মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ শিডিউল স্থগিত করা হোক

চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্তরের ব্যবসায়ীসহ বন্দর সংশ্লিষ্টরা দাবি করেছেন, দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দরে ঘোষিত বর্ধিত ট্যারিফ শিডিউল কার্যকর স্থগিত করা হোক।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
বন্দরের বর্ধিত ট্যারিফ শিডিউল স্থগিত করা হোক

বন্দর দীর্ঘদিন ধরে আয়ের উৎস—আড়াই হাজার কোটি টাকা লাভ সম্পর্কিত তথ্য তুলে ধরে বক্তারা সতর্ক করে বলেন, অপ্রতুল পরামর্শ ও স্বচ্ছতা ছাড়া বন্দরের ওপর নীতিগত পরিবর্তন দেশের রপ্তানি-অর্থনীতিকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে। তাই বন্দরের সিদ্ধান্ত গ্রহণে ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে হবে।

রবিবার (১২ অক্টোবর) রেডিসন ব্লু চট্টগ্রাম বে ভিউতে আয়োজিত চট্টগ্রাম বন্দরে অস্বাভাবিক ট্যারিফ বৃদ্ধির প্রতিবাদে ব্যবসায়ীদের সমন্বয় সভায় এই দাবি জানান বক্তারা।

সভাপতির বক্তব্যে আমির হুমায়ুন মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বন্দরের নতুন ট্যারিফ সাধারণ মানুষের ওপর জোর করে প্রযোজ্য করা ঠিক নয়। স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা উচিত নয়। তিনি বন্দরের ৪১ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধির কড়া বিরোধিতা করেন এবং বলেন, এটা অনুমেয় নয় যে অন্তর্বর্তী সরকার বন্দরের ট্যারিফ বাড়াতে এভাবে এগোবে—জনগণের পেটের ওপর বোঝা বাড়িয়ে দেওয়া হবে।

চট্টগ্রাম চেম্বারের সাবেক পরিচালক মোহাম্মদ আমিরুল হক বলেছেন, বন্দরের মাশুল ব্যবসায়ীরা নেওয়া বন্ধ করবে; জনগণকে এসব অতিরিক্ত খরচ বহন করা উচিত হবে না। তিনি দাবি করেন বন্দরের ট্যারিফ কস্ট-বেইজড হতে হবে এবং স্বাধীন পরিচালক ভর্তি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানির ন্যায্য নিয়ন্ত্রণ বন্দরেও থাকা উচিত।

বিজিএমইএর প্রথম সহ-সভাপতি সেলিম রহমান বলেন, রেডি-মেড গার্মেন্টস (আরএমজি) ব্যবসায়ীরা বন্দরের ওপর নির্ভর করে আমদানি-রপ্তানি দুটোই করে; মেধা ও খরচে আমাদের প্রতিযোগিতা লঙ্ঘিত হবে। ২৯ বছরের ব্যবসায়িক অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বন্দরের লস দেখে ৪১ শতাংশ ট্যারিফ বৃদ্ধির ব্যাখ্যা দেওয়া কঠিন।

বিভিন্ন ব্যবসায়িক সংগঠনের নেতৃত্বে মেট্রোপলিটন চেম্বারের এ এম মাহবুব চৌধুরী, বিজিপিএমইএ ও বেপজিয়ার নেতৃবৃন্দ—ও একইসঙ্গে ট্যারিফ বৃদ্ধির বিরোধিতা করেন। তারা বলেন, অতিরিক্ত ট্যারিফ রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রতিযোগী শক্তিকে কমিয়ে দেবে; ক্রেতারা ভিয়েতনাম ও ভারতের মতো দেশে চলে যেতে পারে এবং এতে রপ্তানি খাত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

শিপিং এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশন ও সিঅ্যান্ডএফ প্রতিনিধিরাও বলেন, দেশের প্রধান বন্দর নদীনির্ভর হওয়ায় অতিরিক্ত মাশুল বাড়ানো ব্যবসায়িক পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। শিপিং এজেন্টরা জানিয়েছে সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়ানো গ্রহণযোগ্য হতে পারে; ৪১ শতাংশ কার্যকরের ফলে কনটেইনার প্রতি বিপুল অপ্রত্যাশিত বাড়তি চার্জ পড়বে।

সমাবেশে ব্যবসায়ীরা সরকারের প্রতি আবেদন জানান—বর্ধিত ট্যারিফ শিডিউল স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পরামর্শ না করে কার্যকর করা হলে তা স্থগিত রাখা হোক এবং সমস্যা সমাধানের জন্য দ্রুত সমন্বিত প্রক্রিয়া চালু করা হোক। সভার বক্তারা বলেন, বন্দর বাঁচলে দেশ বাঁচবে—এমন পরিবেশ বজায় রাখতে নীতিনির্ধারকদের কাছে যুক্তিসংগত ও স্বচ্ছ সিদ্ধান্ত গ্রহণের আহ্বান জানান তারা।

এসএম আবু তৈয়ব বলেন, যুদ্ধসহ নানা টানাপোড়েনে অর্থনীতিতে ধকল যাচ্ছে। দেশে সেবাখাত ট্যারিফ বাড়িয়ে ব্যবসা দুর্বিসহ করছে। প্রতিবাদ হিসেবে আশাদের এ আয়োজন। নতুন ট্যারিফ কার্যকরের পর এ অঞ্চলের সবচেয়ে কস্টলি বন্দর হবে চট্টগ্রাম। বন্দরে আমদানি বন্ধ হলে রপ্তানিও বন্ধ হয়ে যাবে। তখন বন্দর কমিউনিটি সেন্টার হিসেবে ভাড়া দিতে হবে। ট্যারিফ বাড়িয়ে বন্দরকে মেরে ফেলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • বন্দর
  • ট্যারিফ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন