মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

জামায়াতের আয়–ব্যয় বিএনপির চেয়ে বেশি: নির্বাচনী কৌশল, আর্থিক স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ

২০২৪ সালে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী দেশের সব রাজনৈতিক দলকে ছাড়িয়ে আয়–ব্যয়ের রেকর্ড করেছে। আয় প্রায় ২৯ কোটি টাকা, ব্যয় ২৩ কোটি টাকারও বেশি। তুলনায় বিএনপির আয় ছিল ১৫ কোটি ৬৫ লাখ, ব্যয় মাত্র ৪ কোটি ৮০ লাখ—অর্থাৎ জামায়াতের আয় বিএনপির দ্বিগুণের কাছাকাছি, ব্যয় প্রায় পাঁচ গুণ।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
জামায়াতের আয়–ব্যয় বিএনপির চেয়ে বেশি: নির্বাচনী কৌশল, আর্থিক স্বচ্ছতা ও ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সমীকরণ

এক দশকেরও বেশি সময় পর—নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পর—জামায়াত এ হিসাব দিল নির্বাচন কমিশনে। কিন্তু এই আয়–ব্যয়ের বিশাল অঙ্কের পেছনে থাকা উৎস ও ব্যয়ের গন্তব্য নিয়ে উঠছে নানা প্রশ্ন, বিশেষ করে যখন দলের কোনো ব্যাংক হিসাব নেই।

প্রেক্ষাপট: রাজনৈতিক প্রত্যাবর্তনের পথে জামায়াত ২০১৩ সালে যুদ্ধাপরাধের দায়ে শীর্ষ নেতাদের মৃত্যুদণ্ড ও সাজা, পরবর্তী সময়ে নিবন্ধন বাতিল এবং নির্বাচন বর্জনের সিদ্ধান্ত—সব মিলিয়ে এক দশক রাজনৈতিক প্রান্তিকতায় ছিল জামায়াত। তবে গত বছর নিবন্ধন ফিরে পাওয়ার পর দলটি দ্রুত মাঠে সক্রিয় হয়েছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৪ সালের বিপুল আয় ও ব্যয় জামায়াতের “রাজনৈতিক পুনঃপ্রবেশ”–এর আর্থিক প্রমাণ। দলের প্রার্থী ঘোষণাসহ ব্যাপক প্রচারণা ও তৃণমূল সংগঠনের পুনর্গঠন এ ব্যয়ের বড় কারণ।

আয়–ব্যয়ের বিশ্লেষণ: কোথায় গেল টাকা জামায়াতের আয় এসেছে মূলত—

সদস্য ও কর্মীর চাঁদা: ১৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকা অনুদান: ১১ কোটি ৮৬ লাখ টাকা বই–পত্রিকা বিক্রি: ৯ লাখ টাকা

ব্যয়ের বড় অংশ—

প্রার্থীদের অনুদান: ১১ কোটি ৫ লাখ টাকা কর্মীদের বেতন–ভাতা: ৬ কোটি ৫৭ লাখ টাকা প্রচারণা ও পরিবহন: ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা যাতায়াত খরচ: ১ কোটি ২৭ লাখ টাকা

অর্থাৎ দলের ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত নির্বাচনী প্রচেষ্টা—প্রার্থী অনুদান, পরিবহন ও মাঠ পর্যায়ের কর্মসূচি।

আর্থিক স্বচ্ছতার প্রশ্ন অডিট রিপোর্টে স্বীকার করা হয়েছে, দলের নামে কোনো ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। এতে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে—

প্রায় ২৯ কোটি টাকা কোথায় জমা ছিল? ব্যয়ের জন্য অর্থ কীভাবে স্থানান্তর হয়েছে? নগদ লেনদেন হলে সেই প্রক্রিয়া কতটা স্বচ্ছ?

নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট ও তাতে জমা তহবিলের বিস্তারিত দিতে হয়। জামায়াত এই শর্ত মানেনি। ইসি সচিব আখতার আহমেদ স্বীকার করেছেন, “এটা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হবে।”

রাজনৈতিক কৌশল: ‘নিষ্ক্রিয়তা থেকে আগ্রাসী মাঠ দখল’ রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, জামায়াত এখন তিন ধাপে কৌশল নিচ্ছে—

তৃণমূল পুনর্গঠন: দীর্ঘ নিষ্ক্রিয়তায় দুর্বল হয়ে পড়া স্থানীয় কমিটিগুলোকে সক্রিয় করা।

নির্বাচনী উপস্থিতি: সরাসরি ভোটে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক বৈধতা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

আর্থিক শক্তি প্রদর্শন: বিপুল আয়–ব্যয় দেখিয়ে দলীয় সমর্থক ও সম্ভাব্য মিত্রদের কাছে প্রভাব বিস্তার করা।

এ কৌশল সফল হলে জামায়াত ভবিষ্যৎ জোট রাজনীতিতে ‘বড় খেলোয়াড়’ হয়ে উঠতে পারে।

বিএনপি বনাম জামায়াত: নতুন সমীকরণ আয়–ব্যয়ের পার্থক্য বিএনপি–জামায়াত সম্পর্কের গতিপথও প্রভাবিত করতে পারে। বিএনপির তুলনায় জামায়াতের আর্থিক সক্ষমতা ও মাঠ পর্যায়ের সাংগঠনিক শক্তি বেশি দৃশ্যমান হলে ভবিষ্যৎ জোটে জামায়াত বেশি দরকষাকষির সুযোগ পেতে পারে। তবে ব্যাংক অ্যাকাউন্টহীন বিপুল অর্থ প্রবাহ রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর নজরে আসার ঝুঁকিও বাড়াবে।

নির্বাচনী কৌশলের তুলনা

দল তহবিলের উৎস প্রচারণা স্টাইল ভোট ব্যাংক লক্ষ্য স্বচ্ছতার মাত্রা

জামায়াত অনুদান, প্রবাসী ফান্ড ধর্মভিত্তিক প্রচারণা, সামাজিক নেটওয়ার্ক ধর্মপ্রাণ ভোটার ইসলামী আন্দোলন স্থানীয় অনুদান, দাতা সংস্থা মসজিদ ও স্থানীয় ইভেন্ট ধর্মভিত্তিক ভোটার আওয়ামী লীগ ব্যবসায়ী, বড় করপোরেট গণমাধ্যম ও সোশ্যাল মিডিয়া–নির্ভর সর্বমুখী বেশি বিএনপি ব্যবসায়ী, প্রবাসী অনুদান জনসভা, রোডশো শহর ও গ্রাম মিলিয়ে মাঝারি

সম্পর্কিত বিষয়

  • জামায়াত
  • বিএনপি
  • আয়–ব্যয়

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন