তারা অভিযোগ করেন, প্রায় দুই বছর ধরে নিজেদের জমা অর্থ উত্তোলন করতে না পেরে চিকিৎসা, শিক্ষা ও নিত্যপ্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহে চরম সংকটে পড়েছেন|
সোমবার সকালে নগরের কোতোয়ালি এলাকায় বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের সামনে এ কর্মসূচির আয়োজন করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশন-চট্টগ্রাম বিভাগ|
এর আগে বেলা ১১টার দিকে আমানতকারীরা নিউমার্কেট মোড়ে জড়ো হয়ে মিছিল নিয়ে বাংলাদেশ ব্যাংকের আঞ্চলিক কার্যালয়ের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নেন| এ সময় তারা “হই হই রই রই, আমানতের টাকা গেল কই”, “আমার টাকা ব্যাংকে, আমি কেন রাস্তায়” এবং “হেয়ার কাট মানি না, মানব না”—এমন বিভিন্ন স্লোগান দেন|
সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংকের আমানতকারী সাইদুল ইসলাম বলেন, “দীর্ঘদিনের পরিশ্রমে গড়ে তোলা সঞ্চয়, পেনশন এবং জমি বিক্রির টাকা পরিবারের ভবিষ্যতের কথা ভেবে ব্যাংকে রেখেছিলাম| কিন্তু আজ সেই আমানত ফেরত না পেয়ে চরম অনিশ্চয়তা ও আর্থিক সংকটে পড়েছি| মুনাফা তো দূরের কথা, নিজের টাকাও তুলতে পারছি না| এখন সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়েছে|”
আন্দোলনকারীদের দাবি, বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি সিদ্ধান্তের ফলে গত দুই বছরের মুনাফা কর্তন এবং মাত্র ৪ শতাংশ বিশেষ সুবিধা দেওয়ার প্রস্তাবে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন| তাদের অভিযোগ, ব্যাংক-কোম্পানি আইন ও আমানত চুক্তি অনুযায়ী অর্থ ফেরত পাওয়ার অধিকার থাকা সত্ত্বেও তারা দীর্ঘদিন ধরে সেই সুবিধা থেকে বঞ্চিত|
এক্সিম ব্যাংকের আমানতকারী নাজিয়া হক বলেন, “ব্যাংকে আমানত রাখা কোনো বিনিয়োগের ঝুঁকি নয়, এটি একজন নাগরিকের নিরাপত্তার বিশ্বাস| সেই বিশ্বাসের জায়গা থেকেই আমরা কষ্টার্জিত অর্থ জমা রেখেছিলাম| কিন্তু এখন চিকিৎসা, সন্তানের পড়াশোনা কিংবা জরুরি প্রয়োজনেও সেই অর্থ ব্যবহার করতে পারছি না| আমরা শুধু আমাদের ন্যায্য আমানত ও চুক্তি অনুযায়ী মুনাফা ফেরত চাই|”
সমাবেশে বক্তারা দাবি করেন, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকে প্রায় ৭৫ লাখ আমানতকারীর মোট ১ লাখ ৩১ হাজার কোটি টাকা জমা রয়েছে| এই অর্থ উত্তোলনে দীর্ঘদিনের সীমাবদ্ধতায় প্রায় ৭৫ লাখ পরিবারের প্রায় ৩ কোটি সদস্য প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে আর্থিক সংকটে পড়েছেন বলে তাদের দাবি|
বিক্ষোভকারীরা ‘হেয়ার কাট’ নীতি বাতিল করে চুক্তি অনুযায়ী মূল আমানত ও মুনাফা পরিশোধ, সব ব্যাংকের মতো ¯^াভাবিক লেনদেন চালু, তারল্য সংকট মোকাবিলায় বিশেষ সহায়তা, মেয়াদোত্তীর্ণ এফডিআর, ডিপিএস ও এমটিডিআরের অর্থ পরিশোধ এবং পূর্বের চুক্তিভিত্তিক মুনাফার হার বহাল রাখার দাবি জানান|
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক আমানতকারী অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি শারমিন আক্তার বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানসহ সংশ্লিষ্ট সবার কাছে স্মারকলিপি দিয়েছি| আমাদের ন্যায্য অর্থ ফেরতের দাবিতে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন করছি| দ্রুত সমাধান না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হব|”
উল্লেখ্য, একীভূত হওয়ার প্রক্রিয়ায় থাকা পাঁচটি ইসলামী ব্যাংকের গ্রাহকরা দীর্ঘদিন ধরে ‘হেয়ার কাট’ নীতি প্রত্যাহার, পূর্ণ আমানত ফেরত এবং ¯^াভাবিক ব্যাংকিং কার্যক্রম পুনরুদ্ধারের দাবিতে ধারাবাহিক আন্দোলন করে আসছেন|