাই খোকন ও ইদ্রিস ছিনতাই মামলায় একাধিকবার কারাবরণ করেছেন। ছোট ভাই সোহাগ পলাতক, আর মাদক ব্যবসায় জড়িত তার মা। পরিবারটি মূলত কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামের হলেও বর্তমানে চট্টগ্রামের শমসেরপাড়ায় বসবাস করছে।

চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) তথ্যমতে, বর্তমানে টেম্পুর বিরুদ্ধে ৩১টি মামলা রয়েছে—যার মধ্যে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, অস্ত্র ও মাদক আইনের ধারাসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ অন্তর্ভুক্ত। পুলিশের হাতে ১২ বার গ্রেপ্তার হলেও প্রতিবারই জামিনে বেরিয়ে এসে আরও দুর্ধর্ষ হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে টেম্পু একটি বিশাল কিশোর গ্যাং পরিচালনা করেন। এই সদস্যদের মধ্যে অনেকেই স্কুল-কলেজ পড়ুয়া, আবার কেউ কেউ ছিন্নমূল। এরা রাতভর বাইকে টহল দেয়, বাসাবাড়িতে হামলা চালায়, চাঁদা তোলে, মারধর ও অপহরণ করে।

স্থানীয়দের অভিযোগ—এই গ্যাংয়ের সদস্যরা রাজনৈতিক দলের পরিচয় দিয়ে সাধারণ মানুষকে ভয় দেখায়। পুলিশের উপস্থিতি টের পেলে এরা দ্রুত ছত্রভঙ্গ হলেও পরে এসে ভয়ঙ্করভাবে প্রতিশোধ নেয়। বিশেষ করে টেম্পুর নামেই এলাকাভিত্তিক চাঁদাবাজি চলে—টেম্পু, পিকআপ ও মালবাহী প্রতিটি গাড়ি থেকে প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ টাকা করে চাঁদা তোলা হয়। টেম্পু ও তার গ্যাং দীর্ঘদিন ধরে বিএনপির নাম ব্যবহার করে চট্টগ্রামে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়ে আসছে। টেম্পুর মতো অপরাধীরা কেবল আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য ভয়াবহ হুমকি। তারা কিশোরদের অস্ত্র তুলে দিচ্ছে—যার ফল এখনই দেখা যাচ্ছে, ভবিষ্যতে হবে বিস্ফোরণ।

চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক (দপ্তর) শওকত আজম খাজা জানান, “টেম্পুর সঙ্গে দলের কোনো সম্পর্ক নেই। সে দলের নাম ভাঙিয়ে অপরাধ করছে। তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানাব আমরা।”

গত ২১ জুলাই চান্দগাঁও থানার খতিবের হাট এলাকায় চাঁদার দখল নিয়ে টেম্পু বাহিনীর সঙ্গে শহিদুল ইসলাম ওরফে বুইশ্যা বাহিনীর মধ্যে সংঘর্ষ হয়। উভয়পক্ষের মধ্যে চলে গোলাগুলি, যা পুরো এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে দেয়। পুলিশ মোবাইল টিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বাধ্য হয়।

চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের উপকমিশনার (উত্তর) আমিরুল ইসলাম জানান, “টেম্পু, বুইশ্যা, বট—এমন যত সন্ত্রাসী বাহিনী রয়েছে, তাদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। এলাকায় কেউ তাণ্ডব চালালে ছাড় দেওয়া হবে না।”

সম্পর্কিত বিষয়

  • টেম্পু বাহিনী
  • চট্টগ্রাম
  • সন্ত্রাসী চক্র
  • সিএমপি
  • বিএনপি

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন