মূল সংবাদে যান
রাজনীতি

আমার মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত, তফসিলের পর প্রার্থী হলে পদত্যাগ করব: চসিক মেয়র

আদালতের রায়ের ভিত্তিতে আমার মেয়াদ ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর পর্যন্ত বহাল থাকবে। এর আগেই দ্রুত সময়ের মধ্যে নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানাচ্ছি। তবে তফসিল ঘোষণা হলে এবং দল আমাকে প্রার্থী করলে পদত্যাগ করব।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
আমার মেয়াদ ২০২৯ পর্যন্ত, তফসিলের পর প্রার্থী হলে পদত্যাগ করব: চসিক মেয়র

রবিবার দুপুরে নগরের হালিশহর এলাকায় একটি খেলার মাঠ ও পার্ক-ওয়াকওয়ের সৌন্দর্যবর্ধন কাজের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) বর্তমান মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এসব কথা বলেন।

মেয়রের বক্তব্যে চসিকের মেয়াদ, প্রশাসক নিয়োগ এবং সম্ভাব্য নির্বাচনের প্রশ্নে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে নগর রাজনীতিতে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চসিক মেয়রের মেয়াদ শেষ হওয়ার আলোচনা ওঠার প্রেক্ষিতে চসিক মেয়র বলেন, “একটা স্বৈরাচার সরকারের স্বৈরাচারী মেয়রের মেয়াদ শেষ হচ্ছে। আমার মেয়াদ শেষ হবে ২০২৯ সালের ৩ নভেম্বর, এর আগে নয়। তারপরও আমি নির্বাচন চাই।”

চসিক মেয়র বলেন, তিনি বলেন, আমি অত্যন্ত গণতান্ত্রিক মানুষ। ১৬ বছর আন্দোলন করেছি, সংগ্রাম করেছি। উৎসবমুখর নির্বাচন কখনো করতে পারিনি। আমি জনপ্রিয়তা যাচাই করতে চাই, গণতান্ত্রিক পরিবেশে ভোট চাই। আদালত যে রায় দিয়েছেন তা ঐতিহাসিক। ২০২১ সালে হাত পা বেঁধে সাঁতার কাটতে দিয়েছিল।

আমার এজেন্ট, নেতাকর্মীদের গ্রেপ্তার করেছে। ভোট দিতে গিয়ে কেন্দ্রে দেখি মেয়ে এজেন্টদের মেরেছে, তারা কান্নাকাটি করতে দেখেছি। পুলিশের সামনে মেরে বের করে দিয়েছে। ভীতিকর পরিস্থিতির নির্বাচন যখন নির্যাতনে পরিণত হয়েছিল তখন আমি ফাইট করেছি। ২০১৮ সালে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আমাকে জেলে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছিল। ২০২১ সালের নির্বাচন আরও ভীতিকর ছিল।

মেয়র জানান, ২০২১ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে আমি ট্রাইব্যুনালে মামলা করি। দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর ২০২৪ সালের ১ অক্টোবর আদালত আমাকে মেয়র ঘোষণা করেন। পরে নির্বাচন কমিশনের গেজেট প্রকাশের পর একই বছরের ৩ নভেম্বর শপথ নিয়ে ৫ নভেম্বর দায়িত্বভার গ্রহণ করি। অথাৎ, আদালতের রায়ে সাবেক মেয়র রেজাউল করিম চৌধুরী এর মেয়াদকাল অবৈধ ঘোষিত হয়েছে এবং আমার শপথের তারিখ থেকেই পাঁচ বছরের মেয়াদ গণনা হবে।

স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন, ২০০৯-এর ৬ ধারায় প্রথম সভার তারিখ থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের বিধান রয়েছে। ২০২১ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি চসিক পরিষদের প্রথম সভা অনুষ্ঠিত হওয়ায় ওই পরিষদের মেয়াদ আজ শেষ হচ্ছে। তবে শাহাদাত হোসেনের দাবি, আদালতের রায়ের ফলে তাঁর ক্ষেত্রে মেয়াদ গণনা ভিন্নভাবে প্রযোজ্য।

প্রশাসক নিয়োগের সুযোগ নেই উল্লেখ করে চসিক মেয়র বলেন, আদালতের অর্ডারে আমিই বাংলাদেশের একমাত্র মেয়র যার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। আমি বলছি, নির্বাচন চাই। এখন দায়িত্ব এলজিআরডি মন্ত্রণালয়ের। আমার আবেদনের প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছেন। শুধু চট্টগ্রাম নয়, ঢাকায় নির্বাচন হওয়া উচিত, কারণ কাউন্সিলর না থাকাতে জনগণ বঞ্চিত হচ্ছে। এলজিআরডি মন্ত্রণালয় পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত থাকতে হবে। আমি না থাকলে চালাবে কে। শহরটাতো এতিম হয়ে যাবে।

প্রশাসককে বদলি করে আমাকে মেয়র দেওয়া হয়েছে। এখন আবার প্রশাসক দেওয়ার সুযোগ নেই। স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা না পাওয়া পর্যন্ত আমি দায়িত্ব পালন করব। তাছাড়া আমাার আবেদনের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়েছে। শুধু চট্টগ্রাম নয়, সারা দেশের সিটি করপোরেশনগুলোতেও দ্রুত নির্বাচন হওয়া উচিত।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন