মূল সংবাদে যান
অর্থ বাণিজ্য

চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন অর্ডারে প্রাণচাঞ্চল্য

চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক শিল্পে (আরএমজি) নতুন করে বৈদেশিক অর্ডার আসতে শুরু করেছে। বৈশ্বিক বাজারে মন্দা কাটিয়ে ওঠার পর ইউরোপ, আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের ক্রেতারা আবারও বাংলাদেশি পোশাকের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন।

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল
চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক শিল্পে নতুন অর্ডারে প্রাণচাঞ্চল্য

এর ফলে দীর্ঘদিন অচলাবস্থার মধ্যে থাকা চট্টগ্রামের অনেক কারখানায় নতুন করে উৎপাদন কার্যক্রম শুরু হয়েছে। নতুন অর্ডারের কারণে শ্রমবাজারে আবারও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হয়েছে। কয়েক হাজার শ্রমিক যারা বেকার হয়ে পড়েছিলেন, তারা পুনরায় কাজে ফিরতে শুরু করেছে। এতে শ্রমিকদের পরিবারে স্বস্তি ফিরলেও মালিকপক্ষের মুখে ফুটে উঠেছে স্বস্তির হাসি।

চট্টগ্রামভিত্তিক পোশাক কারখানাগুলোতে নতুন রপ্তানি অর্ডার বাড়ছে—ফলে শ্রমবাজারে কর্মসংস্থান ও স্থানীয় অর্থনীতিতে গতি ফিরছে। তবে এই পুনরুদ্ধারের টেকসইতা নির্ভর করছে বন্দর জট, শক্তি-সরবরাহ, মজুরি-ব্যয় ও ক্রেতা-আচরণ সামলানোর সক্ষমতার ওপর। সাম্প্রতিক ডেটায় দেখা যায়, ঋণ’২৫-এ আরএমজি রপ্তানি প্রবৃদ্ধি ইতিবাচক; একই সঙ্গে চট্টগ্রাম বন্দরের জট ও মজুরি সমন্বয় ব্যবসায়িক হিসাব পাল্টে দিচ্ছে।

কারখানার মালিকরা বলছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ও শ্রমিকদের দক্ষতার কারণেই ক্রেতারা আবারও আস্থা ফিরিয়েছে। তবে তারা মনে করছেন, অর্ডার ধরে রাখতে হলে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ, কাঁচামালের মূল্য নিয়ন্ত্রণ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন জরুরি।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হওয়ায় তারা স্বস্তি পেলেও টেকসই উৎপাদন নিশ্চিত করতে শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি, নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং সময়মতো বেতন প্রদানের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন জরুরি। তবে শ্রমিক নেতারা একে ‘আশার আলো’ হিসেবে দেখছেন।

বিজিএমইএ'র সদস্য ও ক্লিফটন গ্রুপের পরিচালক এমডিএম মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ' কয়দিন আগেও পোশাক কারখানাগুলোয় কাজের আদেশ কম ছিলো। ঠিকমতো পণ্য না পাঠানোর কারণে অনেক কারখানার মালিক আর্থিক সমস্যায় পড়ছিলেন। এমনকি এসব কারণে শ্রমিকদের বেতনভাতা দিতে সমস্যা হচ্ছিল। অনেক কারখানার মালিক সংকটের কারণে প্রতিষ্ঠান চালাতে হিমশিম খেতে হয়েছে। এখন আশা করি সকল সমস্যা ক্রমান্বয়ে সমাধান হয়ে যাবে।'

অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন, চট্টগ্রাম দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম রপ্তানি কেন্দ্র হিসেবে দীর্ঘদিন ধরে বৈশ্বিক পোশাক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। নতুন অর্ডারের কারণে শুধু শ্রমবাজারই নয়, পুরো স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চারিত হচ্ছে। চট্টগ্রামের তৈরি পোশাক শিল্পে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে আসা দেশের সামগ্রিক অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সঙ্কেত। রপ্তানি আয়ে নতুন গতি আসবে এবং বৈদেশিক মুদ্রার চাপ কিছুটা কমবে।

চট্টগ্রামে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা পোশাক কারখানায় আবারও উৎপাদন শুরু হয়েছে। শ্রমিক-অধিকার সংকট, কাঁচামালের ঘাটতি এবং রপ্তানি আদেশ হ্রাসের কারণে প্রায় এক বছর আগে অনেক কারখানা বন্ধ হয়ে যায়। ফলে শত শত শ্রমিক বেকারত্বের শিকার হয়েছিলেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে নতুন রপ্তানি চাহিদা ও মালিকপক্ষের উদ্যোগে আবারও অনেক কারখানার উৎপাদন কার্যক্রম চালু হয়েছে। এতে পুরোনো শ্রমিকদের পাশাপাশি নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হচ্ছে। কারখানার কর্তৃপক্ষ বর্তমানে সীমিত পরিসরে উৎপাদন শুরু হলেও ধীরে ধীরে পূর্ণ সক্ষমতায় পৌঁছানোর পরিকল্পনা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের বাজারে অর্ডার অনুযায়ী পোশাক সরবরাহ করা হবে।

বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিজিএমইএ) স্থানীয় প্রতিনিধিরা মনে করছেন, বৈশ্বিক অর্ডার পুনরুদ্ধার এবং অভ্যন্তরীণ সংকট মোকাবিলায় এটি ইতিবাচক বার্তা। তবে দীর্ঘমেয়াদে এই শিল্প টিকিয়ে রাখতে প্রযুক্তি বিনিয়োগ ও শ্রমিক-নিরাপত্তা উন্নয়ন অপরিহার্য। চট্টগ্রামে পোশাক শিল্প দেশের রপ্তানি আয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। নতুন করে এই কারখানায় উৎপাদন শুরু হওয়ায় স্থানীয় অর্থনীতি ও শ্রমবাজারে প্রাণচাঞ্চল্য ফিরবে বলে আশা করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, চলতি বছরের প্রথমার্ধ চট্টগ্রামে বন্ধ হয়েছে ছোট-বড় অন্তত ৫২ পোশাক কারখানা। একই সময়ে কাজের আদেশ কমেছে প্রায় ২৫ শতাংশ। এতে করে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন বেশ কয়েক হাজার শ্রমিক। চট্টগ্রামে নিবন্ধিত পোশাক কারখানা ৬১১টি। চালু আছে ৩৫০টি। দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ২৬১ কারখানা। চালু থাকা ৩৫০ কারখানার মধ্যে ১৮০টি বিদেশি ক্রয়াদেশ নিয়ে কাজ করছে। বাকিগুলো সাব-কন্ট্রাক্ট নিয়ে কাজ করছে। এর মধ্যে অনেকগুলো বন্ধ আছে বা কার্যক্রম সীমিত করে ফেলেছে।

সম্পর্কিত বিষয়

  • আরএমজি
  • শ্রমবাজার
  • অর্থনীতি
  • রপ্তানি
  • বিজিএমইএ

আমাদের বাংলা সম্পাদকীয় দল

আমাদের বাংলা-এ প্রকাশিত সংবাদ।

এই সংবাদটি শেয়ার করুন