কলেজে ইউনিট কমিটি গঠনের কাজ চলছে পুরোদমে। আগে ১৬টি কলেজে ছাত্রদলের ইউনিট ছিল। প্রতিটি কলেজেই সদস্য সংগ্রহ, ফরম বিতরণ ও সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে নেতৃত্ব নির্বাচন প্রক্রিয়া চালানো হচ্ছে। সোমবার (১৪ জুলাই) থেকে নাসিমন ভবনের দলীয় কার্যালয়ে এসব কলেজ ইউনিটের পদপ্রত্যাশীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়েছে।
নগর ছাত্রদলের আহ্বায়ক মো. সাইফুল আলম বলেন, ছাত্রদলকে জনগণের প্রত্যাশার জায়গায় পৌঁছাতে হলে শক্ত সাংগঠনিক ভিত্তি প্রয়োজন। আমরা বিশ্বাস করি, প্রকৃত ছাত্র ও আদর্শবান নেতারাই সংগঠনের ভবিষ্যৎ। তাই যোগ্যদের নেতৃত্বে আনতেই এই কার্যক্রম। কলেজ ইউনিটগুলো গঠনের দায়িত্বে ৭টি টিম গঠন করা হয়েছে। এ টিমগুলো সরাসরি কলেজ ও থানা পর্যায়ে গিয়ে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময়, ফরম বিতরণ ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। ইতোমধ্যে অধিকাংশ কলেজে এ কার্যক্রম সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে।
সদস্যসচিব শরীফুল ইসলাম তুহিন বলেন, “আমরা নিয়মিত ছাত্রদের মাঝ থেকেই নেতৃত্ব গড়ে তুলছি। সাক্ষাৎকারের মাধ্যমে যাচাই-বাছাই করে সেই নেতৃত্বকে উপযুক্ত দায়িত্ব দেওয়া হবে। এটি ছাত্রদলের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের ভিত শক্ত করবে।”
ছাত্রদল নেতারা বলছেন, চট্টগ্রাম একসময় ছাত্রদলের অন্যতম ঘাঁটি ছিল। কলেজ সংসদ নির্বাচন, আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদল ছিল অগ্রভাগে। কিন্তু সময়ের ব্যবধানে কিছুটা ছন্দপতন হলেও এবার নতুন করে আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে ফিরছে সংগঠনটি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নির্দেশে সারাদেশের মতো চট্টগ্রামেও ছাত্র রাজনীতির রোডম্যাপ তৈরির কাজ চলছে। সেখানে শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা, র্যাগিং মুক্ত ক্যাম্পাস, ছাত্র অধিকার আদায়, একাডেমিক পরিবেশ এবং বাকস্বাধীনতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে।
চট্টগ্রাম মহানগর ছাত্রদলের বর্তমান কমিটি শুধু ইউনিট পুনর্গঠন নয়, বরং একটি আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরির মাধ্যমে তৃণমূলে সুদৃঢ় ভিত্তি গড়ার লক্ষ্যে কাজ করছে। যে ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে ভবিষ্যতের নেতৃত্ব গড়ে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংগঠনের বর্তমান নেতৃত্বের। এত দিন সংগঠনের কার্যক্রম কিছুটা থমকে থাকলেও এখন প্রতিটি কলেজ, থানা ও ওয়ার্ড পর্যায়ে ছাত্রদল নেতাকর্মীরা সক্রিয় হয়ে উঠেছেন।
