কিন্তু রাষ্ট্রের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে। রিফাইন্ড আওয়ামী লীগ বা জাতীয় পার্টির নামে কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তিকে পুনর্বাসনের সুযোগ দেওয়া যাবে না।
বৃহস্পতিবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের জুলাই বিপ্লব স্মৃতি হলে “জুলাই ছাত্র গণঅভ্যুত্থানে সাংবাদিকদের ভূমিকা ও হাসিনার ফ্যাসিবাদ নিবাসন থেকে দেখা” শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমার দেশ পত্রিকার সম্পাদক মাহমুদুর রহমান এ মন্তব্য করেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি মো. শাহনেওয়াজ। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব ও আমার দেশ’র আবাসিক সম্পাদক জাহিদুল করিম কচি।
মাহমুদুর রহমান বলেন, দীর্ঘদিন ধরে জনগণের ওপর দমন-পীড়ন চালানো হয়েছে। মৌলিক অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছে, এমনকি রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব পর্যন্ত বিক্রি করা হয়েছে। তার দাবি, এই ফ্যাসিবাদের পেছনে সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল প্রতিবেশী দেশ ভারত। জুলাই বিপ্লবে সবাই একইসঙ্গে দুটি শক্তির বিরুদ্ধে লড়েছে—একদিকে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন অভ্যন্তরীণ ফ্যাসিবাদী সরকার, অন্যদিকে ভারতের আধিপত্যবাদী শক্তি। এই লড়াইয়ে গণতন্ত্রপ্রিয় জনগণ জয়লাভ করেছে।
গণমাধ্যম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই সামাজিক সাম্রাজ্যবাদী শক্তির অনুপ্রবেশ ঘটেছে। শেখ হাসিনার আমলে তা চূড়ান্ত রূপ পেয়েছে। “এখনও আমরা মিডিয়াকে মুক্ত করতে পারিনি, এটা আমাদের ব্যর্থতা।”
জুলাই সনদকে তিনি জনগণের দাবি হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এ নিয়ে দূরত্ব দ্রুত ঘোচাতে হবে। ঐক্যবদ্ধভাবে সনদ গ্রহণ করলে সুষ্ঠু নির্বাচন আয়োজন সম্ভব হবে এবং তার মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে।
বিএনপি, জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিকে জুলাই-উত্তর বাংলাদেশের তিন প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আখ্যা দিয়ে মাহমুদুর রহমান বলেন, এই তিন দলসহ বিভিন্ন শক্তি মিলে শেখ হাসিনা ও ভারতীয় সাম্রাজ্যবাদকে পরাজিত করেছে। তাই ফ্যাসিবাদবিরোধী ঐক্য অটুট রাখতে হবে।
বিশেষ অতিথিদের বক্তব্যে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, ১/১১ সময়কালে ভয়ে মানুষ সংকুচিত হয়ে পড়েছিল। তখন তিনি কালো মাস্ক পরে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করেছিলেন। “সেই কঠিন সময়ে যদি মাহমুদুর রহমান গর্জে না উঠতেন, বেগম খালেদা জিয়াসহ নেতাদের মুক্তি কঠিন হয়ে যেত।”
এছাড়া বক্তব্য রাখেন, আমার দেশ’র নির্বাহী সম্পাদক সৈয়দ আবদাল আহমেদ, সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্য সচিব খুরশীদ জামিল চৌধুরী, কালের কণ্ঠের ব্যুরো প্রধান মুস্তফা নঈম, এ্যাবের সভাপতি প্রকৌশলী জানে আলম সেলিম, বাংলাদেশ টাইমস’র বিভাগীয় সম্পাদক সালেহ নোমানসহ বিভিন্ন সাংবাদিক ও পেশাজীবী নেতারা বক্তব্য রাখেন।
