যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত পিটার হাসের সঙ্গে সম্ভাব্য বৈঠকের গুঞ্জন এই আলোচনা আরও তীব্র করেছে।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১১টার দিকে বাংলাদেশ বিমানের একটি ফ্লাইটে ঢাকায় হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে কক্সবাজার পৌঁছান এনসিপির মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী, মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম, মুখ্য সংগঠক (দক্ষিণাঞ্চল) হাসনাত আবদুল্লাহ, জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব তাসনিম জারা এবং তাঁর স্বামী ও যুগ্ম আহ্বায়ক খালেদ সাইফুল্লাহ।
অবতরণের পর তাঁদের ইনানীর পাঁচতারকা হোটেল ‘সি পার্ল বিচ রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা’-তে নিয়ে যাওয়া হয়, যা শহর থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত।
গোপন এজেন্ডা নাকি পারিবারিক সফর? এনসিপি নেতারা দাবি করেছেন, এটি নিছকই ঘুরতে আসা। নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এখন টিভিকে বলেন, “আমরা কক্সবাজারে বিশ্রামে এসেছি। পিটার হাসের সঙ্গে বৈঠকের কথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত গুজব।”
তবে এই ব্যাখায় সন্দেহ দূর হয়নি। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীও আগে থেকে তাঁদের সফরের কোনো তথ্য জানত না বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক মহলে প্রশ্ন উঠেছে, এমন একটি ‘ঐতিহাসিক দিনে’—যেদিন ঢাকায় বড় পরিসরে “জুলাই অভ্যুত্থান” উদযাপন চলছে, তখন দলের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ নেতা হঠাৎ কক্সবাজারে কেন?
গুজবের কেন্দ্রবিন্দু: পিটার হাস সন্দেহ দানা বাঁধিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী কূটনীতিক ও বর্তমানে বহুজাতিক এলএনজি কোম্পানি এক্সিলারেট এনার্জির কৌশলগত উপদেষ্টা পিটার হাসকে ঘিরে। গুঞ্জন রয়েছে, সি পার্ল হোটেলে তাঁর সঙ্গে এনসিপির নেতাদের একটি অনানুষ্ঠানিক বৈঠক হতে পারে।
তবে হোটেলের নিরাপত্তাকর্মী অবসরপ্রাপ্ত মেজর কামরুজ্জামান বলেন, “পিটার হাস বা ওই ধরনের কেউ হোটেলে আসেননি।”
রাজনৈতিক বার্তা না কি সমাপতন? বিএনপি নেতারা বিষয়টি সন্দেহের চোখে দেখছেন। কক্সবাজার জেলা বিএনপির সভাপতি শাহজাহান চৌধুরী বলেন, “জুলাই অভ্যুত্থানের দিনে তাঁদের কক্সবাজার আগমন, তাও শহর থেকে অনেক দূরে পাঁচ তারকা হোটেলে, বিষয়টি সাধারণ আগ্রহের কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছে।”
ফেসবুকেও বিষয়টি নিয়ে নানা প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে। একজন লেখেন, “এমন দিনে তাঁরা ঢাকায় না থেকে সমুদ্রের ধারে?—গল্পে গন্ধ নেই, আগুনের ধোঁয়া আছে।”
প্রেক্ষাপট: জুলাই অভ্যুত্থান দিবস ঢাকায় দিনভর সরকারি উদ্যোগে “৩৬ জুলাই উদ্যাপন” উপলক্ষে জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় বিকাল ৫টায় অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ পাঠ করবেন—যা নতুন সংবিধান প্রণয়নের পথে একটি ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে বিবেচিত।
এই প্রেক্ষাপটে এনসিপির শীর্ষ নেতাদের রাজধানী থেকে দূরে অবস্থান রাজনৈতিকভাবে তাৎপর্যপূর্ণ বলেই মনে করছেন বিশ্লেষকরা। তাদের মতে এনসিপির পক্ষ থেকে এ সফরকে পুরোপুরি ‘ব্যক্তিগত’ বলা হলেও, সময় ও প্রেক্ষাপটের কারণে জনমনে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে। বিষয়টি ভবিষ্যতে আরও স্পষ্ট হবে।
