অর্থ বিভাগ ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নতুন এই ‘এ চালান’ (অটোমেটেড চালান) ব্যবস্থা চালু করেছে। ডেবিট বা ক্রেডিট কার্ড; এমএফএস যেমন বিকাশ, রকেট, নগদ, উপায়, এমক্যাশ, ট্রাস্টপে ব্যবহার করে কর জমা দেওয়া যাবে।
এনবিআরের ‘এ চালান’ একটি ওয়েবভিত্তিক সিস্টেম, যেখানে আমদানিকারক, রপ্তানিকারক ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরা নিজ নিজ মোবাইল বা কম্পিউটার থেকে কর জমা দিতে পারবেন।
অনলাইনে কর পরিশোধের পর সিস্টেম থেকে রসিদ নম্বর পেয়ে সহজেই পণ্য খালাস করা যাবে। দিন-রাত ২৪ ঘণ্টাই যেকোনো স্থান থেকে কর পরিশোধের সুযোগ মিলবে।
আগের ব্যবস্থায় আরটিজিএস-এর মাধ্যমে কর জমা হলেও কোষাগারে পৌঁছাতে সময় লাগত, ফলে সরকারের তাৎক্ষণিক অর্থপ্রাপ্তি হতো না।
এ চালানের মাধ্যমে অর্থ সঙ্গে সঙ্গে সরকারি কোষাগারে জমা হবে এবং সরকার তাৎক্ষণিকভাবে অর্থ ব্যবহার করতে পারবে। প্রযুক্তিনির্ভর এই পদক্ষেপ ‘স্মার্ট বাংলাদেশ’-এর পথেও একটি বাস্তব অগ্রগতি।
ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে প্রথমে এপ্রিল মাসে আইসিডি কমলাপুর কাস্টমস হাউসে এ পদ্ধতির পাইলটিং শুরু হয়। এরপর পানগাঁও এবং সর্বশেষ বৃহস্পতিবার (০৩ জুলাই} চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসে চালু হয়েছে। আগামী সোমবার (০৭ জুলাই) থেকে ঢাকা কাস্টম হাউসসহ দেশের সব কাস্টম হাউসে কার্যক্রম চালু হবে।
এই উদ্যোগ কাস্টমস ব্যবস্থাকে ডিজিটাল, স্বচ্ছ ও দ্রুততর করে তুলবে। একই সঙ্গে করদাতাদের হয়রানি কমবে, সরকারের রাজস্ব আদায়ে গতি আসবে এবং পণ্য খালাসের প্রক্রিয়া সহজ হবে।
এনবিআর বলছে, বিদ্যমান ব্যবস্থায় করদাতারা দিনের একটি নির্দিষ্ট সময়ে আরটিজিএস পদ্ধতিতে যে শুল্ক-কর জমা দেন, তা সরকারি কোষাগারে জমা হতে কয়েক দিন সময় লেগে যায়। এতে সরকারের আর্থিক ক্ষতি হয়। এখন থেকে দিন-রাত যেকোনো সময় যেকোনো স্থান থেকে ঘরে বসে অটোমেটেড চালানের মাধ্যমে অনলাইনে কাস্টমস শুল্ক জমা দিয়ে দ্রুততম সময়ে পণ্য খালাস করা যাবে। এ চালানের মাধ্যমে জমা দেওয়া এ অর্থ তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের নির্দিষ্ট কোষাগারে জমা হবে, যা সরকার তাৎক্ষণিকভাবে এ নগদ অর্থ খরচ করতে পারবে।
