মুক্তিযুদ্ধের সময় এই কেন্দ্র থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিবেচনায় কেন্দ্রটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
শনিবার চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘ঐতিহাসিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই স্থাপনাটি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে। এ বিষয়ে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
সাংবাদিকদের কল্যাণে সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থ আরও বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। চলতি অর্থবছর অথবা আগামী অর্থবছরের মধ্যে এই বরাদ্দ বাড়ানো সম্ভব হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন। সাংবাদিকদের পেশাগত ও কল্যাণমূলক কার্যক্রমে সরকারের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন প্রতিরোধে সরকারের পরিকল্পনার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিউ মিডিয়ার মাধ্যমে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। অপতথ্য ও মিথ্যা তথ্যের বিস্তার রোধের পাশাপাশি জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন সম্পর্কে জনগণকে সচেতন করতে বিভিন্ন তথ্যচিত্র নির্মাণের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে সঠিক তথ্য, মিসইনফরমেশন ও ডিজইনফরমেশন শনাক্ত করতে বিভিন্ন টুলস ও সফটওয়্যার তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে তথ্য যাচাই করে জনগণকে সঠিক তথ্য সম্পর্কে অবহিত করা হবে।
অনলাইন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শিক্ষণীয় এবং সচেতনতামূলক রিলস তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, নিউ মিডিয়া প্রকল্পের আওতায় সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে জেলা ও উপজেলা পর্যায়েও সাংবাদিকদের প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।
শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান একজন সাসপেক্টেড এবং একজন ক্রিমিনালের বক্তব্য প্রচার করা উচিত কি না কিংবা আদালতের দৃষ্টিতে অভিযুক্ত ব্যক্তির বক্তব্য গণমাধ্যমে প্রচার করা —সেটাও তো প্রশ্ন হতে পারে।
“শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে ‘খুব স্পষ্ট’ অবস্থান জানিয়েছে এবং এ বিষয়ে আদালতের নির্দেশনাও রয়েছে। শেখ হাসিনার বক্তব্য প্রচার নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে ভেরি ক্লিয়ারলি বক্তব্য দিয়েছে। আমি ওই অবস্থানেই থাকতে চাই। নিষিদ্ধ সংগঠনের প্রধান বা সন্দেহভাজন ও অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য প্রচারের ক্ষেত্রে গণমাধ্যমেরও দায়িত্বশীল অবস্থান থাকা প্রয়োজন।”
বাংলাদেশ বেতারকে আরও শক্তিশালী ও আধুনিক করার উদ্যোগের কথা জানিয়ে ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, বেতারের এফএম সম্প্রচার শক্তিশালী করতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে একটি প্রকল্পও হাতে নেওয়া হয়েছে।
একই সঙ্গে বাংলাদেশ টেলিভিশনকে (বিটিভি) আধুনিক ও দর্শকবান্ধব করার কাজ চলছে বলে জানান তিনি। বিটিভির জন্য ফরেনসিক অডিটের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। আগামী সপ্তাহে অথবা আগামী ১০ দিনের মধ্যে এ অডিট কার্যক্রম শুরু হতে পারে। অডিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিটিভির ডিজিটালাইজেশনসহ বিভিন্ন কার্যক্রম আরও আধুনিক ও আকর্ষণীয় করার বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
বিটিভির জনপ্রিয় সিগনেচার অনুষ্ঠান ‘নতুন কুঁড়ি’কে আরও আধুনিকায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ‘নতুন কুঁড়ি’র আবেদন গ্রহণের জন্য বিভিন্ন ধরনের বিজ্ঞাপন প্রচার করা হচ্ছে। অনুষ্ঠানটি আরও সুন্দর ও আকর্ষণীয়ভাবে উপস্থাপন করা গেলে দর্শক-শ্রোতাদের বিটিভির প্রতি আগ্রহ বাড়বে বলে আশা করা যায়।
কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ, কেন্দ্রের পরিচালক শাহীন আক্তার, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক তথ্য অফিসের উপপ্রধান তথ্য অফিসার বাপ্পী চক্রবর্তী এবং বাংলাদেশ বেতারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
