মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

চট্টগ্রামে এবছরেই আসছে পরিবহন মহাপরিকল্পনা

চট্টগ্রাম নগরীতে দীর্ঘদিনের যানজট, অপরিকল্পিত গণপরিবহন ব্যবস্থা এবং দ্রুত নগরায়ণের চাপে কার্যত স্থবির হয়ে পড়ছে নগরজীবন| দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরনির্ভর এই মহানগরের যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আধুনিক ও টেকসই রূপ দিতে এবার সমšি^ত পরিবহন মহাপরিকল্পনা (ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান) প্রণয়নের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার|

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চট্টগ্রামে এবছরেই আসছে পরিবহন মহাপরিকল্পনা

যাত্রী চাহিদা, ট্রাফিক প্রবাহ ও নগর সম্প্রসারণের বাস্তবতা বিশ্লেষণ করে নির্ধারণ করা হবে চট্টগ্রামের কোন করিডরে মেট্রোরেল, কোথায় লাইট রেল ট্রানজিট (এলআরটি) এবং কোথায় মনোরেল সবচেয়ে কার্যকর হবে|

এই মহাপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত রবিবার নগরীর কালুরঘাট, আমান বাজার, অক্সিজেন মোড়সহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক ও মোড় পরিদর্শন করেন ঢাকা পরিবহন সমš^য় কর্তৃপক্ষের (ডিটিসিএ) নির্বাহী পরিচালক মো. মশিউর রহমানের নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধিদল|

সরেজমিনে ট্রাফিক পরিস্থিতি, যানবাহনের চাপ এবং যাত্রী চলাচলের ধরণ পর্যবেক্ষণ করে তারা সম্ভাব্য গণপরিবহন নেটওয়ার্কের প্রাথমিক মূল্যায়ন করেন|

পরিদর্শন শেষে মশিউর রহমান সাংবাদিকদের বলেন, ‘ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান অ্যান্ড প্রিলিমিনারি ফিজিবিলিটি স্টাডি অব আরবান মেট্রো রেল ট্রানজিট কনস্ট্রাকশন অব চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এরিয়া’ প্রকল্পের আওতায় নগরীর পরিবহন ব্যবস্থার একটি দীর্ঘমেয়াদি রূপরেখা ˆতরি করা হচ্ছে| যাত্রী চাহিদা বিশ্লেষণের ভিত্তিতে কোথাও মেট্রোরেল, কোথাও এলআরটি এবং কোথাও মনোরেল চালুর সম্ভাবনা বিবেচনা করা হবে|

তিনি জানান, আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী উচ্চ যাত্রীচাপের করিডরে মেট্রোরেল, মাঝারি চাহিদার রুটে এলআরটি এবং তুলনামূলক কম চাহিদাসম্পন্ন এলাকায় মনোরেল উপযোগী বলে বিবেচিত হয়| চট্টগ্রামের বিভিন্ন রুটে যাত্রী চাহিদা ও পরিবহন প্রবাহের ধরন ভিন্ন হওয়ায় প্রতিটি করিডর পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা হচ্ছে|

ডিটিসিএর নির্বাহী পরিচালক বলেন, চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে প্রস্তাবিত কয়েকটি রুট যাচাইয়ের জন্যই মাঠপর্যায়ে এই পরিদর্শন করা হচ্ছে| প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে কয়েকটি রুটে মনোরেল বাস্তবায়নের সম্ভাবনা দেখা গেলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিতে আরও কারিগরি বিশ্লেষণ ও সম্ভাব্যতা যাচাই প্রয়োজন হবে|

বিশেষজ্ঞদের মতে, চট্টগ্রামে বিগত কয়েক দশকে বিভিন্ন অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও সমšি^ত পরিবহন পরিকল্পনার অভাবে যানজট সমস্যা ক্রমেই জটিল হয়েছে| বন্দরকেন্দ্রিক পণ্য পরিবহন, শিল্পাঞ্চলের সম্প্রসারণ, নতুন আবাসিক এলাকার বিকাশ এবং ব্যক্তিগত যানবাহনের সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে নগরীর প্রধান সড়কগুলোতে চাপ বেড়েই চলেছে| ফলে শুধু সড়ক সম্প্রসারণ নয়, আধুনিক গণপরিবহনভিত্তিক সমšি^ত ব্যবস্থা গড়ে তোলাই এখন সময়ের দাবি|

মহাপরিকল্পনার আওতায় বর্তমান ও ভবিষ্যৎ যাত্রী চাহিদা নিরূপণ, যানজটপ্রবণ করিডর চিহ্নিতকরণ, গণপরিবহননির্ভর নগর উন্নয়ন কৌশল প্রণয়ন, যাতায়াত ব্যয় ও সময় কমানোর সুপারিশ এবং বন্দর, শিল্পাঞ্চল ও আবাসিক এলাকার মধ্যে কার্যকর সংযোগব্যবস্থা ˆতরির বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে|

পরিদর্শনকালে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, যানজট ও পরিবহন ব্যয় বর্তমানে নগরবাসীর অন্যতম বড় দুর্ভোগ| ¯^ল্প সময়ে এবং কম খরচে মানুষের যাতায়াত নিশ্চিত করাই এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য| আধুনিক গণপরিবহন ব্যবস্থা চালু হলে নগরীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও গতিশীল হবে এবং জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে|

ডিটিসিএ সূত্র জানিয়েছে, বর্তমানে তথ্য সংগ্রহ, ট্রাফিক বিশ্লেষণ, যাত্রী চাহিদা নিরূপণ এবং সম্ভাব্য রুট মূল্যায়নের কাজ চলছে| প্রকল্পের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী ২০২৬ সালের ডিসে¤^রের মধ্যে চট্টগ্রাম মহানগরের পরিবহন মহাপরিকল্পনা এবং এ-সংক্রান্ত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে|

চট্টগ্রামে মেট্রোরেল, এলআরটি বা মনোরেলের কোন মডেল বাস্তবায়িত হবে, সম্ভাব্য রুট কী হবে এবং এর অর্থনৈতিক ও কারিগরি বাস্তবতা কতটা—এসব প্রশ্নের উত্তর মিলবে চলমান সমীক্ষা শেষে| তবে সংশ্লিষ্টদের মতে, দ্রুত বর্ধনশীল চট্টগ্রামের জন্য সমšি^ত গণপরিবহন ব্যবস্থা এখন আর বিলাসিতা নয়; বরং টেকসই নগর ব্যবস্থাপনা ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্ত|

সম্পর্কিত বিষয়

  • ট্রান্সপোর্ট মাস্টারপ্ল্যান
  • চট্টগ্রাম

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন