চট্টগ্রামের মিরসরাই উপজেলার জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের রূপনগর গ্রামে চলছে শোকের মাতম। গ্রামজুড়ে তিন বন্ধুর মৃত্যুর পর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তিন বন্ধু বাড়ির পাশে বাংলাদেশ স্টিল রি- রোল মিলস (বিএসআরএম) চাকুরী করেন। প্রতিদিনের মতো আজও তারা ডিউটি করেছেন। চাকুরী শেষে বাড়ির পাশে রেললাইনে বসে গেম খেলতে খেলতে আড্ডা দিচ্ছিলেন। এমন সময় ট্রেনে কাটা পড়ে ৩ বন্ধুর ঘটনাস্থলে মৃত্যু হয়েছে। তবে স্বজনদের কারো কারো দাবি ডিউটি শেষ করে বাড়িতে ফেরার সময় পিছন থেকে ট্রেন চাপা দিয়েছে। কেউ বলছেন তাদের মেরে ফেলা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ জুন) রাত ৮ টার সময় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেললাইনের মধ্যম সোনাপাহাড় রূপনগর এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ঘটনায় নিহতরা হলেন উপজেলার দিদারুল আলমের পুত্র আরাফাত হোসেন (২২), আবু তাহেরের পুত্র আনিসুর রহমান (২০), জিয়াউর রহমানের পুত্র রিয়াজ উদ্দিন (২১)। তারা সবাই উপজেলার ৩ নম্বর জোরারগঞ্জ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মধ্যম সোনাপাহাড় রূপনগর গ্রামের বাসিন্দা।
মিরসরাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তৃব্যরত চিকিৎসক এরশাদ উল্ল্যাহ বলেন, ‘স্থানীয়রা কয়েকজন ৩ যুবককে হাসপাতালে নিয়ে আসেন। আমরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে তাদের মৃত ঘোষণা করেছি। তবে তারা ট্রেনে কাটা পড়ে নিহত হয়েছেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারেননি। যারা ওই যুবকদের হাসপাতালে নিয়ে এসেছেন তারাও জানায়নি তাদের কি সমস্যা হয়েছিল। নিহতদের শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকলেও আমরা নিশ্চিত নই, রেলের আঘাতে মৃত্যু হয়েছে কিনা। হাসপাতালে প্রায় শতাধিক লোকজন এসেছিল। স্থানীয় লোকজন মরদেহ নিয়ে যায়। তারা ডেথ সার্টিফিকেটও নেয়নি। পরবর্তীতে হাসপাতালে পুলিশ এসেছিল।’
জোরারগঞ্জ থানার ওসি আব্দুল হালিম বলেন, ট্রেনে কাটা পড়ে তিন জন মারা যাওয়ার খবর শুনে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়। ঘটনাস্থলে তাদের না পেয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়েও তাদের লাশ পাওয়া যায়নি। পরে নিহতদের বাড়িতে গিয়ে লাশের সন্ধান পান। জিআরপি পুলিশ ও জোরারগঞ্জ থানা পুলিশ নিহতদের বাড়িতে অবস্থান করছে। বিস্তারিত পরে জানাতে পারবো।
স্থানিয়রা জানান, তিন বন্ধুর দুর্ঘটনার তাদের কারা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায় তাদের পরিচয় পাওয়া যায়নি। তবে হাসপাতালে গিয়ে স্বজনরা পরিচয় নিশ্চিত হয়ে ৩জনের লাশ বাড়িতে নিয়ে আসে। পরিবার জিআরপি পুলিশ পোস্ট মোর্টেম করবে এ ঝামেলা এড়াতে দ্রুত নিয়ে আসে। তাদের দাফনের জন্য প্রস্তুতি চলছে। মৃত্যু নিয়ে এলাকায় ধুম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে।
চট্টগ্রাম রেলওয়ে থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম শহীদুল ইসলাম বলেন, ‘নিহত তিন যুবক পেশায় গাড়ির হেলপার (সহকারী)। তাঁরা রেললাইনের ওপর আড্ডা দিচ্ছিলেন বলে স্থানীয়ভাবে জানা গেছে। ট্রেন আসার বিষয়টি তারা খেয়াল করেননি। তিনজনেই স্থানীয় যুবদলের রাজনীতির সাথে জড়িত। জোরারগঞ্জ যুবদলের আহবায়ক সিরাজুল ইসলাম এর অনুসারী। কিভাবে নিহত হয়েছে ৩ বন্ধু সেটি নিয়ে ধুম্রজাল সৃষ্টি হযেছে পুরো এলাকায় ।
