ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির পাশের রাজ্য উত্তর প্রদেশে গাজিয়াবাদের একটি ভাড়া বাসায় ‘ওয়েস্ট আর্কটিকা’ নামের একটি কল্পিত দেশের দূতাবাস চালাচ্ছিলেন হর্ষবর্ধন জৈন নামের এক ব্যক্তি। নিজেকে সেই দেশের রাষ্ট্রদূত দাবি করলেও, বাস্তবে এমন কোনো দেশের অস্তিত্বই নেই। সম্প্রতি তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে ভারতীয় পুলিশ।
জালিয়াতির নানা অভিযোগে অভিযুক্ত হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে মূলত অভিযোগ, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ হাতিয়ে নিয়েছেন তিনি। শুধু তাই নয়, নিজেকে কখনও সাবোরগা, পোলভিয়া, লোডোনিয়া নামের আরও কয়েকটি কল্পিত দেশের রাষ্ট্রদূত বলেও পরিচয় দিতেন।
পুলিশ জানায়, অভিযুক্ত জৈন জাল কূটনৈতিক নম্বর প্লেট লাগানো গাড়ি ব্যবহার করতেন এবং ভারতের রাজনীতিকদের সঙ্গে এডিট করা ছবি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে নিজেকে প্রভাবশালী বলে দাবি করতেন। তাঁর ভাড়া বাসা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে সাড়ে ৫৩ হাজার মার্কিন ডলার, ভুয়া পাসপোর্ট, এবং ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নকল সিলসহ নানা জাল কাগজপত্র।
তদন্তে উঠে এসেছে, জৈন হাওলা পদ্ধতিতে (অবৈধভাবে অর্থ স্থানান্তর) একটি চক্র পরিচালনা করতেন, যার মাধ্যমে তিনি বিদেশে অর্থ পাচার করতেন। এসব কর্মকাণ্ডের পেছনে ছিল বিদেশে চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়া।
‘ওয়েস্ট আর্কটিকা’ আসলে কী? পুলিশ যেটিকে দেশ বলে সন্দেহ করছিল, সেই ওয়েস্ট আর্কটিকা আসলে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি অলাভজনক সংস্থা। এরা অ্যান্টার্কটিকার পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশ সংরক্ষণ ও গবেষণায় কাজ করে। এক বিবৃতিতে সংস্থাটি জানিয়েছে, হর্ষবর্ধন জৈন একসময় বড় অঙ্কের অনুদান দিয়েছিলেন, যার ভিত্তিতে তাঁকে ‘সম্মানসূচক কনসাল’ হিসেবে ভারতের জন্য মনোনীত করা হয়েছিল। তবে তাঁকে কখনোই রাষ্ট্রদূতের মর্যাদা বা কূটনৈতিক ক্ষমতা দেওয়া হয়নি।
সম্মানসূচক কনসাল মানেই রাষ্ট্রদূত নয়। বিষয়টি নিয়ে পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে বিস্ময়ের সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনারারি কনসাল মূলত প্রতীকী প্রতিনিধি, যিনি অনেক সময় স্বেচ্ছাসেবী হিসেবে কাজ করেন, তবে তাঁর কোনো সরকারি ক্ষমতা থাকে না।
বর্তমানে হর্ষবর্ধনের বিরুদ্ধে প্রতারণা, জালিয়াতি ও অর্থ পাচারের একাধিক মামলা তদন্তাধীন। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত, কতজন তাঁর এই প্রতারণার ফাঁদে পড়েছেন বা আদৌ আন্তর্জাতিক কোনো জাল চক্রের অংশ তিনি কি না—তা নিয়ে রহস্য কাটেনি।