অতীতে বিএনপি প্রমাণ করেছে—আইনশৃঙ্খলা ও দুর্নীতি দমনে তারাই সবচেয়ে কার্যকর ও সফল ভূমিকা রাখতে সক্ষম। রবিবার (২৫ জানুয়ারী) দুপুরে চট্টগ্রাম নগরের ঐতিহাসিক পলোগ্রাউন্ড মাঠে অনুষ্ঠিত বিএনপির বিভাগীয় মহাসমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, বিএনপি মানুষের নিরাপত্তার বিষয়ে জোড় দেবে। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাফেরা করতে পারে, ব্যবসা-বাণিজ্য থেকে শুরু করে চাকরি-বাকরি সব কিছু নির্বিঘ্নে করতে পারে। বিগত সময়ে বিএনপি যখন ক্ষমতায় ছিল, বেগম খালেদা জিয়া যখন দেশ পরিচালনা করেছিলেন, তখন আপনারা দেখেছেন—যাই হোক না কেন, এমনকি আমাদের দলের অনেক লোক যদি কোনো অনৈতিক কাজে জড়িত থেকেছে, আমরা তাদেরও ছাড় দিইনি।
তারেক রহমান বলেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা হবে—আইন সবার জন্য সমান। অপরাধের পরিচয় কোনো দল নয়, অপরাধীই অপরাধী। দুর্নীতি যে করুক, যারাই করুক, তাদের বিরুদ্ধে দেশের আইন একইভাবে প্রযোজ্য হবে। আজ সময় এসেছে পরিবর্তনের। এই পরিবর্তনের জন্য আমাদের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। এখানে অনেক নতুন ভোটার রয়েছেন, যারা বিগত ১৫-১৬ বছর ভোট দেওয়ার সুযোগ পাননি।
তারেক রহমান আরো বলেছেন, চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন, আবার এই মাটিতেই তিনি শহীদ হয়েছেন। এই চট্টগ্রামেই খালেদা জিয়াকে ‘দেশনেত্রী’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়েছিল। তাই চট্টগ্রামের সঙ্গে আমার এবং আমার পরিবারের এক গভীর আবেগের সম্পর্ক রয়েছে। ১৯৭১ সালে আমরা যে স্বাধীনতা অর্জন করেছিলাম, ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার আন্দোলন সেই স্বাধীনতাকে রক্ষা করেছে। বাংলাদেশের মানুষ এখন এমন একটি অর্থবহ পরিবর্তন চায়, যার মাধ্যমে প্রতিটি নাগরিক উন্নত শিক্ষা ও সুচিকিৎসার সুনিশ্চিত সুযোগ পাবে।
তারেক রহমান বলেন, আমরা আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী দলের অনেক সমালোচনা করতে পারি। কিন্তু তাতে কারও পেট ভরবে না। কারও লাভ হবে না। বিএনপি একমাত্র দল যারা যতবার ক্ষমতায় গিয়েছে, ততবার মানুষের জন্য কাজ করেছে। দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি রোধে উৎপাদন বাড়াতে হবে। তাই আমরা কৃষকের কাছে কৃষক কার্ড পৌঁছে দিতে চাই। যাতে করে তারা বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পায়।
চট্টগ্রামের একটি বড় সমস্যা জলাবদ্ধতা। বিভিন্ন খাল-নালা বন্ধ হওয়ার কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। এ কারণে আমরা খাল কাটতে চাই। আপনারা কী আমাদের সঙ্গে খাল কাটা কর্মসূচিতে যোগ দিতে চান?। চট্টগ্রামে একাধিক ইপিজেড রয়েছে। যেখানে লাখ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে। এগুলো বিএনপির আমলে হয়েছিল। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি আবার আমাদের ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনেন, তাহলে আরও ইপিজেড করা হবে। সবমিলিয়ে চট্টগ্রাম হবে বাণিজ্যিক রাজধানী।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, যত পরিকল্পনা গ্রহণ করি, এগুলো বাস্তবায়ন করতে হলে দুটি বিষয় কড়াকড়িভাবে নজর দিতে হবে। একটি হলো, মানুষের নিরাপত্তা। যাতে করে মানুষ নিরাপদে চলাচল করতে পারে। অতীতে বিএনপি যখন দেশ পরিচালনা করেছে, আমাদের কেউ অন্যায় করলেও, আমরা ছাড় দিইনি। আগামীতে সরকারে গেলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে।
আরেকটি বিষয়টি হচ্ছে দুর্নীতি। বিএনপি দুর্নীতির টুটি চেপে ধরবে। অতীতে বেগম খালেদা জিয়া দুর্নীতি দমন করতে সক্ষম হয়েছিলেন। তাই আগামীতে দুর্নীতি করলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। আগামীতে বিএনপির ওপর আস্থা রাখুন। ধানের শীষে ভোট দিন। এবার ভোটের আগে তাহাজ্জুদের নামাজ পড়বেন, তারপর কেন্দ্রে যাবেন। সেখানে ফজরের নামাজ পড়ে লাইনে দাঁড়িয়ে যাবেন। গত ১৫ বছর আপনাদের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আবার এরকম একটি ষড়যন্ত্র হচ্ছে। তাই এবার ধানের শীষে ভোট দেন।
চট্টগ্রাম থেকেই ধানের শীষের সুনামি শুরু হবে বলে মন্তব্য করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, আজকের জনসমাবেশ প্রমাণ করে দিয়েছে—সমগ্র চট্টগ্রাম মানুষ আর মানুষের ঢেউয়ে পরিণত হয়েছে। এই চট্টগ্রাম থেকেই পরিবর্তনের সূচনা হবে। এই চট্টগ্রাম থেকেই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন। চট্টগ্রামের মানুষের হৃদয়ে জিয়াউর রহমান ও বেগম খালেদা জিয়ার অবস্থান আজও অটুট রয়েছে। আর এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে আগামী দিনে চট্টগ্রামের সব সংসদীয় আসনে বিএনপি বিজয়ী হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
চট্টগ্রামের অর্থনৈতিক গুরুত্ব তুলে ধরে বিএনপির এই নেতা বলেন, শুধু বক্তৃতা দিয়ে চট্টগ্রামকে বাণিজ্যিক রাজধানী বলা যাবে না। বাস্তব কর্মকাণ্ডের মাধ্যমেই চট্টগ্রামকে দেশের বাণিজ্যিক রাজধানী হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। সরকার থেকে কোনো ঘোষণা নয়, বিএনপির নেতৃত্বাধীন সরকারের কার্যক্রমই চট্টগ্রামকে সেই জায়গায় নিয়ে যাবে। চট্টগ্রামের সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে শহরটিকে একটি আঞ্চলিক অর্থনৈতিকভাবে পরিণত করা হবে। এতে শুধু বাংলাদেশ নয়, পুরো অঞ্চল উপকৃত হবে। চট্টগ্রামকে ঘিরে শিল্প, বন্দর, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। সমাবেশে বিএনপির কেন্দ্রীয় ও মহানগর নেতৃবৃন্দসহ বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী উপস্থিত ছিলেন।
