মূল সংবাদে যান
রাজনীতি

অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন চসিক মেয়র

বিগত সরকারের আমলে নির্বাচনের সময় প্রার্থীরা কী ধরনের বাধা ও নিপীড়নের মুখে পড়েছিলেন, তার তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরেছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরলেন চসিক মেয়র

তিনি জানান, ২০১৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় তাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল এবং নির্বাচনী এলাকায় যেতে জেল বদল করার জন্যই ১০ লাখ টাকা খরচ করতে হয়েছিল।

মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের এক প্রশিক্ষণ কর্মশালার সমাপনী দিনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রেস ইনস্টিটিউট বাংলাদেশ (পিআইবি) আয়োজিত ‘চট্টগ্রাম জেলার সাংবাদিকদের নির্বাচনকালীন সাংবাদিকতা’ শীর্ষক এই প্রশিক্ষণের আয়োজন করা হয়।

চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সভাপতি জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাওলা মুরাদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পিআইবির পরিচালক (প্রশাসন) কাজী মোহাম্মদ তোহিদুল আনোয়ার। অনুষ্ঠানে বক্তারা সুষ্ঠু গণতন্ত্রের স্বার্থে সাংবাদিকতাকে আয়নার মতো স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত রাখার আহ্বান জানান।

ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, “২০১৮ সালের নির্বাচনের সময় আমাকে ঢাকা থেকে গ্রেপ্তার করে কাশিমপুর কারাগারে রাখা হয়েছিল। নির্বাচন করতে হলে চট্টগ্রামে থাকতে হবে—এই যুক্তিতে কাশিমপুর থেকে চট্টগ্রাম কারাগারে জেল বদল করতে হয়। এই প্রক্রিয়াতেই আমার ১০ লাখ টাকা খরচ হয়েছিল। সে সময় নির্বাচনকে কার্যত নির্যাতনের একটি মাধ্যমে পরিণত করা হয়েছিল।”

গত দেড় দশকের নির্বাচনী ব্যবস্থার কঠোর সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০১৪ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে সাজানো আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক এনে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য দেখানোর চেষ্টা করা হয়েছে। বিদেশ থেকে কিছু লোক এনে ইংরেজি বলিয়ে পর্যবেক্ষক সাজানো হয়েছিল, যাতে বিশ্ববাসীর কাছে নির্বাচনকে বৈধ হিসেবে তুলে ধরা যায়।

২০২১ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মেয়র বলেন, সাংবাদিকদের উপস্থিতিতেই তার নারী এজেন্টদের মারধর করে কেন্দ্র থেকে বের করে দেওয়া হয়েছিল। এসব ঘটনা সাংবাদিকরা দেখলেও উপস্থাপনার ক্ষেত্রে নির্বাচনকে গ্রহণযোগ্য হিসেবে দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।

ডা. শাহাদাত বলেন, ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচন আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য ছিল। সে সময় নির্বাচন নিয়ে কারচুপির অভিযোগ ওঠেনি। ১৯৯৪ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপি ক্ষমতায় থাকলেও স্বচ্ছতার কারণে আওয়ামী লীগের এবিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী নির্বাচিত হয়েছিলেন, যা গত ১৬ বছরে আর দেখা যায়নি।

সাংবাদিকদের ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, ১৯৯১ সালের নির্বাচনে সাংবাদিকদের উপস্থাপনার কারণে বেগম খালেদা জিয়ার ‘আপসহীন নেতৃত্ব’ জনগণের সামনে উঠে আসে এবং বিএনপি ক্ষমতায় আসে। তিনি সাহসী, নৈতিক ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার চর্চার আহ্বান জানিয়ে ‘হলুদ সাংবাদিকতা’ এবং শুধু ভিউ পাওয়ার জন্য বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচারের সমালোচনা করেন।

বর্তমান প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড প্রসঙ্গে মেয়র জানান, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়ায় প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তার (সিইও) বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে তাকে অপসারণ করা হয়েছে। পাশাপাশি নগরীর জলাবদ্ধতা নিরসনে ৫০ থেকে ৬০ শতাংশ কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে খালের ওপর অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে সেনাবাহিনী কাজ করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। আগামীতে ১৯৯১ সালের মতো উৎসবমুখর, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজনের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন চসিক মেয়র।

সম্পর্কিত বিষয়

  • চসিক

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন