বুধবার (১০ জুন) দুপুরে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চত্বরে আয়োজিত সমাবেশ ও মিছিল শেষে জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দেওয়া এক স্মারকলিপিতে ছয় দফা দাবি জানায় সংগঠনটি|
সমাবেশে স্কপ নেতারা বলেন, অতীতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এনসিটি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দেওয়ার বিরোধিতা করেছিলেন| এখন তাঁর নেতৃত্বাধীন সরকার যদি একই ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে, তাহলে দেশের শ্রমিক-কর্মচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে হতাশা সৃষ্টি হবে|
স্মারকলিপিতে বলা হয়, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি| দেশের প্রায় ৯২ শতাংশ আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম এ বন্দরের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়| ফলে এটি শুধু একটি বাণিজ্যিক স্থাপনা নয়, বরং জাতীয় অর্থনৈতিক নিরাপত্তা, কৌশলগত ¯^ার্থ ও সার্বভৌমত্বের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত|
স্কপের নেতারা দাবি করেন, বিভিন্ন সূত্রে বন্দরের গুরুত্বপূর্ণ টার্মিনালগুলো বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ পুনরায় সক্রিয় হওয়ার তথ্য পাওয়া যাচ্ছে| এনসিটি, চিটাগং কনটেইনার টার্মিনাল (সিসিটি) এবং জেনারেল কার্গো বার্থ (জিসিবি) বিদেশি প্রতিষ্ঠানের হাতে তুলে দেওয়া হলে তা জাতীয় ¯^ার্থবিরোধী সিদ্ধান্ত হিসেবে বিবেচিত হবে|
স্মারকলিপিতে উল্লেখ করা হয়, ২০০৭ সালে আংশিক এবং ২০১৫ সালে পূর্ণাঙ্গভাবে চালু হওয়া এনসিটি বর্তমানে চট্টগ্রাম বন্দরের সর্বাধিক রাজ¯^ আয়ের উৎস| বন্দর কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের মে মাসে এনসিটিতে এক লাখ ২৬ হাজার ৪৯৬ টিইইউ’এস কনটেইনার হ্যান্ডলিং হয়েছে, যা টার্মিনালটির ইতিহাসে একক মাসের সর্বোচ্চ রেকর্ড| এর মধ্যে আমদানি ছিল ৫৯ হাজার ৮৫১ টিইইউ’এস এবং রপ্তানি ৬৬ হাজার ৬৪৫ টিইইউ’এস| এর আগে ২০২৫ সালের অক্টোবরে এক লাখ ২৫ হাজার ৫৩৩ টিইইউ’এস কনটেইনার হ্যান্ডলিংয়ের রেকর্ড হয়েছিল|
নেতারা বলেন, এসব অর্জন প্রমাণ করে দেশীয় জনবল, দক্ষতা ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমেই এনসিটি সফলভাবে পরিচালিত হচ্ছে| একইভাবে সিসিটিও দীর্ঘদিন ধরে দেশীয় ব্যবস্থাপনায় পরিচালিত হয়ে আসছে| তাই বিদেশি কোম্পানি ছাড়া বন্দর পরিচালনা সম্ভব নয়—এমন যুক্তির বাস্তব ভিত্তি নেই|
তারা বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর একটি কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা এবং কেপিআই-১ হিসেবে ¯^ীকৃত| একই এলাকায় নৌবাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা, বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের স্থাপনা এবং শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর অবস্থিত| ফলে বন্দরের নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গেও ওতপ্রোতভাবে জড়িত|
স্কপের ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে—এনসিটি, সিসিটি ও জিসিবিসহ কোনো টার্মিনাল বিদেশি অপারেটরের কাছে হস্তান্তরের উদ্যোগ বন্ধ করা, ডিপি ওয়ার্ল্ড বা অন্য কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চলমান আলোচনা বাতিল, দেশীয় সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত আধুনিকায়ন বৃদ্ধি, শ্রমিক-কর্মচারীদের বিরুদ্ধে দায়ের হওয়া মামলা প্রত্যাহার, শ্রমিক প্রতিনিধিদের সঙ্গে জরুরি ˆবঠক এবং বন্দর বিদেশি নিয়ন্ত্রণে দেওয়া হবে না মর্মে সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা|
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন স্কপের যুগ্ম সমš^য়কারী এস কে খোদা তোতন এবং সঞ্চালনা করেন ইফতেখার কামাল খান| এতে তপন দত্ত, কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, খোরশেদ আলম, কে এম শহিদুল্লাহ, নুরুল আবছার তৌহিদ, হেলাল উদ্দিন কবির, মো. হারুন ও তসলিম হোসেন সেলিমসহ বিভিন্ন শ্রমিক নেতা বক্তব্য দেন| সমাবেশ শেষে শ্রমিক নেতারা একটি মিছিল নিয়ে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে যান এবং জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর কাছে স্মারকলিপি জমা দেন|
