মূল সংবাদে যান
অপরাধ

এনসিটিতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কন্টেইনার খালাসের চেষ্টায় আটক ৩

চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) থেকে জাল ডেলিভারি চালান দেখিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কন্টেইনার খালাসের চেষ্টা চালানোর সময় তিনজনকে আটক করে পুলিশে দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
এনসিটিতে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কন্টেইনার খালাসের চেষ্টায় আটক ৩

তাদের মধ্যে দুজন সাইফ পাওয়ারটেকের কর্মী এবং আরেকজন গাড়িচালক। বুধবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে বন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশের সময় ঘটনা ধরা পড়ে। গত সোমবার (৭ জুলাই) নৌবাহিনী পরিচালিত চট্টগ্রাম ড্রাইডক এনসিটির দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই প্রথমবারের মতো এমন জালিয়াতির ঘটনা ধরা পড়ল। যদিও সংশ্লিষ্টদের মতে এনসিটিতে এমন ঘটনা ইতোপূর্বে একাধিকবার ঘটেছে।

আটকদের মধ্যে দুজন এনসিটির সদ্য সাবেক অপারেটর সাইফ পাওয়ারটেকের কর্মচারী। তারা হলেন মেহেদী হাসান হৃদয় (২৪) ও সৈয়দ মিজানুর রহমান (৪৮)। দুজনেই এনসিটি ইয়ার্ডে সাইফ পাওয়ারটেকের অধীনে বার্থ অপারেটর হিসেবে কর্মরত। এ ঘটনায় গেইট সার্জেন্ট উৎপল ধর বাদি হয়ে বন্দর থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় চার জনকে আসামী করা হয়েছে। তারা হলেন ‘এম হক এন্টারপ্রাইজ’-এর জেটি সরকার মো. রহিম, লরি চালক মো. দুলাল, এনসিটি ইয়ার্ডে সাইফ পাওয়ারটেকের অধীনে বার্থ অপারেটর মেহেদী হাসান হৃদয় ও সৈয়দ মিজানুর রহমান।

জানা যায়, গত বুধবার (৯ জুলাই) রাত সাড়ে ১২টার দিকে একটি লরি (চট্ট-মেট্রো-ঢ-৮১-০৫৫০) বন্দরের ১ নম্বর গেট দিয়ে প্রবেশ করে। চালক ছিলেন দক্ষিণ-মধ্যম হালিশহর সল্টগোলা ক্রসিং এলাকার এরশাদের ভাড়াঘরের বাসিন্দা মো. দুলাল, যিনি মামলার ২ নম্বর আসামি। তার উপস্থাপিত ডেলিভারি চালান যাচাই করে নিরাপত্তা টিম সেটিকে জাল বলে শনাক্ত করে, যার সঙ্গে রেজিস্টার ও মূল ডকুমেন্টের কোনো মিল পাওয়া যায়নি।

পরে ভারপ্রাপ্ত গেইট সার্জেন্ট মো. মওদুদ আহমেদ চালানে থাকা স্বাক্ষরটি জাল বলে নিশ্চিত করেন। এরপর মো. দুলালকে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান, ১ নম্বর আসামি ‘এম হক এন্টারপ্রাইজ’-এর জেটি সরকার মো. রহিম তাকে জাল ডকুমেন্ট সরবরাহ করেন এবং কন্টেইনার খালাসের পুরো প্রক্রিয়ায় সহায়তা করেন। অন্যদিকে ৩ নম্বর আসামি মেহেদী হাসান হৃদয় (২৪) ও ৪ নম্বর আসামি সৈয়দ মিজানুর রহমান (৪৮) দুজনেই এনসিটি ইয়ার্ডে সাইফ পাওয়ারটেকের অধীনে বার্থ অপারেটর হিসেবে কর্মরত। তারা রাবার টায়ার্ড গ্যান্ট্রি (আরটিজি) ক্রেনে যাচাই না করেই দুলালের লরিতে কন্টেইনারটি লোড করেন। আরটিজি মেশিন সাধারণত কন্টেইনার হ্যান্ডলিং এবং ভারী পণ্য স্থানান্তরের কাজে ব্যবহৃত হয়। চট্টগ্রাম বন্দরের নিরাপত্তা টিম কন্টেইনার, লরি এবং সংশ্লিষ্টদের আটক করে বন্দর থানায় হস্তান্তর করে।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেন, পরস্পর যোগসাজশে জাল কাগজপত্র তৈরি করে প্রতারণার মাধ্যমে কন্টেইনার (নম্বর: সিএএইউ- ৮৭৮৮৯৬৩ x ৪০) খালাসের চেষ্টা করেন। কন্টেইনারটি কাস্টমস কর্তৃক এখনও শুল্কায়ন হয়নি, ফলে এর ভিতরের মালামালের প্রকৃতি সম্পর্কে জানা যায়নি। কন্টেইনার ও লরিটি বর্তমানে বন্দরের নিরাপত্তা হেফাজতে থাকলেও জাল কাগজ তৈরির মূল হোতা সিএন্ডএফ এজেন্ট ‘এম হক এন্টারপ্রাইজ’-এর জেটি সরকার মো. রহিম এখনও পলাতক। নগরীর বারিক বিল্ডিং স্ট্যান্ড রোডের সাবের প্লাজায় মোজাম্মেল হকের মালিকানাধীন এম হক এন্টারপ্রাইজের (লাইসেন্স নম্বর ৩৭৯৯/১৩) কার্যালয়।

বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী মুহাম্মদ সুলতান আহসান জানান, জালিয়াতির ঘটনায় জড়িত গ্রেপ্তার তিনজনকে আমাদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজন সাইফ পাওয়ারটেকের কর্মী এবং আরেকজন লড়িচালক দুলাল। দুলালের স্বীকারোক্তি অনুযায়ী, জাল কাগজ সরবরাহ করে কন্টেইনার খালাসে সহায়তা করেছেন ‘এম হক এন্টারপ্রাইজ’-এর জেটি সরকার মো. রহিম—যিনি মামলার প্রধান আসামি এবং এখনো পলাতক। প্রতিষ্ঠানটির মালিক মোজাম্মেল হক। কার্যালয় বারিক বিল্ডিংয়ের সাবের প্লাজায়।

বন্দরসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, সাইফ পাওয়ারটেকের কর্মীরা এখনও টার্মিনালে প্রভাব বিস্তার করে চলেছেন। অতীতে এমন ঘটনায় তাদের জড়িত থাকার নজিরও রয়েছে। বন্দরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অনেকেই সাইফ পাওয়ারটেকের ঘনিষ্ঠ, ফলে এই ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। এখনো কন্টেইনারটির শুল্কায়ন হয়নি, ফলে এর ভিতরের পণ্যের প্রকৃতি অজানা।

সম্পর্কিত বিষয়

  • এনসিটি
  • সাইফ পাওয়ারটেক
  • চট্টগ্রাম ড্রাইডক
  • সিএন্ডএফ
  • টার্মিনাল

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন